Image
সত্যজিৎ বাংলা চলচ্চিত্র ও সাহিত্যে এক অবিস্মরণীয় নাম।লেখালেখি একটু দেরিতে শুরু করলেও তার গল্প ও সাহিত্যকর্মের প্রাচুর্য রয়েছে।আর বিশ্বের কাছে বাংলা ভাষা ও চলচ্চিত্র কে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।এ কথা অনস্বীকার্য যে তিনি সর্বকালের সেরা একজন ভারতীয় চিত্র পরিচালক।সারা বিশ্বের মধ্যেও তিনি একজন অসাধারণ পরিচালক।অনেক বিখ্যাত পরিচালক এ কথা স্বীকার করে নিয়েছেন যে তিনি বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পরিচালক।
ওনার প্রথম চলচিত্র বাংলা ও ভারতীয় সিনেমা ইতিহাসে এক মাইলফলক।সিনেমা যে এমন বাস্তব ও প্রাণবন্ত হতে পারে তিনি সেটা করে দেখিয়েছেন।যদিও এই সিনেমাটা করতে উনার সাড়ে তিন বছর লেগে গিয়েছিল ।আর্থিক সংক্রান্ত কারণে এতদিন লেগে গেছিল এই সিনেমাটি শেষ করতে।
তবে আজকে ওনার সিনেমা নয় লেখা নিয়ে আলোচনা করবো।অন্য কোনো দিন সিনেমা নিয়ে আলোচনা করা যাবে ।ফেলুদা প্রফেসর শাঙ্কু ও তারিণী খুড়োর মতো চরিত্র সৃষ্টি করে তিনি বাঙালি পাঠকের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন।তবে আজকে গোয়েন্দা ফেলুদা কিংবা বিজ্ঞানী প্রফেসর শঙ্কু কে নিয়ে নয়,তার লেখা অসংখ্য ছোট জনপ্রিয় গল্পের মধ্যে একটি গল্প নিয়ে আলোচনা করবো।
Image
গল্পটির নাম "অনুকূল "।এই গল্পটিকে কল্পবিজ্ঞান বলে সঠিক বলা হবে।সত্যজিৎ রায় যে কতটা দূরদর্শী মানুষ ছিলেন সেটা এই গল্প টা পড়লে বোঝা যায়।এখানে অনুকূল একটি যান্ত্রিক মানুষ ।এক রোবট কোম্পানি ধনী পরিবারে এই যান্ত্রিক চাকর ভাড়া দেন।এই যান্ত্রিক মানুষ অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার অধিকারী।
এই গল্পে যন্ত্র মানুষের ও যে অনুভূতি আছে তা লেখক দেখিয়েছেন।মালিক আর্থিক অনটনে তাকে আর রাখতে অপারগতা প্রকাশ করে।যন্ত্র মানব তার মালিকের প্রেমে পড়ে তার কাছে থাকার ইচ্চায় এক অভিনব ভাবে মালিকের অর্থাভাব দূর করে।
এইযে যন্ত্র ও রক্ত মাংসের যে মেলবন্ধন লেখক দেখিয়েছেন তা সত্যিই অনবদ্য।
বি :দ্রঃ এই গল্পটি আনন্দ পাবলিশার্স এর আরো সত্যজিৎ সংকলন এ লিপিবদ্ধ।