This post is from a low-reputation account and contains an unverified outbound link. Be cautious before clicking external links.

মুহম্মদ জাফর ইকবাল, যতীন্দ্রমোহন বাগচী ও যোগীন্দ্রনাথ সরকার এর কবিতা

Words
646
Reading
3 min
8y

 সন্ত্রাসীদের প্রথম পাঠ - মুহম্মদ জাফর ইকবাল 

অ অজ্ঞান পার্টি অজ্ঞান পার্টি আসছে ঐ
আ আগুন আগুন দেব আন বই।
ই ইভ টিজিং ইভ টিজিং ভারি মজা
ঈ ঈর্ষা ঈর্ষা করা কত সোজা।
উ উত্তম মধ্যম উত্তম মধ্যম খেতে চাও
ঊ ঊর্ধ্বশ্বাস ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে যাও।
ঋ ঋণ খেলাপি ঋণ খেলাপি সবার সেরা
পুরো দেশ ছ্যাড়া ভ্যাড়া।
এ এসিড এসিড দিয়ে অত্যাচার
ঐ ঐশ্বর্য ঐশ্বর্যে অধিকার
ও ওত ওত পেটে মানুষ খুন
ঔ ঔদ্ধত্য ঔদ্ধত্য বড় গুণ
ক কিডন্যাপ কিডন্যাপে পয়সা আনে
খ খুন খুন করলেই সবাই মানে
গ গুলি গুলি করি দিনরাত
ঘ ঘুষি ঘুষি মেরে কুপোকাৎ
ঙ ঠ্যাঙ এক লাথিতে ভাঙব ঠ্যাঙ
বললে কথা মারব ল্যাঙ।
চ চোর চোরে চোরে মাসতুতো ভাই
ছ ছিনতাই সকাল বিকাল ছিনতাই
জ জেল জেলের ভাত খাওয়া চাই
ঝ ঝগড়া ঝগড়া করে শান্তি পাই
ঞ লাঞ্ছনা লাঞ্ছনাতে ফূর্তি হয়
দেখলে মোরে লাগবে ভয়।
ট টেরর টপ টেরর পেশা
ঠ ঠকানো লোক ঠকানো নেশা
ড ডাকাতি ডাকাতির ভক্ত
ঢ ঢিল ঢিল দিয়ে রক্ত।
ণ মরণ মরণ হবে আমার হাতে
আয় সবে আয় আমার সাথে।
ত তলোয়ার তলোয়ারে কচু কাটা
থ থাপ্পড় থাপ্পড়ে গাল ফাটা
দ দা দা দিয়ে দেব কোপ
ধ ধোলাই ধোলাই দিয়ে বংশ লোপ
ন নেশা নেশা করি শৈশবে
মানুষজন কই সবে?
প পিটিয়ে পিটিয়ে ফেলব লাশ
ফ ফাঁসি ফাঁসি হবে, সর্বনাশ।
ব বোমাবাজি বোমাবাজি চলবে আজ
ভ ভয় ভয় দেখিয়ে করব কাজ।
ম মদ মদ গাঁজার কারবার
সুখ শান্তি ছারখার।
য যৌতুক যৌতুক ছাড়া বিয়ে নয়
র রগ রগ কাটার হবে জয়।
ল লাশ লাশ ফেলব একশ দশ
ব ধ্বস সামনে পিছে নামবে ধ্বস।
শ শয়তানি শয়তানিতে সবার আগে
দেখলেই তো ভয় লাগে!
ষ ষড়যন্ত্র ষড়যন্ত্রে হাতে খড়ি
স সন্ত্রাসী সন্ত্রাসীদের দেশ গড়ি
হ হত্যা হত্যাকারীর মুক্তি চাই
ড় হাড় হাড় মাংস চিবিয়ে খাই।
ঢ় মাঢ়ি মাঢ়ি দাঁত কিড়মিড়
সারা শরীর চিড়বিড়।
য় ভয়ানক কী ভয়ানক দিলাম মার
ৎ চিৎকার হই চই চিৎকার
ং আতংক আতংকে তো উল্লাস
ঃ দুঃখ দুঃখ পাবি গলায় ফাঁস
ঁ ফাঁদ ফাঁদে ফেলে যন্ত্রণা
শয়তানদের মন্ত্রণা! 

