কমলা রাজা বধ
মগা থেকে সাতাইশা পালোয়ান হওয়ার পরে মগা আর মগা-বউ এর সংসারে যেন সুখের বাতাস বইতে শুরু করল। তারা এখন মহা আনন্দে রাজবাড়ীতে বসবাস করছে। রাজার গুরুত্বপূর্ণ সভাসদ এখন সাতাইশা পালোয়ান। জরির জামা, কয়েকডজন সুসজ্জিত কামরা, জনা ছয়েক দাস-দাসী, আর অফুরন্ত ভোগবিলাসের মাঝে দিনে দিনে মগার ভুরিটা যেন আরো বেড়ে চলতে থাকল। জীবন কখন কাকে কোথা থেকে যে কোথায় নিয়ে যেতে পারে তা আজকাল মগা ভেবে কুলকিনারা করতে পারে না।
ঠিক এমন সময় মগার জীবনে ঘটল আরেক চাঞ্চল্যকর ঘটনা।
তখনকার দিনে রাজাদের নিজের রাজ্যের বাইরেও কিছু করদ রাজ্য অধিকারে থাকত। সেই করদ রাজ্যকে দিতে হত মোটা অংকের কর। বিনিময়ে রাজা দিতেন রাজ্যের নিরাপত্তা। এমনি এক প্রতিবেশী রাজ্য হলো কমলা রাজ্য। তো সেই রাজ্যের রাজার দেওয়া গেল কলমা রাজা, যিনি পালোয়ানের রাজ্যকে কর দেওয়া হঠাৎ করেই বন্ধ করে দিল তো দিলই সাথে সাথে যুদ্ধ ঘোষনা করল।
সেদিন রাজসভায় এসব নিয়েই আলোচনা চলছিল। হঠাৎ সভাসদদের একজন বলে উঠল,
"রাজার চিন্তার কিছু নাই। একবার সাতাইশা পালোয়ানকে পাঠিয়ে দিলেই হয়। কলমা রাজা ভয়েই যুদ্ধ বন্ধ করে দিবে। সুরসুর করে করটাও দিয়ে দিবে।"
রাজা ভেবে দেখল ঠিকই তো কলমা রাজাকে বধ করার জন্য হাজার হাজার সৈন্য পাঠানোর কি দরকার, পালোয়ানকে পাঠালেই তো ল্যাঠা চুকে যায়। তিনি তক্ষুনি হুকুম জারি করলেন যে, সাতাইশা পালোয়ান কালকেই যাবে কমলা রাজ্যে, কলমা রাজাকে বধ করতে।
হুকুম শুনে মগা বরাবরের মতই বিচলিত হয়ে পড়ল। যাই হোক সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে সে বউকে বলল,
"সুখের দিন বুঝি ফুরালোরে বউ। কলমা রাজাকে বধ করতে হবে। কালকেই আমি রওনা দেব কমলা রাজ্যে।"
বউ বলল,
"ওমা সেকি কথা। কলমা রাজ্যে যেতে হবে কালকেই। শুনেছি কমলা রাজা খুবি খারাপ লোক।"
মগা বলল,
কি বললি, কমলা রাজা। হা হা হা হা......
কমলা নয় কলমা রাজা, কলমা রাজা....
বউ বলল,
হুম, আমিত তাই বললাম।.... কমলা রাজা...!
মগা তো হেসেই খুন। সে এবার পাশের টেবিল থেকে একটা কমলা তুলে ধরে বউকে বলল,
কি এটা?
বউ বলে,
কেন? কলমা!?
মগা বলল,
আচ্ছা! এই তাহলে ঘটনা। তুই কমলা-কে বলিস কলমা আর কলমা-কে বলিস কমলা... হে হে হে....!
এই কষ্টের সময়েও মগা না হেসে থাকতে পারল না।
যাই হোক, পরদিন সকালে মগা আর তার বউ গরুর গাড়িতে চড়ে রওনা দিল কমলা রাজাকে বধ করার জন্য। মগাবউ আঁচলে বেধে নিল কয়েকটা কমলা। পথে খাবার জন্য।
বিকাল হয় হয় তখন। অইত দুরেই দেখা যাচ্ছে কলমা রাজার প্রাসাদ। মগা গরুর গাড়িটা আরো জোরে ছুটিয়ে দিল।
ওদিকে কলমা রাজা সেই বিকেল বেলায় প্রাসাদের একটু বাইরে পথের ধারেই তার ব্যাক্তিগত পায়খানায় বিষয় করতে বসেছেন। হঠাৎ তিনি শুনলেন একটা গরুর গাড়ির শব্দ। গাড়িটা থামল কাছেই।
অন্যদিকে, প্রাসাদটার কাছে আসতেই মগাবউএর আঁচল থেকে কয়েকটা কমলা পড়ে গেল।
মগাবউ চেচিয়ে উঠল,
"সাতাইশা পালোয়ান এখানেই থাম, কলমা ধরো। গেল গেল গেল.....কলমা ধরো...."
এই শুনে মগা গাড়িটা থামিয়ে দিল সেখানেই। কমলাগুলো কুড়িয়ে আনতে হবে। বউ এর কমলা আর কলমা বলার কথাটা মনে হল ওর। হাসিও পেল একটু।
যাই হোক, মগা গরুর গাড়ি থেকে নামল। সে বউকে হেসে উত্তর দিল,
দাঁড়াও এখনি কলমা ধরছি। হে হে....
কলমা রাজা পায়খানায় বসেই স্পষ্ট শুনতে পেলেন। কে যেন বলছে সাতাইশা পালোয়ানকে কলমা ধরতে। এই পালোয়ানের নাম সে শুনেছে বহুবার। ভয়ে তার বিষয় বন্ধ হয়ে গেল। ভয়ে কাপতে কাপতে সে বেরিয়ে এল। বাইরে এসে কলমা রাজা দেখল মগা পালোয়ান তার সামনে। তাড়াতাড়ি পায়ে পড়ে গেল মগার। অনেক অনুনয়-বিনয় করে সে নিজের প্রান ভিক্ষা করল মগার কাছে।
মগা তক্ষুনি ব্যাপারটা ধরতে পারছিল না। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই বুঝে ফেলল ব্যপারটা। তাই দাবি করল একশ গুন কর। আর মহারাজের প্রতি বশ্যতা। কলমা রাজা মেনে নিল মগার প্রস্তাব।
একশগুন কর আর কলমা রাজার যুদ্ধ বন্ধ এবং বশ্যতার স্মারকপত্র নিয়ে মগা আর মগা বউ নাচতে নাচতে নিজেদের রাজ্যে ফিরে চলল।
হঠাত মগা বলে উঠলে,
বউ বলত 'কলমা রাজা'?
বউ বলল,
কলমা রাজা!!
হে হে হে....
সমাপ্ত।
Thank you for stopping by!