ধর্ম কি?ধর্ম কি শুধু একটি প্রথাগত আনুষ্ঠানিক রীতিনীতি?না ,ধর্ম একটি স্বতন্ত্র গুন যা সেই ব্যক্তি বস্তু বা বিষয়ের প্রকৃত পরিচয়।আগুনের ধর্ম পোড়ানো,মানুষের ধর্ম মনুষ্যত্ব।অর্থাৎ ধর্মের অর্হ যা কিছু ধারণ করা।একজন মানুষ দাবি করার জন্য আমাদের যে গুণটি অবশ্য প্রয়োজন সেটা হলো মানুষের প্রতি মমতা ভালোবাসা ও সর্ব জীবের প্রতি সহানুভূতি।
এই ধর্ম সম্পর্কে একটি সুন্দর কাহিনী প্রচলিত।সেই গল্পটি আমি আজকে share করতে চাই।গল্পটি একজন সাধুর আত্ম উপলব্ধির গল্প।
একদিন সন্ধ্যার প্রাক কালে এক সাধু নদীর তীরে সবে ঈশ্বরের ধ্যান করছিলেন।সাধুদের মন সর্বদা ঈশ্বরের চিন্তা ও মানব হিতে নিমগ্ন থাকে।এ রকমই ঈশ্বর চিন্তায় মগ্ন হয়ে সাধু টি নদীর তীরে বসে ছিলো।হঠাৎ একসময় খেয়াল করলো একটি বড় পিঁপড়া নদীর জল থেকে কুলে উঠার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে।কিন্তু বারবার বর্থ্য হচ্ছে।এই ঘটনা দেখে সাধু টির পিঁপড়াটির প্রতি খুবই দয়া হলো।সে নিজের আঙ্গুল প্রসারিত করলো এবং পিঁপড়ে টিকে ডাঙায় তুলতে গেল।যখনই সে পিঁপড়ে টিকে ডাঙায় নামতে গেল পিঁপড়ে টিও একটি কামড় বসিয়ে দিলো সাধুর আঙুলে ।দারুন যন্ত্রনায় সাধুটি কাতরে উঠলো আর তৎক্ষণাৎ পিঁপড়েটিকে জলে ফেলে দিলো।সে পিপড়ে টিকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিল আর খারাপ পিঁপড়ে তাকেই কামড়ে দিলো।সাধুটি পিঁপড়ে কে খুবই অভিসম্পাত করলো এবং এই অকৃতজ্ঞ পিঁপড়েটিকে আর সাহায্য করবে না মনস্থির করলো।
কিন্তু সাধুর মন নরম ও দয়াপরবশ।পিঁপড়ে টির জলে আবার বাঁচার প্রয়াস দেখে সাধুটির আবার করুণা হলো।তাই সাধুটি আবার পূর্বের ন্যায় পিঁপড়ে টিকে বাঁচানোর চেষ্টা করলো কিন্তু পিঁপড়ে ও তার কামড়ানোর পুনরাবৃত্তি করলো।এতে সাধু ভীষণ চোটে গেল ।
Image
কিন্তু কিছুক্ষণ পর সাধু শান্ত হয়ে গেল।একটি চিন্তা তার মনে ঝড় তুললো।এক সময় সে হায় হায় করে উঠলো।বললো,'এ আমি কি করছি।আমি মানুষ হয়ে মানুষের ধর্মের বিরুধ্যে কাজ করছি।পিঁপড়ের ধর্ম কামড়ানো।তাই সেটা সে বারবার করে চলেছে।আর আমি নিজে ধর্ম পালন করছি না!এই মুহূর্তে পিঁপড়ে টিকে বাঁচানোই আমার একমাত্র ধর্ম।
এরপর সাধুটি পিঁপড়ে টিকে ডাঙায় তুললো আর মানব ধর্ম পালন করলো।