“ভ্রমন মানুষকে বিনয়ী করে তুলে,
ভ্রমনের মাধ্যমে মানুষ জানতে পারে পৃথিবীর তুলনায় সে কত ক্ষুদ্র! ”
জীবনটা খুবই সংক্ষিপ্ত, আর এই সংক্ষিপ্ত জীবনটাকে উপভোগ করাই আমার লক্ষ্য। ছোটবেলা থেকেই ঘুরাঘুরি করতে আর নতুন কিছু দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। কিন্তু ছোটবেলার অনেক সীমাবদ্ধতার জন্য তেমন কোন জায়গায় ঘুরাফেরা হয়ে উঠেনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর সেই সুযোগটা অনেকাংশে বেড়ে গেছে। এখন চাইলেই আমি বন্ধুদের নিয়ে বেড়িয়ে পরতে পারি নতুন কোন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।
আজকে আমাদের ঘুরার জায়গা ছিলো সিরাজগঞ্জে অবস্থিত আল-আমান বহেলা খাতুন জামে মসজিদ।
আজকে আমার ভ্রমন পার্টনার ছিলো আমার বন্ধু ইমাম, তাজিউল, বিকাশ এবং সৌরভ। আমরা সকাল দশটার দিকে বন্ধু তাজিউলের বাইকে করে বেড়িয়ে পরি কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে। প্রায় ৩ ঘন্টা পর আমরা পৌছে যাই আমাদের গন্তব্যে।
মসজিদটি দেখতে অনেক সুন্দর ছিলো, দামি দামি পাথর আর কারুকার্য দিয়ে পরিপূর্ণ ছিলো পুরো মসজিদটি। এই সুন্দোর্য যে কোন মানুষকেই আকৃষ্ট করবে। উপরের দিকে মিনারগুলো মসজিদটির প্রধান আকর্ষন।
স্থানীয়দের দ্বারা জানতে পারি, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে মুকুন্দগাতী গ্রামের শিল্পপতি মোহাম্মদ আলী সরকার বেলকুচি পৌরভবনসংলগ্ন দক্ষিণে আড়াই বিঘা জমির ওপর তার ছেলে আল-আমান ও মা বাহেলা খাতুনের নামে ‘আল-আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদ’ কমপ্লেক্স নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
তিনি তার নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করে নয়নাভিরাম এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। এটি নির্মাণে সময় লেগেছে প্রায় চার বছর। শুরু থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৪ শ্রমিক কাজ করেছেন। আগস্টে তিনি মৃত্যুবরন করলে পরিবারের চেষ্টায় মসজিদের নির্মাণকাজ এখনো চলছে। আর কিছুদিন পরেই মসজিদটির কাজ সম্পূর্ণভাবে শেষ হবে।
মসজিদটি দেখতে আমার মতো অনেক মানুষ ভির জমিয়েছে বেলকুচিতে। মসজিদটির পবিত্রতা রক্ষার্থে পুরুষ ও মদিলাদের জন্য আলাদা আলাদাভাবে ব্যবস্থা করা আছে। ভেতরে প্রবেশ করতে হলে প্রথমে কতৃপক্ষ থেকে অনুমতি নিতে হবে৷
মসজিদটিকে ঘিরে পাশেই গরে উঠেছে একটি বাজার । কেউ চাইলেই ওই দোকানগুলো থেকে ধর্মিয় জিনিসপত্রসহ আরো অনেক মালামাল ক্রয় করতে পারে। আমরা সব বন্ধুরা মিলে কিশোরগঞ্জের বিখ্যাত মিষ্টি খেতে ব্যস্ত হয়ে পরি।
অনেকক্ষন মসজিদ এবং তার আশেপাশে ঘুরাঘুরির পর আমরা বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেই। ভালোই ছিলো আমাদের আজকের ভ্রমনটা, সত্যিই আমি মসজিদটা দেখে অনেক মুগ্ধ হয়েছি।
এটি হলো মসজিদের ওযুস্থান। যেখানে ব্যবস্থা করা হয়েছে পানি রিসাইকেল সিস্টেমের।এর দ্বারা ওযুতে ব্যবহৃত পানি পুনরায় পরিষ্কার করে আবার ব্যবহার করা যায়।
মসজিদের ভিতরের সোন্দর্য।