নাটকীয় এক ম্যাচের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের লড়াই। টি-টোয়েন্টি সিরিজে ড্রয়ের পর ওয়ানডে সিরিজে দুর্দান্ত পারফর্ম করে জয় পেয়েছিলো সফরকারি ভারত দল। টি-টোয়েন্টি এবং ওডিআই সিরিজের পর টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হয় দু'দল। যেখানে প্রথম ম্যাচে জয় পায় স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচেই দারুণভাবে কামব্যাক করে রোহিত শর্মার নেতৃত্বাধীন ভারত দল। দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে সাত উইকেটে হারিয়ে সফরের ইতি টানে এশিয়ার জায়ান্টরা!
ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যাকর দ্বিতীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ আফ্রিকার নিউল্যান্ডের ক্যাপটাউনে। ম্যাচের শুরুতে টসে জিতে ব্যাটিং এর সিদ্ধান্ত নেয় দক্ষিণ আফ্রিকার ক্যাপ্টেন এলগার। মূলত প্রথম ম্যাচে ভারতকে রানের চাপে ফেলে জিতেছিলো স্বাগতিকরা। তাই এই ম্যাচেও প্রথমে ব্যাটিং করে ভালো একটি সংগ্রহ করার পরিকল্পনা ছিল প্রটিয়াদের। কিন্তু এই ম্যাচে তারা পুরোপুরি ভাবে ব্যর্থ হয় তাদের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে।
টসে জিতে শুরুতে ব্যাটিংয়ে এসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারতীয় পেইসার মোহাম্মদ সিরাজের বোলিং তাণ্ডবে দলীয় ২০ রান করার আগেই চার উইকেট হারায় আফ্রিকা। এই ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে কোন ব্যাটসম্যান ২০ রান পূর্ণ করতে পারেনি। মোহাম্মদ শামির পাশাপাশি জাসপ্রিত বোমরা এবং মুকেশ কুমারের অনবদ্য পারফরমেন্সে মাত্র ৫৫ রানেই অল-আউট হয় দক্ষিন আফ্রিকা। নয় ওভারে ১৫ রানের খরচায় ছয়টি উইকেট তুলে নেয় সিরাজ।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে ভারত তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স করে। রোহিত শার্মা, শুভমান জিল এবং বিরাট কোহলির অল্প অল্প কন্ট্রিবিউশনে কঠিন পিচে ভালো অবস্থানেই ছিলো ভারত দল। কিন্তু ১৫৩ রানেই পাচ উইকেট হারিয়ে দলীয় ২০০ রান পূর্ণ করতে ব্যর্থ হয় সফরকারীরা। তবে ১৫৩ রানে অলআউট হয়ে গেল ৯০ + রানের মহামূল্যবান লিড পায় দলটি।
দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাট হাতে ভালো পারফরম্যান্স করতে ব্যর্থ হয়। এবার ভারতের হয়ে বিধ্বংসী বোলিং করে জাসপ্রিত ভোমরা। একাই ছয় উইকেট শিকার করে সে। ভারতের হয়ে প্রথম ইনিংসে ছয় উইকেট তুলে নেওয়া সিরাজ দ্বিতীয় ইনিংসে তুলে নেয় একটি উইকেট। এইডেম মারকারামের শতরানের পরেও দলীয় দুশমন পূর্ণ করতে ব্যর্থ হয় স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। দক্ষিণ আফ্রিকা মাত্র ১৭৩ রান অলআউট হয়ে গেলে জয়ের জন্য ভারতের সামনে লক্ষ্যমাত্র দাঁড়ায় মাত্র ৭৯ রানের।
দক্ষিণ আফ্রিকা দেওয়ার ৭৯ রানের লক্ষ্যমাত্রাকে সহজেই পাড়ি দেয় সফরকারি ভারত দল। তরুন জাইসুয়ালের সাথে রোহিত শার্মা, সুভমান জিল এবং বিরাট কোহলির কন্ট্রিবিউশনে সাত উইকেট এর ব্যবধানে জয় পায় সফরকারি ভারত দল। এই জয়ে প্রথমবারের মতো ক্যাপটাউনে জয় পেলো কোন এশিয়ান দেশ।