সাতাইশা পালোয়ানের বীরত্ব গাঁথা। রুপকথার গল্প। পর্ব-১

Words
457
Reading
3 min
Listen
Play
5y

আজকের গল্পটা একটু ভিন্ন স্বাদের। রুপকথাও বলতে পারেন আবার ঠাকুমার ঝুলি টাইপও বলতে পারেন। দাদির কাছে অনেক বছর আগে শুনেছিলাম গল্পটা। আশাকরি আপনাদেরও ভালো লাগবে।
তো শুরু করা যাক।

অচিনপুর রাজ্যের একটা ছোট্ট গ্রাম ধরলা। এই গ্রামে বাস করে মগা নামের এক বোকাসোকা লোক। তার মত কুঁড়ে এ রাজ্যে আর খুজে পাওয়া যায় না। দেখতে নাদুসনুদুস আর তার বিশাল ভুরির কথা আর নাইবা বললাম। তবে মগার বউ একজন ভালো মানুষ আর বুদ্ধিমতী মহিলা। মগা তো কিছুই করতে পারে না। খাবার একবেলা জোটে তো অন্য বেলার হিসাব নাই। বউটা এবাড়ি ও বাড়ি ঝিএর কাজ করে যা পায় তাই খেয়ে কোনমতে দিন চলে যাচ্ছিল।

img_0.04882008923112039.jpg

Source

সেদিনও একটু ভাতের ফ্যান জোগাড় করে এনেছিল বউটা। মগা তখন ঘরে বসে ছিল। ফ্যানটুকু দেখে মগার পেটের ক্ষুধা রাক্ষসটা কেমন খাম খাম শুরু করে দিয়েছে। বউটা বাইরে কি যেন কাজ করছিল। ঘরে এসে দেখল মগা ফ্যানটুকু সাবাড় করে দিয়েছে। তার গালে তখনো লেগে আছে ফ্যানের কিছুটা।

ঘটনা দেখে মগাবউ তো রেগেই আগুন। এত কষ্ট করে সে সারাদিন আর মগা তো কিছুই করে না। ফ্যানটুকু সে এনেছিল দুজনের জন্য কিন্তু একাই সাবাড় করে দিল মিনসেটা। খানিক গালাগাল আর বকাবকি করল সে মগাকে। বেচারা মগা অলস আর বোকাসোকা হলে কি হবে, তার মনটা ছিল ভীষন নরম। বউএর কাছ থেকে এমন গালাগাল খেয়ে বেচারার মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেল।

ব্যাথিত মনে সে বারান্দায় এসে বসল। চোখজোড়া তার ভিজে আসছে। গালে লেগে থাকা ফ্যান ততক্ষনে চটচটে হয়ে গেছে। চোখের জল কিছুটা গড়িয়ে পড়তে পড়তেও যেন পড়ছে না। কোত্থেকে যেন একঝাক মাছি এসে ভনভন করছিল মগার গালে। বিরক্ত আর কষ্টে হঠাৎ মগা নিজের গালে নিজেই সজোরে এক চড় কষে। চটাস করে ভীষণ একটা শব্দ হয়। মছিও কয়েকটা মরে সেই চড়ের সাথে।

মগাবউ তখন ছিল ঘরের ভেতর। হঠাৎ এমন চটাস শব্দ শুনে তার পিলে চমকে যায়। কষ্টে আর মনের ব্যাথায় না মগাটা আবার ঠাস করে বারান্দায় পড়েই গেল বুঝি। তাড়াতাড়ি বাইরে এসে সে দেখল এক তাজ্জব ব্যপার, মগা বহাল তবিয়তেই বসে আছে বারান্দায় কিন্তু তার গালে লেগে থাকা ফ্যানে কালো কালো বেশ কিছু মাছি মরে লেগে আছে।

মগাবউ গুনে দেখল সাতাশটা। সে তো তাজ্জব বনে গেল। আর সাথে সাথে তার মাথায় একটা বুদ্ধিও খেলে গেল। সে সারাপাড়া চেচিয়ে মাথায় তুলে ফেলল, মগা এক থাপ্পড়ে সাতাশটা জানোয়ার মেরেছে।

একান অকান করে কথাটা দু'দশ গ্রামে ছড়িয়ে পড়ল। আর মগার নাম রটে গেল সাতাইশা পালোয়ান। তার মগা নামটা আস্তে আস্তে লোকে প্রায় ভুলেই গেল। পালোয়ান বলে কথা লোকে তাকে ভয় ভক্তি করতে শুরু করল। আর তাদের কষ্টের দিন বুঝি ফুরোতে চলল।

এমন সময় ঘটল এক ঘটনা, পাশের বন থেকে এক বাঘ প্রায় প্রতিদিনই গ্রামে ঢুকে গৃহস্থ বাড়ি থেকে গরু-ছাগল টেনে নিয়ে যেতে থাকল। লোকেরা এই বাঘের অত্যাচারে থাকতে না পেরে সবাইমিলে সাতাইশা পালোয়ানের কাছে আসল। বাঘটাকে তাকে মারতেই হবে।

একথা শুনে বেচারা মগার তো ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। বউকে সে বলে, আমাকে তো পালোয়ান বানালি এবার তো দেখি বাঘের পেটেই না মরতে হয়।

চলবে...

সাতাইশা পালোয়ানের বীরত্ব গাঁথা। রুপকথার গল্প। পর্ব-১ | Ecency