জন্মভোরের পথচলা :মুসাফিরের জীবনানুভূতি।

Words
722
Reading
4 min
Listen
Play
5y

সুস্বাগতম, সুধী 😀।সবাই কেমন আছেন?
ভালো আছেন নিশ্চয়ই। আজ নতুন এক দীপ্ত সত্যের স্বীকারোক্তি দিব আপনাদের সামনে। এমন এক বিষয়,এমন অনুভূতি যা আমরা প্রায়শ এড়িয়ে যাই। ব্যর্থতা অবসাদে ডুবে যাওয়ার আগে চলুন লেখাটি পড়ে নেই। 🙂

এ পৃথিবীতে কিছুই সহজ নয়। জীবনে চলার পথে অনেক বাধা বিপত্তি আসবেই। আমাদের প্রত্যেককেই এ পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য কমবেশি সংগ্রামে লিপ্ত হতে হয়েছে।অনেক কষ্ট, শ্রম, ত্যাগ,অভাববোধ, দুঃসময় এ অনুভবগুলো জীবনের নিত্যদিনকার অনুসঙ্গ। এ জীবন প্রকৃতির প্রতিটি পর্বে লুকিয়ে আছে নিদারুণ উদ্বেগ ,ঘাত প্রতিঘাত, টানাপোড়েন আর সংকট।

images.jpeg
Image
যখন থেকে জীবনের সূত্রপাত, পিতার ঔরস থেকে সৃষ্টি হওয়া জীবন পরমানু, সৃষ্টির মূল কুঁড়ি, সকল জীবের মূল সত্তা থেকেই সংগ্রাম আর প্রতিকূলতা লুকিয়ে আছে।
বিলিয়ন বিলিয়ন শুক্রাণুর সাথে প্রতিযোগিতা করে ঠিক একটি অনু জীবনলাভ করে। তারপর ভ্রুনীয় রূপ পরিবর্তন থেকে জন্মলাভ, এই ধরায় আত্নপ্রকাশ। এভাবে আমৃত্যু টিকে থাকার লড়াই। এ বিষয়গুলো খুব স্বাভাবিক এবং প্রকৃতিসিদ্ধ ব্যাপার। তাই, আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত জীবন সম্পর্কে, নিত্য সত্য সম্পর্কে গভীর জ্ঞান লাভ করা। এতে করে, আমরা বুঝতে সক্ষম হবো জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও লুকোনো নিগূড় রহস্য।

ডারউইনের বিবর্তনতত্ত্ব আমাদের অনেকেরই জানা আছে।বিশ্বজোড়া খ্যাতিমান ও পৃথিবীনন্দীত এই জ্ঞানী দার্শনিক দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে মানুষের জন্মলগ্ন ও প্রকূত রূপ নিয়ে যে অকাট্য যুক্তিনিষ্ঠ কিছু অনুসিদ্ধান্ত দাঁড় করিয়েছিলেন তার মধ্যে একটি ছিল,

"যোগ্যতমের উত্তরাধিকার ও জীবন সংগ্রামে জয়ী জীবই পৃথিবীতে টিকে থাকে।প্রজাতি বিলুপ্তি ঘটাতে দায়ী হলো জীবনযুদ্ধে হেরে যাওয়া জীব সম্প্রদায়। "

yellow-spider-caught-bumblebee-meal-260nw-1709944567.webp
Source
এই উক্তিটি এজন্য বিবৃত করলাম কারন, জীবনে ব্যর্থতা ও অকৃতকার্য হলে আমরা অনেকেই হাল ছেড়ে দেই। জীবনে চরম হতাশা আর অন্ধকার নেমে আসে। নিজেদের ভবিষ্যৎ আর জীবনে প্রতিষ্ঠার কথা চিন্তা করে সব উদ্দীপনা আর শক্তি হারিয়ে একেবারে ভেঙে পড়ি, সব মনোবল নিমিষেই হারিয়ে যায়।
এমন পরিস্থিতিতে আমরা অনেকেই পড়েছি।
সবাই ব্যর্থতার প্রকৃত মর্ম উপলব্ধি করতে পারে না। যার জ্বালা সে বুঝে।

বিশেষ করে যখন নিজেরাই এমন পরিস্থিতিতে উপনীত হই তখন আমরা প্রথম কিছুদিন কি করবো বা কি করা উচিত সব ভুলে যাই। প্রতিটি ব্যর্থতার মধ্যে একটি স্ফূর্তি থাকে, থাকে একটি নীরব ভাব, বাজে একটি করূন সুর, মনের প্রতিটি গহীন কোনে। অথচ মনের আড়ালে গড়ে ওঠে একটি অন্যরকম চরিত্র যা আমাদের তৈরি করে পরবর্তী গল্পের জন্য।