.

কাজলা দিদি – যতীন্দ্রমোহন বাগচী

 

বাঁশ-বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই,

মাগো আমার শোলক্-বলা কাজলা দিদি কই?

পুকুর ধারে লেবুর তলে,

থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে,

ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই,

মাগো আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই?

সেদিন হতে কেন মা আর দিদিরে না ডাকো;

দিদির কথায় আঁচল দিয়ে মুখটি কেন ঢাকো?

খাবার খেতে আসি যখন

দিদি বলে ডাকি তখন,

ও-ঘর থেকে কেন মা আর দিদি আসে নাকো?

আমি ডাকি, তুমি কেন চুপটি করে থাকো?

বল্ মা দিদি কোথায় গেছে, আসবে আবার কবে?

কাল যে আমার নতুন ঘরে পুতুল বিয়ে হবে!

দিদির মত ফাঁকি দিয়ে

আমিও যদি লুকাই গিয়ে

তুমি তখন একলা ঘরে কেমন ক’রে রবে?

আমিও নাই—দিদিও নাই—কেমন মজা হবে!

ভূঁই-চাঁপাতে ভরে গেছে শিউলী গাছের তল,

মাড়াস্ নে মা পুকুর থেকে আনবি যখন জল |

ডালিম গাছের ফাঁকে ফাঁকে

বুলবুলিটা লুকিয়ে থাকে,

উড়িয়ে তুমি দিও না মা ছিঁড়তে গিয়ে ফল,

দিদি যখন শুনবে এসে বলবি কি মা বল্ |

বাঁশ-বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই,

এমন সময় মাগো আমার কাজলা দিদি কই?

লেবুর তলে পুকুর পাড়ে

ঝিঁঝিঁ ডাকে ঝোপে ঝাড়ে,

ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, তাইতো জেগে রই,—

রাত্রি হোল মাগো, আমার কাজলা দিদি কই?

.

 হারাধনের দশটি ছেলে – যোগীন্দ্রনাথ সরকার 

 হারাধনের দশটি ছেলে
ঘোরে পাড়াময়,
একটি কোথা হারিয়ে গেল
রইল বাকি নয়।
হারাধনের নয়টি ছেলে
কাটতে গেল কাঠ,
একটি কেটে দু’খান হল
রইল বাকি আট।
হারাধনের আটটি ছেলে
বসলো খেতে ভাত,
একটির পেট ফেটে গেল
রইল বাকি সাত।
হারাধনের সাতটি ছেলে
গেল জলাশয়,
একটি সেথা ডুবে ম’ল
রইল বাকি ছয়।
হারাধনের ছয়টি ছেলে
চ’ড়তে গেল গাছ,
একটি ম’ল পিছলে পড়ে
রইল বাকি পাঁচ।
হারাধনের পাঁচটি ছেলে
গেল বনের ধার,
একটি গেল বাঘের পেটে
রইল বাকি চার।
হারাধনের চারটি ছেলে
নাচে ধিন ধিন,
একটি ম’ল আছাড় খেয়ে
রইল বাকি তিন।
হারাধনের তিনটি ছেলে
ধরতে গেল রুই,
একটি খেলো বোয়াল মাছে
রইল বাকি দুই।
হারাধনের দুইটি ছেলে
মারতে গেল ভেক,
একটি ম’ল সাপের বিষে
রইল বাকি এক।
হারাধনের একটি ছেলে
কাঁদে ভেউ ভেউ,
মনের দুঃখে বনে গেল
রইল না আর কেউ। 

মুহম্মদ জাফর ইকবাল, যতীন্দ্রমোহন বাগচী ও যোগীন্দ্রনাথ সরকার এর কবিত... | Ecency