সারপ্রাইজ...
বিয়ের আগে থেকে পরে আমি ঠিকঠাকভাবে কখনোই বউয়ের জন্মদিনে সারপ্রাইজ দিতে পারি নাই কিন্তু আমার বউ ঠিকই আমার প্রত্যেক জন্মদিনে কোন না কোনভাবে সারপ্রাইজ করতো। তো এবার ঠিক করেছিলাম আমার বউয়ের পরবর্তী জন্মদিনে খুব ভালোভাবে সারপ্রাইজ করবো। তো এবার বউয়ের জন্মদিন পরেছে রমজান মাসে। বউ আর আমিই থাকি বাসায় তাই সারপ্রাইজ কিভাবে দিব ভেবে পাচ্ছিলাম না। আমার বউ মনেমনে আশা করছিল আমি তাকে রাত ১২:০১ এ সারপ্রাইজ করবো। কিন্তু সারপ্রাইজ টা করবো কিভাবে? সে তো সারাদিন আমার সাথেই ছিল। তবুও ভেবে রেখেছিলাম ১২:০১ এ উইশ করবো আর পরেরদিন কোনভাবে সারপ্রাইজ এর ব্যবস্থা করবো। তো ১১:৩০ এর পরেও আমার মনে ছিল উইশ করার কথা আর তখন আমি ফেসবুকের একটা গ্রুপে গিভওয়ে তে ছিলাম যেখান থেকে ৫০০ টাকা নগদ জিতেছিলামও। এভাবে করতে করতে কখন যেন ১২:১৫ পার হয়ে গেল আর আমি এর মাঝে ভুলেই গেলাম। হঠাৎ আমার ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে বউ ম্যাসেজ পাঠালো।
"তুমি আমাকেই উইশ করলা না কিন্তু ফ্রেন্ড এর গার্লফ্রেন্ডকে ঠিকই গতকাল উইশ করলা দেখলাম। আর আমি তোমার বউ কিন্তু আমার কথা তোমার মাথায়ই নাই, কিভাবে সম্ভব?"
আমিঃ শুভ জন্মদিন।
অনেক্ষণের একটা স্তব্ধতার পরে বউ কান্নাকাটি আর চিল্লাচিল্লি শুরু করে দিল কারণ আমি তাকে সারপ্রাইজও করি নাই আর উইশও করি নাই ঠিক সময়ে। এরপর অনেক্ষণ ধরে অনেক কথা শুনার পর আর অনেক খুনশুটির পর আমি বুঝাতে সক্ষম হলাম। মনে মনে প্ল্যান করে নিলাম যে দিনের বেলায় যেভাবেই হোক সারপ্রাইজ করবো।
ঘুম থেকে উঠতে উঠতে দুপুর হয়ে গেল আর উঠার পর আবারো বউ শুরু করলো, "তুমি এতো দেরি করে উঠলা আজকেও? রাতে কিছু করো নাই, ভাবলাম সকালে সারপ্রাইজ করবা। তুমি এমন কেন? ব্লাহ ব্লাহ ব্লাহ।"
আমি কোনমতে বুঝিয়ে ওরে নিয়ে বের হলাম, যাবো ওর নানু বাসায়। প্যান করেছিলাম, ওর নানু বাসায় ওকে রেখে এরপর আমি যাবো বাজারে। তো আমি প্ল্যান অনুযায়ী বেড়িয়ে গেলাম আর বাজারে গিয়ে দুইটা কেক, বেলুন, মোম এসব কিনে চলে গেলাম সোজা আমার বাসায়। খুব তাড়াহুড়া করতে হলো কারণ ইফতারের জন্য বেশি সময় বাকি ছিল না। আমার প্ল্যান ছিল ইফতারের পর আমি বাহিরে যাওয়ার কথা বলে আমার বাসায় গিয়ে ঘর সাজাবো, তারপর একটা কেক নিয়ে ওর নানু বাড়ি যাব আর সেখানে সবাইকে নিয়ে একটা কেক কাটবো তারপরে রাতে বাসায় ঢুকে আরেকটা কেক কাটবো আর আমার বউও অনেক সারপ্রাইজ হবে। তো প্ল্যান অনুযায়ি বউয়ের নানু বাসায় ইফতারের পর আমি বন্ধুদের সাথে দেখা করার উছিলা দিয়ে আমার বাসায় গেলাম। বাসায় গিয়ে বেলুন ফুলানো থেকে শুরু করে দেয়ালে ইংরেজিতে হ্যাপি বার্থডে লেখা বড় ফয়েল বেলুন লাগালাম।