সবাই সবকিছুতে সফল হয়না, সব গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রে কেউ বসতে পারেনা, না প্রতিটি পদচারনা সাফল্য বয়ে আনে। ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে পথ চলতে চলতে একসময় অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যায়।

জীবনের উপহার হিসেবে কিছু একটা মহান দয়াময় আমাদের জন্য তৈরি করে রাখেন।
আমরা সবসময় সে গুপ্তধন চিনতে পারিনা, নিজের হিয়ার মাঝে শান্তি অনুভব করতে পারিনা, হাল ছেড়ে দেই, থেমে যাই, জীবনকে ছোট ছোট টুকরোয় ভাগ করে ফেলি।

photo-1528543606781-2f6e6857f318.jpeg
Source
এই, জীবনকে টুকরোয় ভাগ করে নেয়াটাই চরম বোকামি আর ভুল সিদ্ধান্ত।
জীবনের কোনো একটি অংশ কখনোই নির্ধারন করতে পারে না পরবর্তী পুরো ভবিষ্যত জীবন কেমন হবে।

ব্যর্থতাকে সবাই সমানভাবে নেয় না। একটি প্রৌঢ় বা বয়স্ক লোক তার পরিণত মস্তিষ্কের বলে ব্যর্থতার গ্লানিকে ঢাকতে জানে। কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেকে বদলাতে হবে, কীভাবে সংকট থেকে পরিত্রান পাবে এ বিষয়গুলো অভিজ্ঞতাই বলে দেয় তাকে।
কিন্তু, তরুনদের প্রধান বাধা তার সীমাহীন আবেগ আর বেখেয়ালী মন। ব্যর্থতার শিকলের নিগড়ে নিজেকে সহজেই সঁপে দেয়। আবেগ আর উঠতি যৌবন ব্যর্থতায় পর্যবসিত মনের হাল ছেড়ে দেয়ার প্রধান ইন্ধনদাতা।

আমরা সবাই জিততে চাই। যেকোনো মূল্যে, যেকোনো ভাবে, যেকোনো উপায়ে, সৎ অথবা অসৎ ভাবে, জীবনের প্রতিটি কন্টেস্টে জয়লাভেই বাহবা নিতে চাই। এ সমাজও সব বিজয়ীকে মাথায় তুলে রাখতে চায়।

হেরে যাওয়া মানুষের গল্প কেউ শুনতে চায়না।
অথচ ব্যর্থতা আর হেরে যাওয়ার গল্পকারই জানে শুধু একটা জয়ের মূল্য কেমন, একটা হাসিমাখা বিজয়ের উল্লাস কেমন দেখায়,
হায়! হেরে যাওয়া মানুষটা দূর থেকে দেখে জয়ের কতটুকু কাছে সে ছিল, কতটুকু আবেগ তার নদীর পানির মতো বয়ে যায়।

একটি গল্প বলে শেষ করি।
শিব খেরার" তুমিও জিতবে " বই থেকে ছোটবেলায় পড়া একটি ঘটনা মনে পড়ে গেল।

একদিন একজন ফেরিওয়ালা হাইড্রোজেন গ্যাসভর্তি বেলুন ফুলিয়ে বেশ বাহারি রংবেরঙের ফুলঝুরি বানিয়ে রাস্তার পাশে বিক্রি করছিল।

photo-1489710437720-ebb67ec84dd2.jpeg
Source
তো,ছোট বাচ্চারা কালারফুল বিভিন্ন হরেক রকমের বেলুন দেখতে পেয়ে, বায়না ধরে ভাসমান বেলুন কিনে নিল। এমন সময় কৌতুহলী এক শিশু এসে বললো,
ফেরিওয়ালা ও ফেরিওয়ালা কালো রঙের বেলুন কি আকাশে উড়বে?
ফেরিওয়ালা বললো, বাবু, বেলুনটি কালো হওয়ার জন্য আকাশে ওড়ে না, এর ভেতরে যে হালকা বাতাস আর জ্বালানী আছে তার জন্য বেলুনটি সুরসুর করে ওপরে উঠে যায়।

তাই,বেলাশেষে তো আপনি হেরে যান তো জিতে যান এ বিষয়গুলো পুরো জীবনে মোটাদাগে কোন প্রভাব ফেলবে না। বড়ো আকারের জীবন মাপকাঠিতে যদি জীবনকে তুলে ধরে ভেতরটা অবলোকন করেন তাহলে হেরে গিয়েও জিতে যাওয়ার সে অমীয় রহস্য আর অনুপ্রেরণা লুকিয়ে রয়েছে তা দেখতে পাবেন।

ভালো থাকুন সবাই। সৃষ্টিকর্তা সবার মঙ্গল করুন। আগামীর পথচলা সহজ সাবলীল হোক এ কামনা করি।
আল্লাহ হাফিজ,
ফি আমানিল্লাহ 👍💖✌️

জন্মভোরের পথচলা :মুসাফিরের জীবনানুভূতি। | Ecency