নেতানিয়াহু কয়দিন ধইরা বড় গজগজ করতেছিল,সেই সাথে দেখা যাইতেসিল হঠাৎ কইরা কেন জানি লেবাননের হিজবুল্লাহর মধ্যে গুড়াকৃমি ঢুকসে,যে কারনে তারা ইজরায়েলে রকেট মারসে,২০০৭ থেকে যা এক প্রকার বন্ধ,তারপর দেখলাম ইজরায়েলের অভ্যন্তরে কিছু খুন খারাবির জন্য হামাসরে দোষ দিতে এনওয়াই টাইমস ব্যাপক পরিশ্রম করতেসে।
এর সাথে মিলাইলাম সাদ হারিরির হাউস এরেস্ট নিয়া ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা বিন সালমানের লাফালাফি।
ভাবলাম,ঘটনা আসলে কি??ছাগল নাচে খুটির জোরে,সালমান তো ইজরায়েলের ইশারা ছাড়া নড়াচড়ার কথা না!!
এরপর দেখলাম ইভাঙ্কার জামাই খুব দৌড়ঝাপ শুরু করসে,এর মধ্যে মাইকেল ফ্লিনের এগেইন্সটে ইনকোয়ারিও খারাপ দিকে মোড় নিতেসে,এফবিআই যতই শক্ত হয়,ততই দেখি জেরুজালেমরে ইজরায়েলের রাজধানী ঘোষনার ব্যাপারটা টগবগ করে।সেই সাথে দেখলাম,ব্যাপক ভাবে গাজায় ইহুদী সেটলমেন্ট বাড়ানোর তোড়জোড় চলতেসে!!
ভাবলাম,ক্যামনে কি!!এখন তো ইজরায়েলের যুদ্ধ লাগাইতে চাওয়ার কথা না!!!
image @source
পরে সেইদিন জেরুসালেম পোস্ট আর হারেৎজ ঘাটতে গিয়া বাইর হইলো আসল কথা।
নেতানিয়াহু আর তার ডিফেন্স মিনিস্টার মিলা কিছু জার্মান সাবমেরিন কেনা নিয়া ইজরায়েলী মিলিটারির সাথে কিছু বাদানুবাদে জড়াইসে,ইজরায়েলী মিলিটারি মোটামুটি বিরক্ত,কারন এইগুলা কেনা নিয়া নেতানিয়াহু কিছু চুরি চামারি করসে।সেই সাথে লিকুদ পার্টির পপুলারিটিও ব্যাপক হারে কমা শুরু করসে,কারন এর আগেও নেতানিয়াহুর চুরি চামারির বেশ কিছু কিচ্ছা কাহিনী ইজরায়েলের মানুষ টের পাইসে।
রিসেন্টলি,নেতানিয়াহুর এইসব কাম কারবারে বিরক্ত হইয়া লাস ভেগাসের ক্যাসিনো কিং,ইজরায়েল হাইয়োমের মালিক শেলডন এডেলসন এই আগুনে ঘি ঢালা আরম্ভ করসে এবং যেহেতু ইজরায়েল হাইয়োম ইজরায়েলে অত্যন্ত পপুলার,সেহেতু,নেতানিয়াহু ভাল রকম কোনঠাসা হইয়া পড়সে।
নেতানিয়াহু টাইপ কট্টর নেতারা যখন বিপদে পড়ে,তখন তার রক্ষা পাওয়ার উপায় হয় হইলো চেতনা।একটা যুদ্ধ যুদ্ধ পরিস্থিতি বানাইতে পারলে মোটামুটি ভাবে অন্তত পাবলিকের নজর করাপশন থেকে অন্যদিকে নেয়া যায়।এইজন্য নেতানিয়াহু চাইছিল,আইদার লেবানন অর গাজায় একটা কিছু হোক,আর সেইজন্যই ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা এত লাফাইতেসিলো।কিন্তু তার উসকানিতে হামাস বা হিজবুল্লাহ কেউই রেসপন্স করে নাই।
image @source
এই যে গত কালকে সিরিয়াতে যে মিসাইল মারসে,আমার ধারনা এইটাও একটা প্রোভোকেশন।
কয়েকদিন আগে সো কলড ইসলামিক মিলিটারি এলায়েন্স নামের আমড়া কাঠের ঢেকির মুড়ারা যে মিটিং করলো,তারপর হামাস টামাসরে গাইল দিয়া সউদী-ইজরায়েলের মধ্যে শান্তির কথাবার্তা কইয়া যে বয়ান প্রচার করলো,সেই উদ্ভট মিটিংটার পরদিন,সোমবার একটা মিটিং হয়,ঐটা ছিল মিডল ইস্টের আসল মিটিং।
রুহানী,শেখ তামিম আর এরদোয়ানের মিটিং।
কাতার ইরান আর তুর্কীতে বিপুল পরিমান অর্থ ইনভেস্ট করতে যাইতেসে।এর মাধ্যমে তাদের স্ট্র্যাটেজিক এলায়েন্স এখন ইকোনমিক এলায়েন্সের দিকে রুপ নিতেসে।ব্যাপারট
া মোহাম্মাদ বিন সালমান,সিসি ও ট্রাম্পের জন্য যথেষ্ট মাথাব্যথার কারন হওয়ার কথা।
হিসাব মিলা গেল পরশুদিন।এরদোয়ানের কয়েকজন মিনিস্টারের এগেইন্সটে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনছে সিএইচপি,রুটটা হইলো ইরান ভায়া তুর্কী,সেই সাথে যারে ফাসানো হইসে সেই রেজেবও ইরানী বংশোদ্ভূত তুর্ক।
সবশেষ খবর,যদিও আমি বাংলাদেশী না বলার পরেও টিউলিপের তেমন কোন অসুবিধা হয় নাই,তবু,আমি ইজরায়েলী,ইজরায়েল বিপদে আছে এইসব কথা বইলাও নেতানিয়াহু পার পাইতেসে না,অলরেডি তার বিরুদ্ধে ইজরায়েলের মানুষ বিক্ষোভে নাইমা পড়সে।
এন্ড অফ দ্যা ডে,ডেমোক্রেসির একটা বড় গুন,এইটা মানুষের বেশ কিছু অধিকাররে রেস্পেক্ট করে।
যেমন চিল্লানির অধিকার।
স্বৈরতান্ত্রিক কোন দেশে আপনি রুলার তো দূরে থাক রুলারের ভাগনীর নাম নিয়াও চিল্লাইতে পারবেন না।
follow @dedicatedjaved