মটিভেশন # টীন এজ

Words
534
Reading
3 min
Listen
Play
9y

যে ছেলে মেয়ে দুজনের ছবি শেয়ার দিয়েছি তাদের একাধিক ব্যাচমেট জানিয়েছে এই ছেলেমেয়ে দুটো নিজেরাই অন্যদের যথেষ্ট "স্মার্ট" না হওয়ার কারনে পাবলিক শেইমিং করে।
এরা আন্ডারলায়িং কজ না,এরা স্রেফ আউটকাম।
স্কুল-কলেজের প্রতিটা ব্যাচে কিছু ছেলেমেয়ে থাকে,যারা কোন না কোন কারনে,জীবনে বিপরীত লিঙ্গের সাথে যা ইচ্ছা করতে পারাটাকেই সাফল্যের প্যারামিটার হিসেবে ধরে নেয়।
এই ধরনের ছেলে মেয়ে আগে যে ছিল না তা নয়,আগেও ছিল,কিন্তু আগে এরা এদের কার্যকলাপ পাবলিকলি করার সাহস দেখাতো না,কারন সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন ও মূল্যবোধ তাদের এতে বাধা দিত।
এখন ঢাকার আপটাউনের একটা কালচার দাঁড়িয়ে গেছে এটাই,ক্লাস সেভেন এএইট থেকে ইউনিভার্সিটি ফার্স্ট ইয়ার পর্যন্ত ক্লাসের একটা বড় অংশ মনে করে যে তুমি বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে বিভিন্ন দিবসে সেলফি তুলতে পারলা না,তুমি কারো সাথে অমুক স্পেশাল ডে তে ডেট এবং ক্ষেত্রবিশেষে রুম ডেট করতে পারলা না,মানে তোমার জীবনের যাবতীয় অর্জন বৃথা।
আধুনিক এবং স্মার্ট হতে গেলে অবশ্যই,অতি অবশ্যই তোমাকে প্রতিটা পাবলিক হলিডে সেলিব্রেট করা লাগবে,তোমার জিএফ/বিএফ থাকতে হবে,তোমাকে হ্যাং আউট করতে হবে,মাঝে মাঝে ডেথ মেটাল শুনতে হবে,ফাকে ফোকরে ক্যানাবিস নিতে হবে,ডিজে পার্টি জয়েন করতে হবে,নাহলে তোমার যত যোগ্যতাই থাকুক তুমি কুউল ডুড হতে পারবা না।

image
image source@source

এই বাচ্চাকাচ্চাগুলা,যারা বাংলাদেশের অপরিকল্পিত উন্নয়নের আউটকাম,এদের বেশিরভাগের ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড নাড়াচাড়া দিলে একটা জিনিস পাওয়া যায়,বাবা আঙুল ফুলে কলাগাছ।নব্বই দশক থেকে যে প্রাতিষ্ঠানিক দূর্নীতি গণতন্ত্রের সাথে সাথে ডানা মেলেছিল,সেই দূর্নীতির উপার্জন বাজারে তরল টাকা হয়ে নেমে আসার পর এই টাকার হিসাব রাখা কঠিন হয়ে যায়।
যেই আয়ের উৎস যত অবৈধ,তা ঠিকভাবে খরচ করাও ততই কঠিন।টাকার একটা জ্বালা আছে,টাকা সারাক্ষণ বলে,আমাকে খরচ কর,আমাকে খরচ কর।
এই বাচ্চাদের একটা বড় অংশ বাপের অবৈধ উপার্জন বেহিসাবে খরচ করার যে স্বাধীনতা পায়,সেই স্বাধীনতা থেকেই একটা ড্যাম কেয়ার ভাব নিয়ে বেড়ে ওঠে,যেহেতু বাবা নিজে করাপ্ট,তাই ছেলে মেয়েকে দেয়ার মত কোন নৈতিক ভিত্তি তার থাকে না।তিনি কামিয়ে যান,বাচ্চারা খরচ করে।দিস ইজ দ্যা ইকোনমিক হিস্ট্রি অফ দ্যা লায়ন্স শেয়ার অফ দিস কুউল ডুডস।
এরা নিজেরা তো সমস্যায় থাকেই,সেই সমস্যা এরা লেজকাটা শেয়ালের মত ছড়িয়ে দিতে চায় এদের সহপাঠীদের ভেতর।
আমি এটা করসি মানে তোরেও এটা করতে হবে,কারন আমি মনে করি আমিই স্মার্টনেসের রেফারেন্স।-ঠিক এটা হল এদের এটিটিউড।
ম্যাথ অলিম্পিয়াডে যাওয়া এদের কাছে স্মার্টনেস/কুলনেস না,এদের কাছে সি ল্যাঙ্গুয়েজ শেখা বা নতুন পাচটা বই পড়া স্মার্টনেস না,এদের কাছে ফিজিক্সের এডভান্সড প্রবলেম সলভ করা স্মার্টনেস না।
তাই,এইগুলোতে যেসব ছেলেমেয়ে ভাল,তাদের এরা পাবলিক শেইমিং করে,বুলিইং করে।
এবং যেহেতু এরা যথেষ্ট পম্পের সাথে চলাফেরা করে,তাই সাদামাটা সাধারন ছেলেমেয়েরা সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যানে এদের লাইফ দেখে নিজেদের ইনফেরিওর মনে করে,ভেতরে ভেতরে অনেকেই হতাশায় ভোগে।অথচ ব্যাপারটা হওয়া উচিত ছিল উলটা।
এই যে আনকন্ট্রোল্ড ব্ল্যাক মানি,এইটা হল সব নষ্টের গোড়া।ব্ল্যাক মানি কামানো যেখানে সহজ হয়ে যায়,সেখানে মূল্যবোধের অবক্ষয় সুনিশ্চিত।
এই ছেলেমেয়েগুলাকেই কোনটা স্বাধীনতা দিবস আর কোনটা বিজয় দিবস জিজ্ঞেস করলে গুগল না করে বলতে পারে না,কিন্তু সেলিব্রেশনের সময় এরাই সবার আগে থাকে।আর সবকিছু পরের কথা।
তোমরা যারা স্কুলের ওপরের দিকের ক্লাসে বা কলেজে পড়ো,তোমাদের কাছে অনুরোধ,এদের স্মার্টনেসকে স্মার্টনেস ভেবে ভুল করার কোন প্রয়োজন নাই।যা খুশি তা করতে পারাটাই জীবনে স্মার্টনেস না।
যদি তাই হত,ফুটপাতের হেরোইনসেবীরা হত সবচাইতে বড় স্মার্ট গাই,কুউল ডুড।
এরা এখন তোমাকে পম্প দেখাবে,কয়দিন পর লিটনের ফ্ল্যাটে যাবে,তারপর একসময় দেখবে অসময়ের ভোগবাদে জীবন গড্ডালিকায় ভেসে গেছে,তখন চাইলেও ফিরে পাবে না সোনালি সময়।তখন এরাই ডিপ্রেশনে ভুগবে,ইনসমনিয়াক হবে।
এদের কাছ থেকে তোমাদের স্মার্টনেস শিখতে হবে না।
তুমি যেটায় ভাল,সেটাই ভাল করে করত্র শেখো।সঠিক পথে থাকলে আল্লাহ চাহে তো আজকে জিএফ/বিএফ না থাকায় যারা তোমাদের পাবলিক শেইমিং করে,তারা তোমাকে দেখে আফসোস করবে।

মটিভেশন # টীন এজ | Ecency