বাউল মেলা! গ্রামের সবচাইতে পুরাতন ঐতিহ্যের মধ্যে একটি। হাজারো মানুষের সমাগমে প্রতি বছর পালিত হয় এই ঐতিহ্যবাহী মেলাটি। এই মেলাটির শুরু হয়েছিলো প্রায় শত বছর আগে। গ্রামের মানুষের মতে যার শুরু হয় ১৯৩০ সালে ইংরেজ আমলে। গ্রামের সনামধন্য এক হিন্দু পরিবারের হাত ধরে শুরু হয়েছিলো এই মেলাটির, যার প্রচলন এখনও রয়েছে।
মেলা মানেই গ্রামে উৎসবমুখর একটি পরিবেশ। দুর -দূরান্ত থেকে আত্মীয় স্বজনেরা সবাই বেড়াতে আসতো এই সময়টাতে। মেলার আমাজের সাথে শীতের পিঠাপুলি আনন্দের মাত্রাটা বাড়িয়ে দিতো বহুগুনে।
মেলা উপলক্ষে গ্রামে আয়োজন করা হতো নানারকম প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলার। কয়েকটি দল মিলে ফুটবল ক্রিকেট খেলায় মেতে উঠতো সবাই। সারাদিকে খেলাধুলা শেষে রাতে আয়োজন করা হতো খিচুরীর। গ্রামের সবাই সামিল হতো খিচুরীর এই আয়োজনে।
আমি খুব ছোটবেলা থেকেই এই মেলা দেখে আসছি। বাবা আমাকে প্রতি বছর মেলায় নিয়ে যেতো। বায়না করে নানা রকমের খেলনা কিনে নিয়ে আসতাম। তারপর সারাদিন খেলনাগুলো নিয়ে এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াতাম। বিকেল বেলায় সবার সাথে মাঠে যেতাম মেলা উপলক্ষে খেলা দেখার জন্য।
একটা সময় এই বাঊল মেলা দেখার জন্য স্কুল পালিয়ে আসতাম। টিফিনের সময়ে দেয়াল টপকে পালিয়ে আসতাম। এর জন্য মায়ের হাতে অনেক বার মাইরও খেতে হয়েছে 😀। তবুও এতো আনন্দ ফেলে কি আর ক্লাসে বসে থাকা যায়!
মেলার এই সময়টাতে আমি যেখানেই থাকতাম ছুটে আসতাম মেলায় অংশগ্রহণ করার জন্য। তবে যত দিন যাচ্ছে বাউল মেলা তার চিরচেনা রূপ হারাচ্ছে। বিশেষ করে ২০২০ সালে করোনার কারনে মেলা পালিত হয়নি। সেবার হাজার হাজার মানুষ মেলার এসেও ফিরে গিয়েছে। তারপর ২০২১ এবং ২০২২ সালেও স্থানিয় প্রশাসন করোনার জন্য অনুমতি দেয়নি।
তিন বছর পর ২০২৩ সালে আবারও পালিত হলো সেই মেলা। তবে সেই রূপ জৌলস এখন আর নেই। খুব ক্ষুদ্র পরিসরে পালিত হয়ে এবারের মেলা। আগের মতো মানুষের সমাগম নেই, নেই বাড়িতে আত্মীয়-স্বজনদের ভিড়। সাথে বন্ধু ছিলো সকল প্রকার আয়োজনও।
ছোটবেলার মেলার আনন্দ এখন শুধু স্মৃতি। সাথের বন্ধুরাও জীবিকার তাকিদে পাড়ি জমিয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। অনেকে তো দেশও ছেড়েছে। ইশ! হারানো দিনগুলো যদি আবারো ফিরে পাওয়া যেতো 😔😔😔