সু -স্বাগতম বিডিকমিউনিটি।
পৃথিবীতে মানুষের চরিত্র চিনতে পারা বোধহয় একটি বড় গুন যা সবাই পারে না। আজ সারাবেলা বিষয়টি নিয়ে ভাবতে ভাবতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলো। ভাবনার কোন ছেদ পড়তে দেখলাম না। হঠাৎ করে মনে হলো, এ প্রেক্ষিতটি নিয়ে ভাবার আছে, লেখার আছে কিছু।
কিন্তু আমি যে বেশ অনেকদিন ধরে লেখার পাঠ চুকিয়েছি, যেমনটি প্রতিদিন গল্প লেখা হতো, তার পাঠককূল হতো বিডিকমিউনিটির লেখক ও সহযাত্রীরা যাদের অনেকেই এখন অনেকদিন ধরে লেখালেখি আর নিয়মিত ভাব আদান প্রদানের মধ্যে জড়িয়ে নেই। সময়ের স্রোতে বেশ অনেক কিছুই লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।
যখন সময় নিজের মতো করে বয়ে যেতে থাকে, তারপর মানুষজনও বদলে যেতে থাকে। সময় যখন চলছে, তারই পাশ ধরে চরিত্রের কোন অংশ কি বদলে যায় না? হয়তো যায়, এমনভাবে যখন মানুষের কিছু করার থাকে না, জীবনের টানাপোড়েন আর আহবানে সাড়া না দিয়ে কেউ বাদ যায় না, তেমনি পুরনো দিনের মতো কিছুই স্থির রয় না, এমনকি হাজার চেষ্টা করলেও না।
রবীন্দ্রনাথ কাব্য সাহিত্য রচনা করে বোধহয় কোন বড় কবি হিসেবে নাম কামান নি, তার পেছনে যেটি আমাকে বেশি অবাক করে তা হলো তার জীবন অনুভব আর সূক্ষ্ম ভাবকে বয়ে নিয়ে যাওয়ার দক্ষতা যেটি জীবনকে একটি ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তিনি পুরোনো দিনের কথা ভুলতে মানা করেছেন, যেন বছর দশ-কুড়ি কিংবা তারো পরে যদি কখনো দেখা হয়ে যায়, বুকের মাঝে জড়িয়ে জাপটে ধরবার আকুতি জানিয়েছেন।
আমার প্রাণমনে সেই উপলব্ধি দাপিয়ে বেড়াতে থাকে বেশ অনেকদিন ধরে। সংসারের রূপ যে কিভাবে বদলায়, তা শুধু দূর থেকে চেয়ে চেয়ে দেখা যায়। এর বেশি কিছু করা যায় না। নিজের মতো করে সবকিছু হয়ে ওঠে না, সে যতই ভালোবাসতে জানা হোক, দুঃখব্যাথা দিয়ে জীবনকে রাঙিয়ে দিয়ে যাবে জীবনের সেই অনুভূতিগুলো।
কাছের মানুষের চরিত্রের বদল হওয়া খুব সহজে মেনে নেওয়া যায় না। কারন জীবনে চলার পথে সুর একই ধারায় বয়ে যায় না, মাঝে মাঝে ভীড় করে দূরত্ব যা অপরের থেকে অনেক দূরে নিয়ে যায়। দূরত্বকে সাথে নিয়ে বেঁচে থাকা খুব পীড়াদায়ক, তা ব্যাথার বানে বেঁধেই ক্ষান্ত থাকে না - সাথে করে ভুলে থাকাটা বিষিয়ে তোলে।
যদি কেউ একজন জীবনের কোনো পথে একসাথে হেঁটে একই সুরে জড়িয়ে টুপ করে হারিয়ে যায়, বছর কয়েক পরে সে আর আগের মতো নেই, তখন কেমন লাগে সে শুধু মনই বলতে পারে। কত শত স্বপ্ন নির্মাণ করা হয়ে ওঠে না, তা বালির সৌধের মতো সমুদ্রের স্রোতে ভেঙে বিলীন হতে থাকে নীরব আক্রোশে।
অথচ সময় থেমে থাকে না,, পৃথিবী থেকে ভালোবাসা উঠে যেতে থাকে, কেউ ভালোবাসতে জানে না। ক্রমশ রূক্ষ থেকে রূক্ষতর দিকে আচরন ফিরে উঠতে থাকে। এমন যদি ছিল জীবনের আয়োজন, তার পরিণামে কি পাওয়া হয়ে ওঠে? সুখের রাগে ভাসার পরে যদি গ্লানি এসে ভীড় করে তাহলে তাকে কেবা ধরে রাখে?
হয়তো জানা নেই, মরিচীকার তাড়া করার সাথে সাথে কেমন করে ভালোবাসার আয়োজন কমতে শুরু করবে। সুখের সন্ধানে যেতে যেতে প্রিয়তমাকে হারাতে বসার পরিণতি কি ভীষণ রিক্ততায় জড়িয়ে ধরে বসে,তা সবাই বুঝবে না। অভিমান চাপা থেকে চাপা হয়ে ক্রমশ ভীড়বে জীবন মাঝে, অনেকগুলো দিন মনে মনে ভালোবেসে শেষে ফিরে যেতে হয়।
ফিরে যেতে হয় খালি হাতে, শক্ত পাথুরে রাস্তা বেয়ে, ঘুমন্ত নগরীতে কারো জন্য একটুখানি ঠাঁই নেই। অনেককিছু অনেক স্কয়ার ফিটের ব্যালকনি থেকেও শূন্যতা। টিয়াপাখিটা আর ডাকে না, ছাদের ওপার থেকে নূপুর ঝুমঝুম বাজে না, সে পথের ধূলোয় কখনো গল্প বসে না।
এ পৃথিবী ভালোবাসতে পারে না.....