দীর্ঘদিন একের পর এক ক্লাস করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি৷ অবসাদ ঘিরে ধরছে চারপাশ থেকে। তাই হঠাৎ করে তিনদিন বন্ধের কথা শুনে আমিতো মহাখুশি। কেননা দুইমাসের সেমিষ্টার হওয়ার ফলে এখন আর তেমন ফ্রি সময় পাওয়া যায়না। সারাদিন ওই বাসা থেকে ক্যাম্পাস আর ক্যম্পাস থেকে বাসা পর্যন্তই আমার আনাগোনা।
তিনদিনের মধ্যে প্রথম দিন আমার বিছানায় শুয়ে বসেই কেটে যায়। আমি আবার খুব ঘুমপ্রেমিক মানুষ। ঘুমের চাইতে আরামের কিছু আমার জীবনের ডাইরিতে নেই। মাঝেমধ্যেই সুযোগ পেলে রাত বারোটা থেকে দিনের একটা/দুইটা পর্যন্ত ঘুমাই। তারপর উঠে গোসল করে দুপুরের অন্য কোন রকমে সাবার করে আবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুমাই৷ মাঝে মাঝে মনে হয়, এই ঘুম আসে কোথা থেকে! এর কি কোন শেষ নেই?
যাইহোক দ্বিতীয় দিনটা ছিল শুক্রবার। ওইযে বললাম ; ঘুমপ্রিয় মানুষ আমি। কোনরকমে ঘুম থেকে উঠে দৌড়ে জুম্মার নামাযে যাই। নামাযের পর দুপুরের খাবার শেষে আবারো সেই বিছানায় ঠাই হয় আমার। এবার আর ঘুমানো হয়ে উঠেনি। হঠাৎ করেই মুভি দেখতে মনে চাচ্ছিলো। অনেকদিন হলো মুভি দেখা হয়ে উঠছে না। তাই ভাবলাম আবারো না ঘুমিয়ে এবার একটা মুভিই দেখা যাক তাহলে!
চাইনিজ একটা মুভি দেখতে দেখতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। হঠাৎ পাশের রোমের ছোটভাই এসে বললো, “চলেন ভাই, বাইরে থেকে হেটে আসি। আর কতো শুয়ে বসে কাটাবেন "। মুভিটির কিছু অংশ বাকি থাকায় প্রথমে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। কিন্তু পরক্ষনেই ভাবলাম বাইরে থেকে একটু ঘুরে আসলে মন্দ হয়না। তাছারা রোমের অনেকেই যাচ্ছে একসাথে বাইরে কোথাও আড্ডা দিবে বলে। শেষ পর্যন্ত বিছানার মায়া ত্যাগ করে, মাগরিবের নামায আদায় করে দীর্ঘদির পর সবাই একসাথে বের হই৷
আমিন গ্রুপের বিস্তৃত সরু রাস্তা দিয়ে সবাই মিলে একসাথে হাঁটতে ভালোই লাগছিলো খুব৷ শহরের বাইরে হওয়াতে কোন প্রকার কোলাহল নেই, চাইদিকটা সবুজে ঘিরে রেখেছে। হালকা ঠান্ডা হাওয়া বইয়ে যাচ্ছে দক্ষিন থেকে পূর্ব দিকে, যা শরীরটাকে একবারে শীতল করে দিচ্ছিলো। খুব অল্প সংখ্যক মানুষ উপভোগ করছে এই আপরুপ সৌন্দর্যটাকে।
অনেকক্ষন হাটার পর কিছু বাদাম কিনে নিয়ে রাস্তার পাশে আড্ডা দিতে বসে পরি সবাই। বাদাম খেতে খেতে চলছে আমাদের সন্ধ্যার আড্ডা৷ একের পর এক সবাই শেয়ার করছে তাদের জীবনের সেরা মুহূর্ত গুলির কথা। মনে হচ্ছিলো আমার মুখের কথাগুলো কেড়ে নিয়েছে তারা সবাই। শত শত পাগলামি দিয়ে ভরপুর ছিলো আমাদের স্কুল কলেজ জীবনের দিনগুলো। প্রায় সবাই ওই সময়টাতে কারো না কারো প্রেমে পরেছিলো। আবেগে ভরপুর সেই সময়টাতে বিবেকের চাইতে আবেগের দামটা ছিলো অনেক বেশি৷
তবে সবচাইতে হাসির বিষয়টা ছিলো আমার বন্ধুদের প্রেম কাহিনী। সিনেমাকে হার মানাবে তাদের এই কাহিনী। রাত বারোটায় গফের বাড়িতে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে দৌড়ানি পর্যন্ত খেয়েছে তারা। তবে শেষ পর্যন্ত সবাই সফল একমাত্র আমি ছাড়া।
তারপরেও নেই কোন ক্ষোভ আর অভিমান। দিনশেষে ভালো আছি আমরা সবাই। অনেকদিন পর একটি ভালো সন্ধ্যা কাটলো সকলের সাথে। ভালো সময়গুলো পার হয়ে যাচ্ছে খুব দ্রুতই।