captured by a friend of the author of this post.
জিবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন ভাগ্যকে মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না।
উষ্ণের জিবনের গল্পগুলো স্টেপ বাই স্টেপ শেয়ার করার ইচ্ছা ছিল কিন্তু মাঝখান দিয়ে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যাওয়ার জন্য মাঝেমাঝে লাইন ব্রেক করতে হচ্ছে। আজও লাইন ব্রেক করে অনাকাঙ্খিতভাবে ঘটে যাওয়া একটা গল্প বলবো...
যারা উষ্ণের জিবন কাহিনীর ছোট গল্পগুলো পড়েছেন আগে তাদের জানার কথা যে উষ্ণ তার বাবা মা ছাড়াই নানা নানি আর মামাদের কাছে বড় হয়েছে যে কিনা ছোটবেলা থেকেই মা-বাবার আদর বা শাসন কোনটাই পায় নাই। তো বিয়ের পর ম্যাজিকালি বউ আর মা দুজনকে নিয়েই উষ্ণের সংসার চলা শুরু হলো। ছোটবেলা থেক যে উষ্ণ মায়ের আদর-ভালোবাসা ছাড়াই বড় হয়েছে সেও খুব চেষ্টা করতে শুরু করলো তার মা কে পর্যাপ্ত সম্মাননা দেওয়ার কারণ সে নিজে বিন্দু মাত্র প্রমাণ না পেলেও মানুষের কাছে শুনেছে যে এটাই তার মা আর মা এর স্থানে তো মা কে রাখতেই হবে। সময়ের ব্যবধানে উষ্ণ বুঝতে পারছিল যে তার মা আসলে অন্যান্য মানুষের মায়ের মতো না, একটু বেশিই স্পেশাল যে কিনা কারণ ছাড়াও ছেলের সাথে ঝগড়া করার জন্য তৈরি থাকতে পারে। অন্যান্য মা যেমন সন্তানকে খাওয়ানোর জন্য নিজে না খেয়ে থাকে উষ্ণের মা মোটেও সেরকম না, উল্টো দেখা যায় যে উষ্ণের খাবারে কম পরে যায় অনেক সময়ে (বিষয়টা তেঁতো মনে হলেও সত্য) । তবুও উষ্ণ চুপচাপ থেকে সব কিছু হ্যান্ডেল করার চেষ্টা করছিল খুব ভালোভাবেই।
এক সন্ধ্যায় উষ্ণ ঠিক করলো তার বউকে বউয়ের মামা বাসায় রেখে সে বন্ধুদের সাথে একটু আড্ডা দিতে যাবে। যেই ভাবনা সেই কাজ। সন্ধ্যার পরপর বেড়িয়ে গেল দুজনে, বউকে জায়গা মতো রেখে উষ্ণ চলে গেল বন্ধুদের সাথে অনেকদিন পর একটু আড্ডা দেওয়ার জন্য। কিছুক্ষণ আড্ডা দেওয়ার পর উষ্ণ গেলো বাজারে, কিছু বাজার করার ছিল যে। বাজার করার শেষের দিকে উষ্ণের বউ কল দিয়ে জানাল যে তার খুব পেট ব্যাথা করছে, তার জন্য ওষুধ নিতে বললো। তো উষ্ণ বাজার আর ওষুধ নিয়ে গেল তার বউকে এগিয়ে নিতে। রাস্তায় থেকেই উষ্ণ তার বউ কে কল দিয়ে বলে রেখেছে তৈরি হয়ে থাকতে আর বাসার কাছাকাছি এসে আবারো কল দিয়ে বলেছে নিচে নামতে।
রিক্সা নিয়ে উষ্ণ তার মামা শশুর বাড়ির নিচে দাড়িয়ে আছে বেশ কিছুক্ষণ হলো কিন্তু তার বউয়ের কোন খবর নাই। উষ্ণের মনে মনে রাগ উঠছিল খুব আর ভাবছিল বউ আসলে বকে দিবে। তারপর দেখল তার বউ আসছে আস্তে আস্তে করে। অন্ধকার টা পার করার পর বুঝা গেল যে উষ্ণের বউ তার পেটে চেপে ধরে আস্তে আস্তে করে এগোচ্ছে। তখন উষ্ণ বুঝল যে পেটে ব্যাথা বলেই দেরি হয়েছে। রিক্সায় উঠলো উষ্ণর বউ আর দুজন মিলে তাদের বাসায় গেল। রুমে ঢুকেই উষ্ণের বউ বিছানায় পরে গেল পেট ব্যাথার কথা বলে। কিছুক্ষণ পর বুঝা গেল যে উষ্ণের বউয়ের পেট খারাপ হয়েছে, যদিও পরবর্তীতে বুঝা গেছে যে সেটা নরমাল পেট খারাপ না।
