অনুভূতি ।

Words
492
Reading
3 min
Listen
Play
5y

গল্পটির শুরু হয় ২০১৬ সালে। আমি তখন সবেমাত্র মাধ্যমিক পাশ করে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হয়েছি। আমি অনেক লাজুক প্রকৃতির একটি ছেলে। স্কুল জিবনের বেশিরভাগ সময়টাই আমার কেটেছে চার-দেয়ালের মাঝখানেে। বাহ্যিক পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে শিখিনি তখনও। ঠিকমতো গুছিয়ে কথাও বলতে পারতাম না তখন। স্কুল জিবনে কখনও কোন মেয়ে বন্ধু হয়ে উঠেনি আমার। বলতে গেলে সব সময় মেয়েদের থেকে একটু দূরেই থাকতাম আমি।

উচ্চ মাধ্যমিকে আমি আমার বাসা থেকে অনেকটা রাস্তা দূরে একটি কলেজে ভর্তি হয়েছি। তাই থাকার সুবিধার্তে আমি কলেজ হোস্টেলে উঠেছি। কাল আমার কলেজ জীবনের প্রথম ক্লাস। তাই আমি সবার মাঝে নিজেকে ভালোভাবে উপস্থাপন করার প্রস্তুতি শুরু করে দেই। ইতিমধ্যেই হোস্টেলে আমার কয়েকজন বন্ধু হয়ে গেছে। পরদিন খুব সকালেই সবাই মিলে কলেজ ক্যাম্পাসে চলে আসি একদম ফিটফাট হয়ে।

ক্যাম্পাসে কিছুক্ষন আড্ডা দিয়ে ওরিয়েন্টেশন রুমে চলে আসি সবাই। সামনে বসার জায়গা না পেয়ে পিছনে গিয়ে বসি আমরা। বন্ধুরা মিলে আবারো আড্ডা শুরু হয়ে যায় আমাদের । হঠাৎ করেই একটি মেয়ের চোখে চোখ পড়ে যায় আমার! নিজের ভেতর অন্যরকম অনুভূতি অনুভব করি আমি, যা আগে কখনো অনুভূত হয়নি। চারপাশে কোন কিছুর খেয়াল ছিলোনা আমার। মেয়েটি চোখ সরিয়ে নিলেও আমি পারলাম না। অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম তার দিকে। কিছুক্ষন পর বন্ধুর ডাকে আমি স্বাভাবিক হই। কিন্তু বন্ধুদের আড্ডায় মনোযোগ না দিয়ে আমি কিছুক্ষন পর-পর তার দিকে তাকাচ্ছিলাম । কেনো যেনো একটা আকর্ষন কাজ করছিলো তার প্রতি আমার।

image.png
source

নবীন- বরন অনুষ্ঠান শেষে আমি পূনরায় হোস্টেলে চলে আসি। কিছুক্ষন পর হঠাৎ করেই আমার বন্ধু জিসান এসে হাজির আমার রোমে। আমাকে দেখে সে মুচকি মুচকি হাসতেছিলো। আমি কারন বুঝতে না পেরে প্রশ্ন করতেই বন্ধু আমাকে মেয়েটির কথা বললো। আমি তো একদম লজ্জায় লাল হয়ে জাই। স্বভাবতো জীবনে কখনো কাউকে এভাবে দেখা হয়নি। বন্ধুর সাথে শেয়ার করার একদিনের মধ্যেই বন্ধু মেয়েটির সম্পূর্ণ তথ্য নিয়ে হাজির আমার সামনে। মেয়েটির নাম ছিলো স্বর্না। সবচাইতে কাকতালীয় বিষয় ছিলো আমার পরের রোল নাম্বারটি ছিলো তার। আমার ছিলো ১৩৭ আর মেয়েটির ১৩৮।

তারপর থেকে প্রত্যেক ক্লাসে আমি তাকে লুকিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতাম। খুব ভালো লাগতো তাকে দেখতে। সারাদিন তাকে আমি কলেজ ক্যাম্পসে খুজে বেড়াতাম। তাকে দেখলেই আমার মন ভালো হয়ে যেতো। তার হাসির মধ্যে যাদু ছিলো যা আমাকে খুব আকৃস্ট করতো। তাকে দেখা মাত্রই হৃদয়ে কম্পন সৃষ্টি হয়ে যেতো। যত দিন যেতে লাগলো তার প্রতি আমার অনুভূতিগুলো বারতেই থাকলো।

তার সাথে কথা বলতে আমার খুব ইচ্ছে করতো। আমার ইচ্ছা পূরন করতে আমার বন্ধুরা উঠেপরে লাগলো। একদিন ক্লাস শেষে বুকে একটু সাহস নিয়ে এগিয়ে গেলাম কথা বলার জন্য। কিন্তু তার সামনে যাওয়ার সাথে সাথেই মনে হলো আমার শরীরের উপর আমি কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলেছি। হাত -পা কাপতেছিলো আর মুখ দিয়ে কোন কথাই যেনো বের হচ্ছিলো না। প্রচন্ড নার্ভাস হয়ে পরি আমি৷ আমাকে দেখে মেয়েটি হাসছিলো। সেদিন আর বেশি কিছু বলতে পারিনি আমি। তারপর থেকে সবসময় সুযোগ খুজে বেরাতাম তার সাথে কথা বলার জন্য। মেয়েটিকে একদিন না দেখলেই বুকের বা পাশে ব্যাথা অনুভব করতাম আমি। অনুভূতি গুলো না পারতাম কাউকে বলতে, না পারতাম কাউকে বুঝাতে।

জীবনের ওই সময়টুকু কখনো ভুলার মতো নয় । সেই অনুভূতিগুলো এখনো রয়ে গেছে আমার মধ্যে। কলেজ জীবনের সময়টা আমার জীবনের সবচাইতে শেরা সময়। যাকে আমি আজও অনেক মিস করি।

image.png
source

অনুভূতি । | Ecency