আমাদের জীবন যেন একটি নৌকা বাঁধা ঘাট.. আমরা সেই ঘাটে বসে আছি.. পারাপারের অপেক্ষায়। যে কোন সময় আসবে ডাক.. মাঝি এসে নৌকা ছেড়ে দেবে.. আমাদেরকে নিয়ে যাবে অন্য পাড়ায়।
নদীর অন্যপাড়ে কি আছে.. আমরা জানি না। হয়তো কিছুই নেই.. শুধু শূন্য মাঠ, ধু ধূ বালি.. অথবা হয়তো সবই আছে।
আমাদের জীবন যেন একটা অপেক্ষা.. পারাপারের জন্য অপেক্ষা। লালন ফকির এই অপেক্ষাটা খুব বেশি অনুভব করতেন.. তাই তিনি লিখেছিলেন:
আমি অপার হয়ে বসে আছি
ওহে দয়াময়
পারে লয়ে যাও আমায়।
প্রায় একই ধরনের অনুভব আমরা পেয়েছি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোনার তরী কবিতায়.. কবি লিখেছিলেন:
এতকাল নদীকূলে
যাহা লয়ে ছিনু ভুলে
সকলি দিলাম তুলে
থরে বিথরে-
এখন আমারে লহ করুণা করে।
(সোনার তরী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লালনের মতই নৌকার মাঝিকে পারাপারের জন্য অনুরোধ করছেন.. অথচ বাস্তব জীবনে আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নৌকাটার কথা ভুলে যাই। আমরা ভুলে যাই যে- আমরা একটা ঘাটের পাশে আছি.. যেকোনো সময় আমাদেরকে অন্যপারে চলে যেতে হবে.. যে পার সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না.. সেখানে কি আছে.. আমাদের জন্য কি অপেক্ষা করছে?
আমরা এই ক্ষণস্থায়ী ঘাটের পারকে চিরস্থায়ী ভেবে বসে থাকি.. এর জমি দখল করার জন্য লাঠালাঠি করি.. মারামারি করি.. একজনের মাথা ফাটাই.. দিন শেষে আমাদেরকে শূন্য হাতে চলে যেতে হয়।
লালনের গানে এবং রবীন্দ্রনাথের কবিতায় অনুপ্রাণিত হয়েই ছবিটা এঁকেছি। জীবনকে অনুভব করতে চেয়েছি রঙের তুলিতে।
আমি কাব্য, কর্মের সন্ধানে নিয়োজিত এক স্বপ্নবাজ তরুণ। মূলত কবিতা লিখতে ভালোবাসি। দীর্ঘদিন ধরে কাব্যচর্চা করছি। পাশাপাশি সাহিত্যের অন্যান্য শাখায়ও বিচরণ করি। পড়তে ভালো লাগে। আর ভালো লাগে ছবি আঁকতে। পারি বা না পারি, মনের আনন্দে আকি।