This post is from a low-reputation account and contains an unverified outbound link. Be cautious before clicking external links.

রাজিয়া খাতুন চৌধুরাণী, রামনিধি গুপ্ত ও রুদ্র গোস্বামীর কবিতা

Words
314
Reading
2 min
8y

 চাষী – রাজিয়া খাতুন চৌধুরাণী 

 সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা,
দেশ মাতারই মুক্তিকামী, দেশের সে যে আশা।
দধীচি কি তাহার চেয়ে সাধক ছিল বড়?
পুণ্য অত হবে নাক সব করিলে জড়।
মুক্তিকামী মহাসাধক মুক্ত করে দেশ,
সবারই সে অন্ন জোগায় নাইক গর্ব লেশ।
ব্রত তাহার পরের হিত, সুখ নাহি চায় নিজে,
রৌদ্র দাহে শুকায় তনু, মেঘের জলে ভিজে।
আমার দেশের মাটির ছেলে, নমি বারংবার
তোমায় দেখে চূর্ণ হউক সবার অহংকার। 

.

 নানান দেশে নানান ভাষা – রামনিধি গুপ্ত 

 নানান্ দেশে নানান্ ভাসা (ভাষা)
বিনে স্বদেশীয় ভাসে পূরে কি আশা ?
কত নদী সরোবর,
কি বা ফল চাতকীর |
ধরাজল বিনে কভু ঘুচে কি ত্রিষা (তৃষা) ? 

.

 আসিবে হে প্রাণ কেমনে এখানে –  নিধু বাবু

 আসিবে হে প্রাণ কেমনে এখানে |
ননদী দীরুণ অতি, আছে সে সন্ধানে ||
রাখিতে পরাণ মোর, আমি নাহি পারি আর |
পিরীতে এই সে হ’লো সংশয় জীবনে || ১ ||
মদন রোদন করে, বিরস দেখিয়ে মোরে |
লাজ ভয় কাল সম দয়া নাহি জানে || ২ ||
নিদয় বিধাতা যারে, সদয় কে হয় তারে |
আমার উপায় ইথে হইবে কেমনে || ৩ ||
ধিক্ ধিক্ নারীগণে, মিলয়ে পুরুষ সনে |
কুল তেয়াগিতে নারে, মরে মন মানে || ৪ || 

.

 ঘর – রুদ্র গোস্বামী 

 মেয়েটা পাখি হতে চাইল
আমি বুকের বাঁদিকে আকাশ পেতে দিলাম।

দু-চার দিন ইচ্ছে মতো ওড়াওড়ি করে বলল,
তার একটা গাছ চাই।
মাটিতে পা পুঁতে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম।
এ ডাল সে ডাল ঘুরে ঘুরে ,
সে আমাকে শোনালো অরণ্য বিষাদ।তারপর টানতে টানতে
একটা পাহাড়ি ঝর্ণার কাছে নিয়ে এসে বলল,
তারও এমন একটা পাহাড় ছিল।
সেও কখনো পাহারের জন্য নদী হোতো।আমি ঝর্ণার দিকে তাকিয়ে মেয়েটিকে বললাম,
নদী আর নারীর বয়ে যাওয়ায় কোনও পাপ থাকে না।সে কিছু ফুটে থাকা ফুলের দিকে দেখিয়ে
জানতে চাইল,
কি নাম ?
বললাম গোলাপ।দুটি তরুণ তরুণীকে দেখিয়ে বলল,
কি নাম ?
বললাম প্রেম।তারপর একটা ছাউনির দিকে দেখিয়ে
জিজ্ঞেস করলো,
কি নাম ?
বললাম ঘর।এবার সে আমাকে বলল,
তুমি সকাল হতে জানো ?
আমি বুকের বাঁদিকে তাকে সূর্য দেখালাম ।