এই জায়গায় প্রশাসন থেকে সাংবাদিক, সব কবিই নীরব। কিভাবে ''প্রভাবশালী"-দের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, সে কথা জিজ্ঞেস করলেই সবাই প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে "এটা প্রকৌশলীদের দায়িত্ব, তারা সৎ হলেই হয়, সব শালা ইঞ্জিনিয়ার চোর" বলে সবাই দিব্যি মুখ ঘুরিয়ে নেয়। কিন্তু 'সৎ'' প্রকৌশলীর নিজের বা তার পরিবার পরিজনের নিরাপত্তার দায়িত্ব কোন শ্যালকপুত্র নেবে, এ বিষয়ে কোন দেশি-প্রবাসী 'সৎ' ব্যক্তির কাছে সদুত্তর পাওয়া যায় না। যদি প্রশ্ন করা হয়, এই বিপদ সামলানোর সাহস না থাকলে এই চাকরি করো কেন? এবার আমি একটা পাল্টা প্রশ্ন করি--আমাদের নাহয় সাহস নেই, আপনারা কেউ কেন এলেন না? সরকারি চাকরি করলে সৎ থাকা যায় না, বেহেশতে যাওয়া যায় না, আবার বেতন কম, এই বেতনে চলে না বলে যদি আপনারাও পালান, আমরাও পালাই, তবে যেটুকু কাজ হচ্ছে সেটাই বা কে করবে? আকাশ থেকে দেবদূত নামবে?
যাক সে কথা, ব্যর্থতা হলো ব্যর্থতা, এখানে অজুহাত খুঁজে লাভ নেই। ক্ল্যারিফিকেশনে যাই। প্রতিবেদনে একাধিকবার উঠে এসেছে 'ওভারলোডিং'-এর কথা। আমি নিজেই ভুক্তভোগী। যেখানে রাস্তা ডিজাইন করা হয় ১৫ টনের জন্য, এমনকি সরকারও বেঁধে দিয়েছে ২২ টনের, সেখানে আমার এলাকায় ন্যাশনাল হাইওয়েতে ৫০ টনের নিচে কোন ট্রাক চলে না। ওভারলোডিংয়ে রাস্তার আয়ু কমে যায় জ্যামিতিক হারে। শ্রদ্ধেয় শামসুল হক স্যার দাবী করেছেন আমেরিকার রাস্তায় নাকি ১৫ বছরেও মেরামতি লাগে না (এ প্রসঙ্গে পরে আসছি), অথচ বাংলাদেশে লাগে প্রতি বছর, কারণ ওভারলোডিং হলে রাস্তার 'ডিজাইন লাইফ' বলে আর কিছু থাকে না। ওভারলোডিংয়ের সমাধান আপাতত তিনটি--হয় ওভারলোডিং হতে না দেয়া (ওয়ে স্টেশন বসিয়ে এবং সাথে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সাহায্যে), নয়তো ট্রাকের অ্যাক্সেল বাড়ানো, নয়তো বেশি লোডের জন্য রাস্তা ডিজাইন করা।