বাঙালি মাত্রই স্বপ্নবাজ, আবেগপ্রবন ও রসিক মানুষ। বাঙালি এককাপ চায়ের সাথে আড্ডায় মেতে উঠতে বরই পছন্দ করে। আর সেটা যদি হয় ক্রিকেট সম্পর্কিত, তাদলে তো সেই আড্ডা আর শেষ ই হতে চায়না। ক্রিকেট বাঙালির আবেগর এক আবগের নাম, যা মিশে গেছে রক্তের সাথে! বর্তমানে দেশে ক্রিকেট মানেই উন্মাদনা, আবেগ-উচ্ছ্বাস আর চাওয়া পাওয়া। বাংলাদেশের কোন খেলা মানেই মাতামাতি, বাংলাদেশের জয় মানেই আনন্দ-উন্মাদনা, যেন এক আত্মতৃপ্তি।
ক্রিকেটের প্রতি বাংলাদেশের মানু্ষের আবেগ আর ভালোবাসা তৈরি হতে থাকে ১৯৯৭ সালে মালেশিয়ায় আইসিসি ট্রফি জয়ের পর থেকে। তার আগে অল্প কিছু সংখ্যক মানুষ এই খেলা সম্পর্কে জানতো। তখন এদেশে ফুটবলই ছিলো ক্রীড়াপ্রেমীদের উন্মাদনার মাধ্যম। কিন্তু, তারপর থেকে মানুষের ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হতে থাকে। বাংলাদেশের একেক পর এক সফলতা তার মাত্রা আরো বহুগুন বাড়িয়ে দেয়। একের পর এক টেস্ট, ওডিয়াই ও টি টুয়েন্টিতে সাফল্য ধরা দিতে থাকে। বিশ্বের শক্তিশালী ক্রিকেট খেলুরে দেশগুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যায় আমাদের দেশের ক্রিকেট, যা বাঙালির মনের আবেগকে আরো বহুগুনে বাড়িয়ে তোলে। দক্ষিন এশিয়ার অন্যতম এক পরাশক্তিতে পরিনত হয় বাংলাদেশ।
আমিও এক ক্রিকেটপ্রেমি মানুষ। আমার এই খেলার প্রতি আসক্তি ছোটবেলা থেকেই। আসলে এই আসক্তি তৈরি হওয়ার পিছনে অনেক কারনও রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই দেখতাম সবাই বাংলাদেশের খেলা নিয়ে মাতামাতি করছে। বাংলাদেশের জয়ে তারা মিছিল - মিটিং করছে। আমি কিছু না বুঝেই তাদের দলে যোগদান করতাম। একটা সময় আমিও ক্রিকেট সম্পর্কে ধারনা অর্জন করতে থাকি। তারপর থেকেই ক্রিকেট খেলার প্রতি একটা ভালোলাগা তৈরি হয় আমার। আমার বাবাও একজন ক্রিড়াপ্রেমী মানুষ। তাই যখনই কোন খেলা থাকতো বাবা-ছেলে মিলে দেখতাম।
আমার ক্রিকেটের প্রতি আসক্তি তৈরি হওয়ার আরেকটি বড়ো কারন ছিলো বিকেলে বন্ধুদের সাথে মিলে ক্রিকেট খেলা। সাধারনত, এখনকার ছেলেরা মোবাইল নিয়েই ব্যস্ত থাকে! তারা এখন অনলাইনভিক্তিক গেইম খেলায় তাদের অবসর সময়টা পার করে। কিন্তু আমাদের সময় প্রেক্ষাপট ছিলো পুরোই আলাদা। ছোটবেলায় আমারা যখনই সুযোগ পেতাম বন্ধুরা মিলে ক্রিকেট খেলতে ব্যস্ত হয়ে পড়তাম। আমার মনে হয় ২০১০ সালের আগের দিকে সব ছেলেরাই এরোকমটা করতো! যার ফলে ক্রিকেটের প্রতি আমাদের আবেগটা অনেকাংশে বেশিই বলা চলে।
বর্তমানে এমন মানুষ খুব কম খুজে পাওয়া যাবে, যে ক্রিকেট খেলা পছন্দ করেনা। বাংলাদেশের খেলা মানে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ। আজও বাংলাদেশের খেলার সময় সব কাজ ফেলে বন্ধুরা মিলে বসে পড়ি খেলা দেখতে। বাংলাদেশের জয় মনে একটা অন্যরকম অনূভুতি তৈরি করে। আর হেরে গেলে কোন কাজে মন বসতে চায় না। এখন শুধু একটাই চাওয়া, বাংলাদেশ আরো বেশি ভালো করুক বিশ্ব মঞ্চে, যাতে একটা সময় বলতে পারি, “ আমার দেশ সবার শেরা”।