প্রশান্তির বৃষ্টির সাথে বাড়ি ফিরা!

Words
345
Reading
2 min
Listen
Play
3y

তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলো জনজীবন। মরুর তাপ যেনো অনুভূত হচ্ছিলো চারপাশে। প্রতিনিয়ত ৩৬/৩৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় টিকে থাকতে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হয়েছে প্রতিটি প্রানের। ৩৬/৩৮ ডিগ্রী তাপমাত্রার সাথে আপেক্ষিক আদ্রতা বেশি থাকার কারনে চারপাশে গরমের পরিমানটা অনুভূত হচ্ছিলো ৪০/৪২ ডিগ্রীর মতো। তার সাথে লোডশেডিং মানুষের স্বাভাবিক জীবনে প্রভাব ফেলেছে বেশ!

তীব্র এই গরমের কারনটা কিন্তু আমরাই! যে যেভাবে পারছি পরিবেশ দূষণ করতে ব্যস্ত আছি। কেউ গাছ কেটে ঘরবাড়ি গুছাতে ব্যস্ত। আবার কেউবা সকলপ্রকার বর্জ্য নিয়ে ফেলছে প্রকৃতিতে। ফলে প্রকৃতি তার স্বাভাবিক অবস্থান পরিবর্তন করে ফুলে ফেঁপে উঠছে।

তারই জলন্ত প্রমান এই গ্রোবাল ওয়ামিং। ঋতুগুলো পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিমাণ বাড়ছে, সাথে স্বাভাবিক তাপমাত্রাও বেড়ে চলছে। আর এর জন্য দায়ি কিন্তু অন্য কেউ নয় ; সৃষ্টির সেরা জীব নামে পরিচিত আমরাই! পৃথিবীর সবচাইতে বুদ্ধিমান প্রাণীটি নিজেদের সাথে সাথে সবাইকে ধ্বংস করতে উঠে পড়ে লেগেছে!

যাইহোক আজকে লেখতে বসার কারণ নিজের সমসাময়িক বিষয়গুলোকে তুলে ধরা। প্রচন্ড গরমে অন্য সবার মত ভুগতে হয়েছে আমাকেও। সারাদিন অফিস কতে বাসায় ফিরেও একটু ভালো থাকার সুযোগ নেই। পুরো দিনের ক্লান্তি শেষে প্রচন্ড গরমে রাতে ঘুমানো একপ্রকায় আমাবস্যার চাঁদ হয়ে উঠেছিলো। তার উপর লোডশেডিং মাঝরাতে গালচর্চার কারন হয়ে দাড়িয়েছিলো।

না ঘুমিয়ে এভাবেই চলছিলো দিনগুলো। তার মাঝেই হঠাৎ বৃষ্টি যেন মরুভূমির মধ্যখানে এককূপ পানি খুজে পাওয়া। এক বৃষ্টি থমথমে গরম আবহাওয়াকে শীতল আবহাওয়ায় পরিনত করে এই বৃষ্টি। বৃষ্টির সাথে সাথে মানবজমিনে নেমে এলো একটু প্রশান্তি। প্রতিটা জীবনে যেনো প্রান ফিরে এলো। আশেপাশের পরিবেশটা উজ্জীবিত হয়ে ওঠলো।

ঠান্ডা শীতল পরিবেশ বহুদিন ধরে জমে থাকা ক্লান্তিগুলো ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে দিলো। সাথে রাতের ঘুমটাও হলো বেশ!

বৃষ্টির সাথে স্বর্গীয় পরিবেশ পেয়ে ভাবলাম এবার একটু ঘুরে আসি প্রিয় গ্রামটাতে। ঈদ শেষে যে ঢাকায় ফিরেছে আর যাওয়া হয়ে ঊঠেনি। পরিচিত মানুষগুলো অনেক মিস করছিলাম। তাই অফডে সহ একদিন ছুটি নিয়েই ছুটে চলা। বাড়ি ফিরার প্রথম বাধা ঢাকা শহরের তীব্র জানজট। অফিসের গাড়িতে করেও টঙ্গী থেকে এয়ারপোর্ট রেলওয়ে স্টেশন আসতে সময় লেগে যায় দুই ঘন্টারও বেশি। তারপর ট্রেনের জন্য অপেক্ষা আরো আধঘন্টা। পরিশেষে পরিবারের কাছে ফিরতে ফিরতে সেই রাত এগারোটা।

যাইহোক গ্রামে পরিবেশটা নিজের মধ্যে জমে থাকা ক্লান্তিগুলোকে একেবারেই ধুয়ে মুছে দিয়েছে। সাথে এখানকার সবুজ পরিবেশ, হালকা বৃষ্টি আর ঠান্ডা হাওয়া মনটাকে জুরিয়ে দিয়েছে!

received_805266727464644.jpeg
received_167950859400136.jpeg
গ্রামের ফুটবল
received_646778980322564.jpeg

প্রশান্তির বৃষ্টির সাথে বাড়ি ফিরা! | Ecency