দেখতে দেখতে আরেকটি এশিয়া কাপ আমাদের সামনে। ২৮ শে আগস্ট শুরু হতে যাচ্ছে ক্রিকেটের এশিয়া অঞ্চলের এই মেগা আসর। ইউনাইটেড আরব আমিরাতে ২৮ তারিখ থেকে শুরু হয়ে ১১ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে বহুল জনপ্রিয় এই টুর্নামেন্ট। এবারের আসরটি শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তাদের দেশের অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারনে ভেন্যু সরিয়ে নিয়েছে আয়োজক সংস্থা।
বাঙালির কাছে হাজারো স্মৃতি দিয়ে ঘেরা এই টুর্নামেন্টটি। বহু হাসি কান্নার সাক্ষি এই আসরটি। বহুবার জয়ের বন্দরে গিয়েও, ফিরে আসতে হয়েছে খালি হাতে। বিশেষ করে ২০১২ সালের এশিয়া কাপ ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১ রানে হারের আক্ষেপটা ছিলো সবচাইতে বেশি। মাঠ ও মাঠের বাইরে সকল ক্রিকেট ভক্ত ও খেলোয়াড়দের চোখের কোনে জল জমেছিলো সেদিন।
তারপর আবারো দুই' দুইবার ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিলো টাইগাররা। বরাবরের মতোই হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে। টি-টোয়েন্টি এবং ওডিয়াই দুই ফরমেটেই হারের ব্যবধানটা ছিলো খুবই সামান্য। ভাগ্যে সহায় থাকলে ফলাফল গুলো ভিন্নও হতে পারতো।
এবার ২০২২ এশিয়া কাপকে ঘিরে স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশের ভক্ত সমর্থকরা। কিন্তু এই স্বপ্ন কি আদও পূর্ণতা পাবে? বর্তমান বাংলাদেশ দলের কি সামর্থ্য আছে এশিয়া কাপ জয় করার? বাঙালিরা পারবে কি ভারত পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলগুলোকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন হতে? এমন হাজারটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে আমার মতো সাধারণ ক্রিকেট ভক্তদের মনে। চলুন সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে নেওয়া যাক।
প্রথমেই কথা বলা যাক বাংলাদেশ দলের সামর্থ্য সম্পর্কে। সময় পরিবর্তনে এদেশের ক্রিকেটে এসেছে বহু পরিবর্তন। একসময় নামেমাত্র ক্রিকেট খেলা দেশটি এখন প্রতিটা দলের জন্য ভয়ের কারন। ক্রিকেটের এমন কোন পরাশক্তি নেই যারা বাংলাদেশের বিপক্ষে হারেনি। এইতো কিছুদিন আগে টাইগাররা দক্ষিন আফ্রিকাকে তাদের মাটিতেই হারিয়ে প্রথমবারের মতো সিরিজ জয় করে নিয়েছিলো। তাছাড়া ঘরের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডকে কি নাকানিচুবানি টাই না খাইয়েছিলো।
যেকোন দলেই বিপক্ষেই ম্যাচ হেসেখেলে জয় করে নেওয়ার সামর্থ্য বাংলাদেশের আছে। বিশেষ করে ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে ওডিয়াই ফরমেটে অপ্রতিরোধ্য ছিলো টাইগাররা। তবে টেস্ট আর টি-টোয়েন্টিতে এক অচেনা দল বাংলাদেশ। টেস্ট খেলার মত ধৈর্যশক্তি আর টি-টোয়েন্টি খেলায় পাওয়ার হিটিংয়ের সামর্থ্য একদম নেই বললেই চলে। এইতো কিছুদিন আগেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নাকানিচুবানি খেয়ে এসেছে দল। হারতে হয়েছে প্রিয় ওডিয়াই ফরমেটেও।
এবারের এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। কিন্তু টি-টোয়েন্টিকে ঘিরেই যে সকল সমস্যা দলের। হাজারো পরিক্ষা নীরিক্ষা করার পরেও ফলাফল সেই শূন্য। পাওয়ার হিটিং করে খেলার মতো কোন ব্যাটসম্যান দলে নেই বললেই চলে। আধুনিক সময়ের এই ক্রিকেটে শেষ ৫ ওভারে ৫০ রান নেওয়ার মতো সক্ষমতাও নেই বাংলাদেশ টি টুয়েন্টি দলের।
তবে সাকিব, আফিফদের কাছে আশা তো করতেই পারি আমরা। যদি দল সম্বলিত পারফরম্যান্স করতে পারে তাহলে শিরোপা আমাদেরই হবে।