This content got low rating by people.

অসম্ভব প্রতিভাধর একজন বুদ্ধিজীবীর কথা..

Words
491
Reading
3 min
Listen
Play
6y

বাংলাদেশের পর্যটন নগরী বলে খ্যাত কক্সবাজার জেলার একটি দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী। এটি বাংলাদেশের একমাত্র দ্বীপ যেখানে পাহাড় আছে। সাধারণত প্রাকৃতিক কারণে ছুটির দিনগুলোতে পাহাড় থাকে না। কিন্তু মহেশখালী এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম।

এই মহেশখালী দ্বীপে জন্মগ্রহণ করেছেন আমার একজন প্রিয় মানুষ। প্রিয় হওয়ার পেছনে মূল কারণ হলো তার অসাধারণ বাগ্মিতা ও পাণ্ডিত্য.. যা বরাবরই আমাকে দারুণভাবে মুগ্ধ করে। আজ তার জন্মদিন।

images (11).jpeg

হ্যাঁ, আপনি ঠিকই ধরতে পেরেছেন। তিনি হলেন এদেশের জ্ঞানতাপস অধ্যাপক ডঃ সলিমুল্লাহ খান। ১৯৫৮ সালে আজকের দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

মহেশখালী যেমন দ্বীপ সমূহের মধ্যে ব্যতিক্রম.. তেমনি এদেশের বুদ্ধিজীবীদের মধ্যেও ব্যতিক্রম স্যার সলিমুল্লাহ খান। বর্তমান সময়ে বুদ্ধিজীবী শব্দটা একটা গালি হয়ে গেছে.. যে কারণে স্যার সলিমুল্লাহ খান বলেন,

বিবেকের তাড়নায় আমি কখনও সুশীল হতে পারব না।

তিনি কি রকম ব্যাতিক্রম.. একটু ব্যাখ্যা করে বলি। দ্বীপ যেরকম বিচ্ছিন্ন থাকে জনপদ থেকে.. তেমনি এ দেশের সুশীল সমাজ এবং বুদ্ধিজীবীরাও জনবিচ্ছিন্ন। এই জনবিচ্ছিন্ন অসংখ্য দ্বীপের মাঝে মহেশখালীর মত সলিমুল্লাহ খানও পাহাড়-সম নিজস্ব ব্যক্তিত্ব এবং স্বাতন্ত্র্য নিয়ে দীপ্তমান।

তিনি যখন টকশোতে আসেন.. তখন তার আশেপাশের অন্যদেরকে শুধুমাত্র নির্বাক হয়ে বসে থাকতে এবং মাঝে মাঝে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়তে দেখা যায়। কারণ তিনি যেভাবে রেফারেন্স দিয়ে প্রত্যেকটা লাইন বলেন.. তার সাথে দ্বিমত পোষন করার মতো জ্ঞানের গভীরতা কিংবা ক্ষুরধার যুক্তি অন্য কারো থাকে না।

তার টক শো গুলি যখন দেখি.. তখন মনে হয় টকশো বস্তুতঃ তাদের মত ব্যক্তিদের জন্যই এসেছে! কিন্তু আমাদের দেশে কতিপয় আনারী এবং কথিত বুদ্ধিজীবীর হাতে পরে টকশো গুলি এমন এক বিরক্তিকর প্রোগ্রাম হয়ে দাঁড়িয়েছে যে.. সেখানে ঝগড়া এবং তেলবাজি ছাড়া অন্য কিছু হয় না।

বাংলাদেশে বর্তমানে জীবিত যে কয়জন বুদ্ধিজীবী রয়েছেন, তাদের মধ্যে সলিমুল্লাহ খানকে আমি সবচাইতে বেশি পড়াশোনা জানা ব্যক্তি বলে মনে করি। তিনি আহমেদ সফার একজন বড় ভক্ত। তিনি যখন কথা বলেন... তখন আমি যেন আহমদ ছফাকে খুঁজে পাই তার মাঝে। আহমদ ছফা কে ছিলেন এবং কি ছিলেন... এটা নিয়ে আরেকদিন লিখবো। তাঁর রচনায় আহমেদ ছফার প্রভাব দেখা যায়।

তিনি ৭১ টিভির একটি টকশোতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যন্ত বিতর্কিত এবং বিতাড়িত ভিসি আনোয়ার হোসেন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক প্রধান জনাব আবদুল মান্নানের সঙ্গে একসাথে বসে বলেছেন,

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিজেরাই আদব কায়দা শিখে নাই।

images (10).jpeg

এরকম অপ্রিয় সত্য কথা মুখের উপর বলে দেয়ার দুঃসাহস ছিল আহমদ ছফার.. বর্তমান সময়ে আছে একমাত্র স্যার সলিমুল্লাহ খানের।

গণতন্ত্র নিয়ে এক আলোচনায় তিনি বলেছিলেন:

আমরা যেটা মুখে ডেমোক্রেসির কথা বলি, আমেরিকা কিংবা ইউরোপীয় দেশগুলোতে কি সেই ডেমোক্রেসি আছে? ইংল্যান্ডে একদিকে ডেমোক্রেসি, অন্যদিকে রানি আছে। অথচ রাজতন্ত্র এবং গণতন্ত্র সম্পূর্ণ বিপরীত! সেখানে আছে হাউস অফ লর্ডস.. অথচ তারাই পৃথিবীতে গণতন্ত্রের কথা বলে! আবার আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা ওয়াশিংটনকে রাজা হওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল.. তিনি সেটি গ্রহণ না করে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন.. তাই সেখানে রাজতন্ত্র টিকে নি। কিন্তু সেখানে যেটি আছে.. সেটি রাজতন্ত্রের চেয়েও খারাপ। রাশিয়ানরা বোকা, তাই তারা একদলীয় কমিউনিজম গ্রহণ করেছে.. আমেরিকা চালাক জাতি, তাই তারা দ্বিদলীয় গণতন্ত্র শাসনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করেছে। পৃথিবীর যতগুলো গণতান্ত্রিক দেশ দেখবেন.. সবগুলো হয় দ্বিদলীয় ব্যবস্থা অথবা আড়াই দলীয় ব্যবস্থা বিদ্যমান। এটাই কি প্রকৃত গণতন্ত্র? আমেরিকাতে সিনেট আছে.. সিনেট হল হাউজ অব লর্ডস এর আরেকটি রূপ। তাহলে আপনি কিভাবে গণতন্ত্রের কথা বলেন?

এ অসাধারণ ব্যক্তির জন্মদিনে শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।

অসম্ভব প্রতিভাধর একজন বুদ্ধিজীবীর কথা.. | Ecency