পর্ব-১ এ আমি গল্পের প্রথম অংশটি তুলে ধরেছিলাম ৷ আজকে থাকছে দ্বিতীয় তথা শেষ পর্ব ।
প্রথম পর্বের লিংক : @fa-him/5weaxg
হঠাৎ একদিন রাতে কথা বলার সময় স্যার আমাকে দেখে ফেলে। স্যার আমার ফোনটিকে নিয়ে ভেজ্ঞে ফেলে। যার ফলে আমাদের মাঝে যোগাযোগ কিছুটা কমে যায় ৷ মাঝে মাঝে আমি আমার বন্ধুদের মোবাইল দিয়ে তার সাথে কথা বলতাম। কিন্তু তারপরও আমার মাঝে একটা শূন্যতা কাজ করতো। মাঝে মাঝে মনে হতো ওকে অন্য কেউ নিয়ে যাবে নাতো ! তাই সিদ্ধান্ত নিলাম আমি এবার সরাসরি তাকে প্রপোজ করবো। এভাবে আর কতোদিন !
পরিকল্পনামতো একদিন ক্লাস শেষে গোলাপ ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে পরি তার সামনে । অনেকটা ভয়ে ছিলাম যদি সে আবারও না করে দেয় । কিন্তু, এবার সে আমাকে ফিরিয়ে দিতে পারেনি ৷ ওই দিনটা ছিলো আমার জীবনের অন্যতম একটি আনন্দের দিন, যা কখনো ভুলার মতো নয়। সেদিন তাকে গিফট হিসেবে একটি পুতুল দিয়েছিলাম। তারপর থেকে শুরু হয় আমাদের ছোট্ট - মিষ্টি প্রেম। ক্লাসে যেতাম শুধু তাকে দেখার জন্য, ওইদিকে স্যার কি পড়াচ্ছে তার খেয়াল ই থাকতো না আমার। অপেক্ষা করতাম কখন ক্লাস শেষ হবে আর আমি লেক পারে দাঁড়িয়ে ওর সাথে কথা বলবো ।
প্রায়ই ওর পছন্দের খাবার ফুসকা, চটপটি, চকলেট আর আইসক্রিম কিনে তার হোস্টেলে দিয়ে আসতাম । কিছুদিন পর বিষয়টা আমার পরিবার ও তার পরিবার যেনে যায় ৷ আমার পাগলামি দেখে তারাও বিষয়টা মেনে নেয় ৷ পুরো কলেজেও সবাই জানতো। পরিক্ষার হলে আমি আমার খাতায় না লিখে ওকে লিখে দিতাম। নিযে কিছু না খেয়ে ওর জন্য টাকা জমাতাম। ওকে কিছু একটা গিফট করতে আমার খুব ভালো লাগতো। সবমিলিয়ে ভালোই চলছিলো আমাদের দিনগুলো ৷ এভাবে শেষ হয়ে যায় কলেজে জীবনের প্রথম বছর।
দ্বিতীয় বছরের দিনগুলো ছিলো দুঃস্বপ্নের মত। সে আস্তে আস্তে পরিবর্তন হয়ে জেতে থাকে, যা আমি কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছিলাম না। যা আমি অপছন্দ করতাম, তাই তার কাজে ফুটে উঠতো। যার ফলে কোন কাজে মন বসতো না আমার। একবার তো নিজের ফোন নিজেই ভেজ্ঞে ফেলেছিলাম। তার কিছুদিনের মধ্যেই এইস.এস.সি পরিক্ষা শেষে কলেজ থেকে বেড়িয়ে পড়ি আমরা।
তারপর থেকে তার ব্যবহারে আরো চেঞ্জ আসতে শুরু করে । আমার বিশ্বাসকে ভেজ্ঞে দিয়ে চলে যায় সে , যা আমি তা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারিনি। যাকে এতটুকু ভালোবাসতাম সে নাকি আমাকে কখনও ভালোবাসেনি , সবকিছুই ছিলো শুধু অভিনয় আর স্বার্থ। মনের দিক থেকে ভেজ্ঞে পরি আমি। সে আমাকে হয়তো ভালোবাসেনি কিন্তু আমি তো আর অভিনয় করিনি। জীবনের শুরুতেই আমি মানুষ চিনতে ভুল করেছিলাম যার খেসারত দিয়েছি চোখের পানি দিয়ে !
তারপর, চারটি বছর কেটে গেছে কিন্তু তার সাথে আর কথা হয়ে উঠেনি । এখনো তার প্রতি অনুভূতিগুলো শেষ হয়ে যায়নি ৷ হয়তো আর কোনদিনও ভুলতে পারবো না। সে চলে গেলেও অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেছে। আমিও তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। ভালো থাকুক সে, আমিও ভালো থাকতে চাই তার স্মৃতির মাঝে 🙂
[ গল্পটি আমার বন্ধু শিমুলকে ঘিরে লেখা ]
(