আসসালামুআলাইকুম, বন্ধুরা। সবাইকে স্বাগতম জানাচ্ছি। আপনাদের সবার প্রতি ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। 🙂💗 আজ আমি একটি নতুন জীবন প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলবো যা আদৌত একজন নব্য যৌবনের উল্লাসে উদ্ভাসিত তরুন তরুণীদের জীবন সংগ্রামের গল্প।
জীবিকা সংকটে পড়া এবং নিজেকে অবলম্বন রূপে দাঁড় করতে উদগ্রীব মানুষদের কথা আজ বলবো।
পুরো লেখাটি ধৈর্য ধরে পড়ার জন্য অনুরোধ করা হলো। এতে আপামর যুব সমাজের মুক্তি ও বন্ধন শৃঙ্খলের বেড়াজাল ও জীবন সংকটের কিছু রুপ তুলে ধরা হলো।পরবর্তীতে এ সংকটের উত্তরনের উপায় ও কৌশল নিয়ে লিখবো ইনশাল্লাহ।
দেখুন, একবিংশ শতাব্দীতে যদি কোন কিছু আশ্রয় করে আত্নপ্রতিষ্ঠিত হতে হয়, তাহলে সবার আগে যেটা প্রয়োজন তা হলো কর্মমুখী, পরিকল্পনামাফিক মানসিক প্রশিক্ষণ যা শুধুমাত্র গতানুগতিক পড়াশোনার মাধ্যমে রপ্ত করা সম্ভব নয়। কেবল, ধাপে ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে যোগ্যতাসম্পন্ন একজন গ্র্যাজুয়েট হলেই সব শিক্ষিত যুবকদের নামতে হয় রুড় বাস্তবতায়। সমাজ জীবন জীবিকায় এক নতুন অধ্যায়ে যেতে হয়।
জীবিকা অর্জনের জন্য সবচেয়ে কঠিন অগ্নিপরীক্ষায় নামতে হয় এ সময়ে।
স্বাভাবিকভাবে এ সময়ে কেউ পাশে থাকে না। একদিকে পারিবারিক চাপ, সমাজের মানুষের নাক সিটকানি, ছেলেটা বা মেয়েটা এখনো কেন কিছু করতে পারছে না, বেকারত্ব বোঝা কাঁধে নিয়ে পথ চলা, আত্নীয় স্বজনের সামনে মুখ ছোট হয়ে থাকা, অন্যদিকে ভালোবাসার মানুষটা হয়তো পরের হাতে উঠে যাবে বা যাচ্ছে বলে, চাকরির জন্য দিনরাত এক করে মুখ গুঁজে বই আর প্রশ্নব্যাংকের পাতা উল্টানো, ছোটবড় অনেক গন্জনা সহ্য করা এ বিষয়গুলো সব দিক থেকে একজন চাকরিপ্রত্যাশী প্রার্থীর জীবনের অংশ হয়ে যায়।
একদিকে পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে উঠে আসা, অন্যদিকে সরকারী চাকরির বয়স বেড়ে যাচ্ছে এ নিদারুণ তিক্ততায় বিষাদে ভরে ওঠে মন।
জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় মনে হয় এ সময়টা। কেউ কেউ হয়তো প্রাণান্তকর অধ্যবসায় আর দিনরাত সাধনার ফলে কাঙ্খিত চাকরিটা পেয়েই যায় আবার কেউ হতাশায় মগ্ন হয়। কিছু করার নেই। শুধু আত্নপ্রত্যয়ী যুবক যুবতীরা নিজেদের বাঁচার অবলম্বন হিসেবে নিজেদের তারুণ্যের শক্তিতে বলীয়ান করে। এই জীবনস্পৃহাই তাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে নিজেদের নিয়ে যায়।
সবার জন্য যুদ্ধের ময়দানটা একরকম হয় না। উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েরা বাবার সম্পত্তি অথবা ব্যবসার হাল ধরে। তারা কেউ বসে থাকলে সমস্যা নেই। ভালোভাবে খেয়েপরেই জীবন চলে যায়। কিন্তু মধ্যবিত্ত আর নিম্নবিত্তরা হাড়ে হাড়ে অনুভব করে জীবন জীবিকা কি জিনিস! তাদের পুরো পরিবার ও নিজের দায়িত্ব নেমে আসে ঘাড়ে। টিউশনি করে অথবা পার্ট টাইম জব করে হয়তো কায়ক্লেশে দৈন্যদশায় জীবনযাপন করে।
