একটি জীবনের সমাপ্তি !

Words
425
Reading
2 min
5y

image.png

ছেলেটার নাম ইমন, বয়সটা ১৬ কি ১৭ বছর হবে। দেখতে ফর্সা সুন্দর ও অত্যন্ত ভদ্র প্রকৃতির একজন ছেলে। পরিবারের তিন বোনের মাঝে সে একমাত্র ছেলে সন্তান, তাই স্বভাবতই বাবা-মায়ের খুব আদরের। ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত তার কোন চাওয়া বাব-মা পূরন করেনি এরোকমটা কখনও হয়নি। তাকে ঘিরেই তার পরিবারের আশা ভরসা। ছোটবেলা থেকেই তার বাবার ইচ্ছা ছেলের বড়ো হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হবে, পরিবারের হাল ধরবে। ইমনও পড়ালেখায় খুব মনযোগী ছাত্র। কিছুদিন হলো এস.এস.সি পরীক্ষা শেষ হয়েছে তার। তাই অবসর সময়গুলো কাটতে আত্মীয়ের বাসায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এভাবে ভালোই চলছিলো দিনগুলো তার।

কিছুদিন আত্মীয়ের বাসায় ঘুরে আজ সে বাড়িতে ফিরে এসেছে। বাড়িতে তেমন কোন কাজ না থাকায় বন্ধুদের সাথে পাশের গ্রামে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। পাশের গ্রামে আজকে একটি ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে, তাই তাদের পরিকল্পনা কিছু সময় সেখানে অতিবাহিত করার।

সন্ধ্যায় পরিপাটি মাকে বিদায় জানিয়ে বন্ধুদের সাথে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পর সে। মাহফিলে কিছুক্ষন অতিবাহিত করে বাইরে বের হতেই কিছু ছেলে তাদের পরিচয় জানতে চায়। ইমন ও তার বন্ধুরা কোনকিছু না ভেবেই তাদের পরিচয় জানিয়ে দেয়। স্বভাবতই কেউ যখন পরিচয় জানতে চায়, তখন পরিচয় বলাটাই স্বাভাবিক ব্যাপার।

কিন্তু এই পরিচয় বলাটাই কাল হয় দাঁড়ায় ইমন ও তার বন্ধুদের জন্য। তাদের জোরপূর্বক একটা ফাকা জায়গায় ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। তারাও কোনকিছু না ভেবেই তাদের সাথে চলে যায়। কিন্তু তারপর যা ঘটে তা ছিলো সম্পূর্ণ কল্পনার বাইরে। তাদেরকে এলোপাথাড়ি ভাবে লাঠি পিটা ও ছুরিকাহত করা হয়। কিছু বুঝে উঠার আগেই তারা সম্পূর্ণ ক্ষতবিক্ষত। কিছুক্ষন পর তাদের উদ্ধার করে উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যাওয়া হয়। ইমনের যখম অনেক বেশি হওয়ার তার প্রচুর রক্তপাত হচ্ছিলো। রক্ত বন্ধ করতে না পারায় তৎক্ষনাৎ তাকে ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু পথিমধ্যে আরো বেশি রক্ত শরির থেকে বের হয়ে যাওয়ায় এবং ডাক্তারদের গাফিলতির ফলে একটি জীবনের আলো নিভে যায়। মৃত্যুর কাছে হার মানে ইমন ..!!

কিছুক্ষন আগেও যে ছেলেটা কথা বলছিলো, সে এখন একদম নিশ্চুপ হয়ে গেছে। নিভে গেছে একটা জীবনের আলো, শেষ হয়ে গেছে একটা পরিবারের ভরসা। বাবা-মা আর আত্মীয়-স্বজনের হাহাকারে ভারি হয় উঠে ঢাকা মেডিকেলের আকাশটা।

পরে জানা যায়, কিশোর গ্যাজ্ঞের দুইপক্ষের দ্বন্ধের শিকার হয় ইমন। তার অপরাধ ছিলো কেনো সে পিপিয়াকান্দি গ্রামের। শুধুমাত্র এই কারনে তাকে পিটিয়ে - ছুরিকাহত করে হত্যা করা হয়।

এই ঘটনায় পুরো গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। কোন কারন ছাড়াই এরোকম একটা ছেলের মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারেনি। সন্তানের এই অকাল মৃতুতে তার পরিবারের সবাই এখন পাগল-পাগল অবস্থা। আর কোনদিনও কি তারা তাদের সন্তান ফিরে পাবে? কি দিয়ে তার পূরন করবে একমাত্র ছেলের অভাব?

দিনদিন আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার অবনতি হচ্ছে। এখন মানুষের জীবনের কোন নিরাপত্তা নেই। এভাবে চলতে থাকলে সামনে অনেক ভয়াবহ সময় আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।

[ নোট : ইমন নামের ছেলেটি সম্পর্কে আমার আত্মীয় ]

একটি জীবনের সমাপ্তি ! | Ecency