বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সমাপ্তি!

fa-him(72)
Published in
#life
Words
363
Reading
2 min
4y

শিক্ষাজীবনের শেষটা চলেই এলো। সমাপ্তি ঘটলো বই-খাতাগুলোর সাথে দীর্ঘ ১৬ বছরের পথচলার। যার শুরুটা হয়েছিলো ২০০৫ সালে। তখন আমার বয়স মাত্র পাচ বছর। বাবা-মা শিক্ষক হওয়ার সুবিধার্থে অনেকটা অল্প বয়সেই স্কুলে যাওয়া শুরু। গ্রামের পাশের তিনচিটা প্রাইমারী স্কুলে ক্লাস ওয়ানে ভর্তি করে দেয় বাবা। নতুন জামা, নতুন বই আর নতুন ব্যাগ নিয়ে প্রতিদিন ছুটে যেতাম স্কুলে। সারাদিন একটু একটু লেখাপড়ার সাথে ছুটাছুটি করা এই ছিলো একমাত্র কাজ!

তার এক বছর পরেই বাবা মায়ের চাকরীর সুবিধার্তে গ্রামের স্কুলটা ছেড়ে দূরের এক স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেনীতে ভর্তি হতে হয়। সেখানেই কেটে যায় আরো একটা বছর। নতুন পরিবেশ আর নতুন মানুষদের মধ্যে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছিলাম ঠিকই। তবে সেখানেও থাকা হয়ে উঠেনি।

বাবা - মা দুজনেই চাকরী করার ফলে আমাকে দেখাশোনা করার মতো তেমন কেঊ ছিলোনা। বৃদ্ধ দাদু দেখাশোনা করতো আমাকে। ফলে পড়াশোনা, ঘুম আর খাওয়া বাদ দিয়ে সারাদিন এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াতাম। ছেলে এমন অবস্থা দেখে চাকরী ছেড়ে দিয়ে মা আমাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরে। ফলে আবারো নিজ গ্রামে চলে আসি সবাই।

এবার ভর্তি হই গ্রামের একটি কেজি স্কুলে। সেখানে প্রথমে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি করা হলেও পড়ালেখার চাপ নিতে না পেরে আবারো দ্বিতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে যাই। সাথে একজন প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে প্রতিদিন পড়তে যেতাম। এখাবে কেটে যায় একটা বছর।

তার মধ্যে বাবার সরকারি চাকরী হলো। বাবার চাকরীর সুবিধার্থে গ্রাম ছেড়ে আবারো দাউদকান্দি শহরে চলে আসি পুরো পরিবার। দাঊদকান্দিতে একটি কেজি স্কুলে এবার ভর্তি হই তৃতীয় শ্রেণীতে। দাউদকান্দি শহরে আমাদের থাকা হয়েছিল তিনটা বছর। এই তিন বছরে তিনটি স্কুল পরিবর্তন করেছিলাম। সেই হিসেবে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত ছয়টি স্কুলে আমার পদচিহ্ন পড়েছিল 😅। আমার মতো এত স্কুল পরিবর্তন হয়তো দ্বিতীয় কেউ করেনি। তবে পরিবর্তনগুলো এসেছিল প্রয়োজনের সার্থেই।

আমার পিএসসি পরীক্ষার পরপরই বাবা ট্রান্সফার হয়ে নিজ গ্রামের স্কুলে চলে আসে। ফলে আমরাও চলে আসি গ্রামের বাড়িতে। এরপর ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে শুরু করে এসএসসি পর্যন্ত একটি স্কুলেই পড়াশোনা করি। সেই সময়টা ছিল জীবনের সবচাইতে সুন্দর সময়। সারাদিন ক্লাস করে বিকেলে দৌড়ে বাড়ি ফিরতাম মাঠে ক্রিকেট খেলার জন্য। তখনকার সময়টায় শুক্রবার মানেই ছিল ঈদের দিন। কোন স্কুল নেই, পড়তেও যেতে হতোনা। স্কুলের সময়টাতে টিফিনের টাকা জমিয়ে মেলায় ঘুরতে যেতাম। বন্ধুদের নিয়ে এখানে সেখানে বেড়াতে যেতাম।

স্কুল শেষে কলেজ এবার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনটাও বিদায় নিয়েছে চোখের পলকেই। করোনা নামক মহামারি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনটাকে করেছে সংকীর্ণ। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন শেষে এবার পালা কর্মজীবনের শিক্ষা অর্জনের।

IMG_20230205_184543.jpg

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সমাপ্তি! | Ecency