ঘর সাজানোর পর আমি বউয়ের মামাকে ম্যানেজ করে তার কর্মক্ষেত্র থেকে অল্প সময়ে আনলাম তারপর কেক আর হাতে কয়েকটা বেলুন আর স্নো স্প্রে নিয়ে গেলাম সারপ্রাইজ করতে। আমি ইতোমধ্যে আমার বউকে বলে রেখেছিলাম আমি ওকে নিতে যাচ্ছি। তো গিয়ে দরজায় নক দিল মামা শশুর, বউই খুললো দরজা। হাতের বেলুন ফুটিয়ে, স্নো স্প্রে দিয়ে আর হ্যাপি বার্থডে বলে বলে পুরাই সারপ্রাইজ করে দিলাম বউকে। এই এক ধাপেই সে পুরোপুরি সারপ্রাইজড, পরের টা তো পরেই আছে। যদিও আমার বউ মনে মনে নাকি ভেবেছিল যে আমি হয়তো আমাদের বাসায়ই সারপ্রাইজ দিব যেটা এমনিতেও দিব কিন্তু এখানে সারপ্রাইজ দেওয়ার কারণে বউয়ের মাথায় তেমন কিছুই আর রইলো না। তো কেক কাটা, খাওয়ার পর বেরিয়ে পরলাম আমরা। বউয়ের নাকি ঈদের জন্য কি ড্রেস কিনতে হবে তাই গেলাম মার্কেটে। অনেক্ষণ ঘুরেও আমার বউয়ের কিছুই পছন্দ হয় না এদিকে আমার পা ব্যাথা হয়ে গেছে হাটতে হাটতে। আমি কি যেন বললাম আর আমার বউ রাগ করে বললো সে কিছু কিনবে না বাসায় যাবে। আমিও এক কথায় হাটা দিলাম। রিক্সা করে বাসার দিকে যাওয়ার সময় বউয়ের ভাব দেখে মনে হচ্ছিল আমি অন্যের বউ নিয়ে রিক্সায় যাচ্ছি অথচ মার্কেটে যাওয়ার সময় কিন্তু কতো খুশি ছিল। তো রিক্সায় কিছু কথা কাটাকাটি হলো তারপর বাসায় পোছালাম। দরজা খুলে ভেতরে ঢুকার পরই মেজাজ দেখানো শুরু করেছে বউ আর তখন আমার মেজাজ গেল বিগরে। টেনে পাশের রুমে নিয়ে দেখালাম কি কি করেছি আর বাংলা সিনেমার নায়কদের স্টাইলে বলতে লাগলাম, "তোমাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য তখন আসছিলাম, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে যাই নাই"। বউ আমার একদম চুপ, কারণ ও প্রথমে ভাবছিল আমি ওরে মারবো এরপর দেখে ঘর সাজানো আর তার উপরে আমি রাগ দেখিয়ে সাজানো টা একটু নষ্টও করে দিয়েছিলাম। তো শুরু হলো আমার অভিমানের পালা, আমার কথা শুনানোর পালা। পরে অনেকবার মাফ চেয়ে আমার রাগ ভাঙালো আর তারপর আমরা আরেকটা কেক কাটলাম। আর যাই হোক না হোক, বউ আমার যথেষ্ট সারপ্রাইজড হয়েছে।
আর কখনো সারপ্রাইজের খেলা টা খেলবো না ঠিক করেছি তবে একদম শেষে এসে বলতে চাই, "বেঁচে থাক আমাদের ভালোবাসা আর সাথে একটুসখানি খুনসুটি।
"সমাপ্ত | The End"
"Be Good, Think Good and Do Good"