ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম দুটি শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব স্পেনের রিয়াল মাদ্রিদ এবং ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। কেউই যে কারো থেকে কোন অংশে কম নয়, ইতিহাস সমৃদ্ধ দুই দলেরই। তাদের আছে ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্য়ায়ের অর্জন চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা ও ক্লাব বিশ্বাকাপ শিরোপা। প্রিমিয়ার লিগে এক সময়ের ডন ছিলো এই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। আর রিয়াল মাদ্রিদ? তারাই যে সর্বশেষ উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগের শিরোপা অর্জনকারী দল, সাথে লা লীগা শিরোপা তো আছেই।
তবে আজ লেখার কারন এই দুই ঐতিহ্যবাহী দলকে নিয়ে নয়। আজকে লেখতে বসার কারন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো। বর্তমানে ফুটবল জগতের সকল আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। ব্রাজিল দলের পাশাপাশি স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডের ভরসার প্রতিক সে। নিজ দলের হয়ে তার পারফরমেন্স এবং ডেডিকেশন কোন ফুটবল ফ্যানের অজানা থাকার কথা নয়!
তবে সমস্যাটা হচ্ছে বর্তমানে ক্যাসেমিরো রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়ার বললে ভুলই হবে। কেননা ইতিমধ্যেই সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অফিসিয়ালি রিয়ালকে বিদায় জানিয়ে ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড যোগ দিয়েছে ক্যাসেমিরো। রিয়ালের হয়ে নিজের জাত চেনানো এই তারকার হঠাৎ এমন ক্লাব পরিবর্তনে অবাক হয়েছে ফুটবল খেলা। দুই/তিনদিনের গুঞ্জনকে সত্যি করে বোনাস সহ প্রায় ৭০ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফারের বিনিময় ব্রাজিলিয়ান এবং রিয়াল মাদ্রিদ এর এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার কে নিজের করে নিয়েছে রেড ডেভিলরা।
এই মুভমেন্টের পর অনেক ধরনের আলোচনা-সমালোচনা ছরিয়ে পড়েছে চারদিকে। রিয়ালের হয়ে নিবেদিতপ্রাণ এই খেলোয়ারের চলে যাওয়াকে অনেকে টাকার কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়ার সাথে তুলনা করছে। কেননা বিভিন্ন মিডিয়ার মতে রিয়াল মাদ্রিদে মাথাকাকালীন সময়ে ক্যাসেমিরো যতোটাকা বেতন পেতো, ঠিক তার দ্বিগুণ বেতন পাবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। তাই সে রিয়ালকে বিদায় জানিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিয়েছে।
তার এমন সিদ্ধান্তে অনেক রিয়াল ভক্তরা ক্ষুব্ধ হলেও কোন দোষ দেখছিনা আমি। আমার এই মন্তব্যের পিছনে অবশ্যই কারন আছে ভাই! টাকা ছাড়া দুনিয়ে চলেনা। টাকা আয়ের জন্যই কিন্তু এতো কিছু। এই যেমন আমি এতো কষ্ট করে পড়াশোনা করছি, তার উদ্দেশ্য কি আসলে? একটা ভালো চাকরী করা কি নয়? হা ভাই; ভালো বেতনে একটা চাকরীর জন্যই এতোকিছু। আপনার, আমার এবং সবার টাকাটাই যে সবচাইতে বড় প্রয়োজন।
ক্যাসেমিরোর ক্ষেত্রেও বিষয়টা একই! তাছাড়াও রিয়াল মাদ্রিদেএ হয়ে বহুদিনের ক্যারিয়ারে সে জয় করেছে সবকিছুই। নাম, জৌলুস সবই অর্জন করেছে সে। টনি ক্রুস আর লুকা মদ্রিচের সাথে মিলে তৈরি করেছিলো এক অসাধারন মিলফিল্ড যুগল। নতুন করে জয় করার মতো আর কিছুই ছিলোনা।
সেই সাথে এবার তার সামনে সুযোগ এসেছে বেশ কিছু অর্থ উপার্জন করার। বয়সটাও ৩০ এসে ঠেকেছে, হয়তো বেশি হলে আর ৪/৫ বছর তাকে মাঠ দাপাতে দেখা যাবে। ক্যারিয়ারের এই এই সময়টাতে কিছু বাড়তি উপার্জন করা আর দোষের কি? সাথে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বর্তমান যে অবস্থা, তা থেকে পরিত্রান পেতে তার মতো একজন ডেডিকেটেড প্লেয়ারের খুব প্রয়োজন ছিলো। আশা করি রিয়ালের মাদ্রিদের হয়ে মাঠ কাপানো সেই পারফরম্যান্স ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ধরে রাখবে ট্যাংক খ্যাতো ব্রাজিলের ক্যাসেমিরো।