আমার ছেলে # বাস্তব চিত্র

Words
479
Reading
3 min
Listen
Play
9y

আমি খুব রেয়ারলি আমার ছেলের ছবি ফেসবুকে দেই। পারতপক্ষে না দেয়ার চেষ্টা করি। অবশ্য সব সময় সফল হইনা, তাও ট্রাই করি আপলোড না করার। অপরিচিত কেউ তো বটেই পরিচিতদেরও ছেলের ছবি অনুমতি ছাড়া তুলতে দেই না। ফেসবুকে আপলোড কঠিনভাবে নিয়ন্ত্রিত। বাইরে গেলে বা জার্নিতে পারতপক্ষে অন্যদের কোলেও দেই না। এইসব ইস্যু এবং তার প্রেক্ষিতে সামনাসামনি বিভিন্ন সময়ের আলোচনায় আত্মীয়স্বজন, কাজিন,বন্ধুবান্ধব মহল থেকে খবিশ,কাঠমোল্লা, বেয়াদব, অসামাজিক ইত্যাদি নানা রকম টাইটেল আমার অলরেডি পাওয়া হয়ে গেছে। বাট আই রিয়েলি ডোন্ট কেয়ার। পারমিশন ছাড়া আমার ছেলের ছবি আপলোড করা মানে আমার সাথে সম্পর্ক না রাখতে চাওয়া। ইটস ক্রিস্টাল ক্লিয়ার। কিছু ব্যাপার খোলাসা করা জরুরি। আমার স্বার্থে না, জনস্বার্থে, আপনার স্বার্থেই।
গত ১০/২০ বছরে বাংলাদেশের সমাজে খুব র্যাডিকেল কিছু চেঞ্জ আসছে। আমাদের জেনারেশন বা তার পরের জেনারেশন ব্যাপারটা নিয়ে কিছু আন্দাজ করতে পারে। কিন্তু সিনিয়রদের বেশিরভাগের আন্দাজ নাই যে চারপাশ কতটা বদলেছে। আর আমরাও আন্দাজ করে যে বিপ্লব ঘটাব সেইরকম না। জাস্ট অ্যাডজাস্ট করব।
দুইটা ঘটনা বলি। মনোযোগ দিয়া পইড়েন।
ঘটনা১/ বেশকয়েক মাস আগে সকালে ছেলেকে কোলে হাঁটছি। তখন থাকি লক্ষ্মীবাজার। পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কে গিয়ে বসলাম। দুইটা ইয়ং পোলা একসাথে এসে একজনে আমার ছেলের গালে হাত দিয়ে আদর করল। ইন্টিউশন টা ভাল ঠেকল না। আমি অ্যাভয়েড করলাম। দূর থেকে কিছুক্ষন অবজার্ভ করে মনে হল ইয়ং পোলা দুইটা হোমোসেক্সচুয়াল & পার্টনার। এরা আপনার আমার আশেপাশেই থাকে।

image

ঘটনা ২/ ছোট বেলা থেকে আজাইরা যেই বই পাইতাম তাই পড়তাম। শুধুপাঠ্যবই বাদে। পাঠ্য বই তো হাতে পাওয়ার পরে ১০/১৫ দিনেই শেষ। একজিনিস আর কত । তো টিপু কিবরিয়া নামের এক লেখকের বই হাতে আসত মাঝে মধ্যে। সেবা প্রকাশনী থেকে শিশু কিশোরদের জন্য হরর/থ্রিলার লেখত। ভালই লাগত লেখা। ঢাকায় আসার পরে উনার সাথে কাজের সূত্রে মাঝেমধ্যেই দেখা হত। বেশ মাস্তি লোক। উনি ফটোগ্রাফি করতেন। মোটামুটি সিরিয়াসলিই করতেন। আমি তখন একটা ফটো এজেন্সিতে কাজ করি। কাজটা বেশিদিন কন্টিনিউ করি নাই, ফটোগ্রাফিও সিরিয়াসলি নেই নাই। ফলে আর যোগাযোগ থাকেনাই। তার বেশ কয়েকবছর পরে একটা রিপোর্ট আসে প্রায় সব পত্রিকায়। শিশু পর্নগ্রাফির আন্তর্জাতিক চক্রের সাথে জড়িত টিপু কিবরিয়া। ইন্টারপোল থেকে তথ্য প্রমানহাতে পেয়ে প্রায় ৫ হাজার পর্নো আর শত শত ছবি সহ তাকে আটক করে সিআইডি। আই ওয়াজ শকড। আটারলি শকড।
এই দুইটা জাস্ট স্যাম্পল। চাইলে দুই ডজনও লেখা যায়।
বড় ভাই/বোন/আঙ্কেল/আন্টি/আরও যারা আছেন, ব্যাপারটা বুইঝেন। আপনি যেই সময়ে ছিলেন আর এখন যেইখানে আছেন তার মধ্যে কত ফারাক সেইটা নিয়া আপনার আইডিয়া নাই। প্লিজ লেট মি/আস ডিল উইথ ইট। আই নো ইউ ক্যান্ট ডিল। ইউ আর ফিল ফ্রি টু সে এনিথিং বাট আই ওন্ট চেঞ্জ নাইদার ইউ।
দোস্ত/কাজিন/সমবয়সী/জুনিয়র, প্লিজ ডোন্ট ইগনোর। এই সময়ের একটা বাজে অভিজ্ঞতা সাড়া জীবনের জন্য ট্রমা। আর আমি জানি আমার আশেপাশের অনেকেই শৈশবের এইরকম ট্রমা এখনও ভিতরে পালেন। সো বি কেয়ারফুল। আপনার সন্তান/ভাতিজা/ভাগ্নি কারও এমন কিছু হোক তা নিশ্চয়ই চান না।
কাউরে হুদাই ছবি তুলতে দিয়েন না। অপরিচিত কাউরে তো অবশ্যই না। ফেসবুকে আপলোড এর ব্যাপারে কেয়ারফুল। (ফ্ল্যাশ ব্যবহার করে বাচ্চার ছবি তুলবেন না। এইটা ক্ষতিকর।)
আল্লাহ সবাইরে হেদায়েত দাও। তোমার অনুশাসন এবং রাসুলের সুন্নাহ মেনে শিশু লালনপালনের তৌফিক দাও। সবাইরে মাফ কর। আমারেও।

follow dedicatedjaved@dedicatedjaved