এরকম অবস্থায় নিরুপায় হয়ে যায় অনেক পরিবার। উপার্জনক্ষম পরিবারের সদস্যরা জীবিকার সন্ধানে ঘুরে বেড়ায় দিগ্বিদিক। কেউ হয়তো অন্য উপায় বেছে নেয়।
যা হোক, যেটা বলছিলাম চাকরিপ্রত্যাশী তরুনদের উদ্দেশ্যে মূলত আজ কিছু বলবো। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আসলে জীবন রূপরেখা নিরূপণের সময়। এ সময়ে এসে আদৌত ছক কষতে হয়, প্ল্যানিং করতে হয়, পরবর্তী ১০ বছর জীবনের গতিপথ কেমন হবে। এ দেশের ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থা প্রায় অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীদের শিক্ষা পরবর্তী কর্ম জীবনের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাদীক্ষা রপ্ত করে প্রায় অনেক ক্ষেত্রেই চাকরির পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয় যা মোটেও সহজ কাজ নয়।
আপনার আমার মতো হাজারো চাকরিপ্রার্থী এ অফিস নয় তো ঐ মন্ত্রণালয়, কর্পোরেট জব অথবা ব্যাংক নিয়োগ ভাইবার মুখোমুখি হতে হয়।
Source
আজ অনেকাংশেই একটি ভালো চাকুরির জন্য বিসিএস পরীক্ষার মধ্য দিয়ে সবাই যায়। ডাক্তার, ইন্জিনিয়ারদের মতো উচ্চ পেশাদারদেরও সরকারিকরন, চাকরির স্থায়ী অবস্থা, রিটায়ারমেন্ট পেনশন,নিরাপত্তার দিকে চিন্তা করে এ পরীক্ষায় বসতে হয়। সিংহভাগ প্রার্থীই এই তুমুল হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে টিকে থাকতে পারে না কেননা, বিসিএস পরীক্ষার জন্য যেমন দীর্ঘ সময় ধরে বিস্তর বিষয়ে প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে হয়, তেমনি প্রচুর ধৈর্যের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হতে হয়।
তবে গুছালো এবং নিয়মমাফিক অনুশীলন, আর ভিন্নধর্মী কৌশল অবলম্বন করলে এই বিসিএস নামক সোনার হরিণ হাতে এসে ধরা দেয়। শুধু বিসিএসই নয়, অন্য চাকুরির পরীক্ষাগুলোতে ঠিক তেমনি একই পাঠ্যসূচি আর মৌলিক জিনিস আয়ত্বে আনলে খুব সহজেই সফলতার দোরগোড়ায় পৌঁছানো সম্ভব।
এখন, কিভাবে আমরা নিজেদের একটা দীর্ঘ সময় ধরে অল্প অল্প সময়ে নিজের জ্ঞান ভান্ডারকে পর্যাপ্ত অনুশীলন আর কৌশল প্রয়োগ করে সমৃদ্ধ করে একজন যোগ্য প্রার্থী হিসেবে গড়ে তুলবো তার কিছু ফ্রেমওয়ার্ক আপনাদের সামনে তুলে ধরবো। আশা করি, ধারাবাহিক কিছু পোস্ট করার মাধ্যমে এ বিষয়গুলো যা চাকরি পরীক্ষায় রপ্ত করা অনিবার্য তা তুলে ধরবো, এতে আপনারা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থী আছেন তারা উপকৃত হবেন মনে করি।
লেখাটি ধৈর্য ধরে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
এ বিষয়ে আরো কিছু কথা বলার ছিল যা এক পোস্টে বলা সম্ভব নয়। পরবর্তী পর্বে বিস্তারিত চাকরি বাকরি ও ব্যবসায় প্রশিক্ষণ ও বাণিজ্যের নানা দিক, ক্যারিয়ারমুখী ভাবনা নিয়ে লিখবো আশা করি। ভালো থাকবেন,সুস্থ থাকবেন।
ফি অামানিল্লাহ 👍✌️