কলিং বেল চাপার আগেই ফ্ল্যাটের দরজা খুলে গেলো। খোলা দরজার ফাঁকে দাঁড়িয়ে আছে আমার স্ত্রী সায়মা। এই মেয়েটি কীভাবে যেন প্রতিদিনই আমি বাড়ি ফেরার ঠিক আগ মুহূর্তে টের পেয়ে যায়! ভালবাসার এমন টান আজকের যুগে বিরল! নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে হয় আমার।
কর্মব্যস্ত দিন শেষে বাড়ি ফিরেছি। আজ অফিসে প্রচুর কাজের চাপ গেছে। বড় বেশি ক্লান্ত লাগছে। মাথাটা হ্যাং খেয়ে আছে। মনে হচ্ছে আমি কেমন যেনো একটা ঘোরের মধ্যে আছি।
সায়মা হাসি মুখে আমার গা থেকে কোট খুলে নিল। টাইয়ের নট ঢিলে করে দিল। লিপিস্টিকের আঁচড়ে লাল হওয়া ঠোঁট জোড়ায় অসম্ভব সুন্দর একটা হাসি। নিচু গলায় জিজ্ঞেস করল, “আজ অফিস থেকে ফিরতে এত দেরি হল যে?”
“অনেক কাজ ছিল বউ”। আমি আদুরে গলায় বললাম। “আমাকে এক কাপ চা বানিয়ে দেবে, প্লিজ?”
সায়মা আমার দিকে আরও একবার মধুর হাসি ছুড়ে দিয়ে রান্না ঘরের দিকে এগিয়ে গেল। কি সুন্দর করে হাসে মেয়েটা। তার ঐ হাসির মধ্যে অদ্ভুত- অপার্থিব কিছু একটা আছে যা হাজার পুরুষের রাতের ঘুম হারাম করার জন্য যথেষ্ট।
আমি বেড় রুমে চলে এলাম। কেমন যেন জোম্বিদের মত হাঁটছি আজ।বিছানায় শুয়ে পড়ার আগে স্বস্তি নেই। পকেট থেকে ওয়ালেট বের করে রাখলাম শো-কেসে। গায়ের শার্টটা খুলে এক দিকে ছুড়ে দিলাম। এই কাজের প্রেসার আর নেওয়া যাচ্ছে না। মাঝে মধ্যে ইচ্ছে করে চাকরিটা ছেড়ে দেই! আর কত পারা যায়? সারাদিন ঘরে বউটা একলা থাকে! আর আমি পরের কোম্পানিতে কামলা দিয়ে বেড়াই!
বিছানায় আধ-শোয়া হয়েছি ঠিক তখনই বিদ্যুৎ চমকের মত ব্যাপারটা মাথায় ঢুকল আমার! আমার ঘরে বউ? কিন্তু তা কি করে সম্ভব? এতক্ষন মাথা হ্যাং খেয়ে আছে বলে খেয়াল হয়নি! আমার স্ত্রী সায়মা তো তিন বছর আগে ছাদে কাপড় শুকোতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে মারা যায়! কিন্তু আমি তো বাসায় ফিরে আজ সায়মাকে দেখলাম! এ কোন সায়মা? তবে কি সায়মার আত্মা ফিরে এসেছে আমার কাছে?
পায়ের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি। আতংকের একটা ঢেউ উঠল আমার মেরুদন্ড বেয়ে। সায়মা রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে এদিকে আসছে। সে কি চা বানিয়ে আনছে নাকি অন্য কিছু?
আমি আতংকে কাঁপছি...
পায়ের আওয়াজ একদম কাছে চলে এসেছে...
সায়মারুপী কেউ একজন এখনই বেডরুমের ভেতর ঢুকবে...
আমি বড় বড় নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করলাম। আতংকে চোখগুলো বড় বড় হয়ে গেছে! মনে হচ্ছে ভয়ে বুঝি জ্ঞান হারাবো যে কোন মুহূর্তে।
ভেতরে ঢুকল মেয়েটি। হাতে চায়ের কাপ, মুখের হাসিটা ধরে রেখেছে এখনও। “এই যে নাও তোমার চা”।
আমি কাঁপা কাঁপা হাতে চায়ের কাপটা নিলাম।
মেয়েটির সাথে সব দিক থেকেই সায়মার এত বেশি মিল যে আমি প্রায়ই তাকে সায়মার সাথে গুলিয়ে ফেলি! চা বানিয়ে নিয়ে এসেছে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী মালিহা। আমাদের বিয়ে হয়েছে এক বছর হলো। ইদানিং কি যে হচ্ছে আমার.. কাজের চাপে মাথার ভেতর সব গুবলেট হয়ে যাচ্ছে...
follow @dedicatedjaved