আধুনিকায়নের ফলে পৃথিবীর সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে মহাকাশেও বাড়ছে বর্জ্যের পরিমাণ। বর্তমানে নভোচারীদের জন্য সবচেয়ে দুশ্চিন্তার কারণ মহাকাশযানের এইসব ধ্বংসাবশেষ। মানবজাতির মহাকাশ জয়ের স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হওয়ার পর থেকে মনুষ্যনির্মিত বহু যন্ত্র আমাদের পৃথিবী ছেড়ে মহাকাশে বিচরণ করছে। বিভিন্ন ধরনের স্যাটেলাইট প্রতিনিয়ত প্রদক্ষিণ করছে আমাদের পৃথিবী কে কেন্দ্র করে। কিন্তু এসব স্যাটেলাইটের মেয়াদকাল শেষ হবার পর তা পরিণত হচ্ছে মহাকাশ বর্জ্যে। যে এসব বর্জ্য ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযাত্রার জন্য অত্যন্ত বিপদজনক।
পৃথিবীর কক্ষপথ ক্রমেই হাজার হাজার স্যাটেলাইটে ঘিঞ্জি হয়ে উঠেছে। এবং প্রতিনিয়তই আরো নতুন নতুন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা চলছে। কিন্তু মহাকাশে থাকা পুরনো রকেটের বিভিন্ন অংশ কিংবা কৃত্রিম উপগ্রহের ভগ্নাংশ প্রবল বেগে অনিয়ন্ত্রিতভাবে পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে। রকেট বা স্যাটেলাইটের সঙ্গে এসব বর্জ্যের সংঘর্ষ লাগার সম্ভাবনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। মহাকাশের বর্জ্য সমস্যা পর্যবেক্ষণ ও সমাধান করতে অরবিটাল ডেব্রিস প্রোগ্রাম অফিস বা ODPO নামে নাসার একটি বিশেষ শাখা রয়েছে। তাদের পর্যবেক্ষণ থেকে জানা যায় টেনিস বলের সমান প্রায় 20,000 বর্জ্য পৃথিবীর আশেপাশে ঘুরছে। এসব বর্জ্যের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২৮ হাজার কিলোমিটার। এছাড়া প্রায় 5 লক্ষ মার্বেলের সমান এবং 10 কোটিরও বেশি অতিক্ষুদ্র আবর্জনা রয়েছে মহাকাশে। পৃথিবীর চারদিকে ঘুরতে থাকা আবর্জনার মধ্যে যেগুলোর আকার 10 সেন্টিমিটারের বেশি সে গুলোকে শনাক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস সার্ভেইলেন্স নেটওয়ার্ক। মহাকাশ নিরাপত্তার স্বার্থে অপেক্ষাকৃত বড় আকারের আবর্জনার অবস্থান সব সময় পর্যবেক্ষণ করা হলেও অতিক্ষুদ্র অনেক বর্জ্য রয়েছে যাদেরকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়।
শুধু বর্জ্যই নয় ক্রমবর্ধমান কৃত্রিম উপগ্রহও আমাদের পৃথিবীর চারপাশের মহাকাশকে বিপদজনক করে তুলেছে। 2009 সালে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার দুটি স্যাটেলাইট এর মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। স্যাটেলাইট দুইটি ঘণ্টায় 42 হাজার কিলোমিটার গতিবেগে একে অপরের সাথে ধাক্কা খায়। এবং এই বিপর্যয়ের ফলে প্রায় 2 হাজার বর্গ সৃষ্টি হয়। এসব বর্জ্য পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে প্রদক্ষিণ করছে। এসব বর্জ্যের আশেপাশে পৃথিবীর নিম্নকক্ষ পথে রয়েছে আরও প্রায় কয়েক হাজার কৃত্রিম উপগ্রহ ও আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন।
মহাকাশে আবর্জনা সৃষ্টি বা এন্টি স্যাটেলাইট মিসাইল পরীক্ষা সংক্রান্ত কোনো আইন-কানুন না থাকায় পরাশক্তি ধর দেশগুলো মহাকাশের পরিবেশ কে আরো বিপদজনক করে তুলছে। মহাকাশ বর্জ্যের সমস্যা মোকাবেলা করা মানব জাতির জন্য সবচেয়ে বড় পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ। পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে আবর্জনা দূর করতে 2025 সালে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি তাদের প্রথম মহাকাশ অভিযান শুরু করবে। এক ধরনের বিশেষ জলের সাহায্যে মহাকাশ থেকে বর্জ্য গুলোকে সংগ্রহ করে নানা উপায়ে সেগুলোকে পৃথিবীর বলয় থেকে সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।