পরিবার! হাজারো আদর যত্ন, ভালোবাসা এবং ভরসার আরেক নাম। পৃথিবীতে শুরুটা যেমন একটি পরিবারেই হয়ে থাকে, তেমনি শেষটাও সেখানে। আশা যাওয়ার মাঝখানে সময়টুকু যাদের দ্বারা রঙিন হয় তার নাম পরিবার। পরিবারের মানুষগুলোর চাইতে আপন হয়তো পৃথিবীতে আর দ্বিতীয় কেউ নেই। পুরো পৃথিবীর মানুষগুলো আপনাকে ফিরিয়ে দিলেও ফিরিয়ে দেয়না পরিবার। দিনশেষে পরিবারই একমাত্র অবলম্বন।
বাবা-মা, ভাই-বোন, দাদা-দাদি, চাচা-চাচি নামক শব্দগুলো নিয়েই একটি পূর্ণাঙ্গ পরিবার। এই মানুষগুলো কোন একজনকে ছাড়া পরিবারের বিশেষত্বটাই হয়তো অপূর্ন। অল্প কয়েকদিনের পৃথিবীর এই সময়টুকুতে যারা একটি পূর্ণাঙ্গ পরিবারের ভালোবাসা পেয়েছে তারাই হয়তো সার্থক। কিন্তু সবাই তো আর একটি পূর্ণাঙ্গ পরিবারের ভালোবাসা পাওয়ার সুযোগ পায়না৷
কারো মনে বাবার ভালোবাসার অভাব, কারোবা আবার মায়ের যত্নের। তবে আমার মতো অনেকেই আছে যে কখনো দাদা - চাচার ভালোবাসা পায়নি। বাবার মুখে শুনেছি তিনি খুব ছোট থাকতেই পৃথিবী ছেড়ে পরলোকে গমন করে দাদাজান। তাই তিনি কখনো বাবার ভালোবাসা পায়নি, আর এইদিকে আমি দাদার।
তবে আমি যে শুধু দাদার ভালোবাসা পায়নি এমনটা কিন্তু নয় ; কখনও চাচা, মামা, ফুফু কারোই ভালোবাসা পেয়ে উঠা হয়নি। মাথার উপর বাবা ছাড়াই আর দ্বিতীয় কেউ নেই বললেই হয়তো ভালো মানায় আমার বেলায়। ছোটবেলায় দেখতাম বন্ধুদেরকে তার মামা/চাচা বিদেশ থেকে চকলেট খেলনাসহ আরো কতো কি পাঠিয়েছে। তখন আমি মাকে জিজ্ঞাসা করতাম ; আমার মামা কোথায় মা। কবে আসবে সে আমার জন্য চকলেট আর খেলনা নিয়ে?
তবে বেশিরভাগ সময়ই বাবা/মা আমাকে কোন কিছুর অভাবে বুঝতে দেয়নি। নিজেদের সামর্থের ঊর্ধ্বে আমার ইচ্ছাগুলোকে পূরন করতে সর্বোচ্চটুকু দিয়েছে তারা। পারিবারিকভাবে আমরা যে বেশ সচ্চল সেটা বলবো না। তবে ছেলের ইচ্ছা পূরনে দিয়েছে শতভাগ। চাওয়া মাত্রই না এনে দিতে পারলেও দেখা যেতো কয়েকদিনের মধ্যেই তা হাজির। পরিবারের প্রথম সন্তান ছিলাম আমি, তাই আদর সোহাগের কোন কমতি হয়নি কখনো।
তবে কখনও দাদাভাইয়ের আদর না পেলেও, নানাভাইয়ের ভালোবাসা আর আদর যত্ন পেয়েছি ভিষন। নানার বাড়ি আমার নিজের বাড়ি থেকে কয়েক মিনিটের পথ। তাই একটু থেকে একটু হলেই আমি রাগ করে দৌড়ে চলে যেতাম নানাভাইয়ের কাছে। নানা আমার রাগ ভাঙ্গাতে দোকানে নিয়ে মজা কিনে দিতো। সারাক্ষন শুধু তার সাথে ঘুরঘুর করতাম। আর যখনই আম্মু আমাকে কোন কারনে শাসন করতো নানাভাই আম্মুকে উলটো কথা শোনাতো।
নানাভাই খুব করে চাইতো তার নাতি একটা সময় প্রতিষ্ঠিত হবে। আজ হয়তো প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে আমি, কিন্তু নানাভাই আজ আর নেই। নবম শ্রেণীতে থাকাকালে প্রিয় নানাভাইকে হারিয়েছি। এখন আর আগের মতো নানার বাড়িয়ে যাওয়া হয়ে উঠেনা। মাঝে মাঝে তার স্মৃতিগুলো ভীষণ বেদনা দেয়, তবে একদিন যে সবাইকেই ফিরতে হবে।
পৃথিবীর নিষ্ঠুর নিয়মে সময়ের ব্যবধানে হারাতে শুরু করে পরিবারের মানুষগুলো। পরিবার হারানোর বেদনা হয়তো সেই বুঝে ; যে তার পরিবারকে হারিয়েছে।