কিছুক্ষণ পর উষ্ণের মা বারি ফিরলো অফিস থেকে। মা কে সালাম দিয়ে উষ্ণ জানালো যে তার বউয়ের অবস্থা খুব একটা ভালো না। তখন তার মা বললো স্যালাইন খাওয়াতে এরপর নিজের ঘড়ে চলে গেল আর নিজের যেসব কাজ করার তা নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়লো। একটা বারের জন্য ছেলের বউয়ের কাছে গিয়ে জানতে চাইলো না কি হয়েছে। হয়তো পেট খারাপ, গন্ধ আস্তে পারে সেই ভেবে যায় নাই যেহেতু উষ্ণের মা কিছুদিন আগেও ঝগড়া বাঝিয়ে প্রমাণ করেছে যে সে অনেক বেশি পরিষ্কার।
রাত তখন ১১টার এদিক সেদিক। উষ্ণের বাসার আশেপাশের দোকান গুলো সাধারণত ১০ তার মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় আর এরপর রাস্তায় কিছু কুকুর ছাড়া মানুষ দেখা খুব মুশকিল হয়ে পরে। এমতাবস্থায় কুকুর আর খারাপ মানুষের কিঞ্চিৎ ভয় থাকা সত্ত্বেও উষ্ণ বেড়িয়ে পরে ওষুধ আনার জন্য। বেশ কিছুটা দূরে গিয়ে একটা ফার্মেসী খোলা পেল যেটা বন্ধ হওয়ার পথে ছিল। তারপর উষ্ণ তার পরিচিত একজন ফার্মেসীর দোকানদারকে কল দিয়ে জানতে চাইলো কি ওষুধ ভালো হবে এই অবস্থায়। তারপর পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ নিয়ে উষ্ণ তারাতারি করে বাসায় ফিরে গেল। বাসায় ঢুকার পরে দেখে রুমে তার বউ নেই। কোথায় গেল??? পাশে ওয়াশরুমের দরজা খোলা, উষ্ণর বউ কমডে বসেই বমি করছে। দৌড়ে গিয়ে ধরল উষ্ণ। খেয়াল করলো যে তার মা পাশের রুমেই বসে কি যেন করছিল। সেই ওয়াশরুমের দরজা আর উষ্ণের মায়ের ঘরের দরজা এতোটাই কাছে যে ওয়াশরুমে পানি ঢাললেও শব্দ পাওয়ার কথা কিন্তু ছেলে বউ শব্দ করে করে বমি করছে সেটা সে খেয়াল ই করলো না। উষ্ণ ভাবছিল যে কতটা খারাপ অবস্থা হলে একজন মানুষ টয়লেট করতে গিয়ে বমি করে ফেলে আর পাশে মা থেকেও এগোয় না। উষ্ণ এই ব্যাপারে কিছুই জানতে চাইলো না তার মায়ের কাছে। ভাবলো অনেক রাত হয়েছে আর এদিকে উষ্ণের বউ ও অসুস্থ, তো ভাবলো পরদিন জানতে চাইবে।
সেই রাতের মধ্যে আরো ২/৩ বার বমি হলো আর অগনিতবার টয়লেট এ যেতে হলো উষ্ণের বউয়ের। বমি করার সময়ে জোর স্বরে কান্নাও করলো মেয়েটা কিন্তু সেই কান্না মানব সৃষ্টির মাঝে উষ্ণ ছাড়া আর কেউ শুনতে পেল না।
সারারাত ঠিকমতো ঘুমোতে পারলো না উষ্ণ। যখনই একটু ঘুমিয়ে পরে তখন ই তার বউ ওয়াশরুমে যেতে চায় আর তার বউ এর যেই অবস্থা ছিল তখন, একা যেতেও পারছিল না অতিরিক্ত দুর্বলতার কারণে।
সারারাত পর সকালে উষ্ণ একটু ঘুমানর সুযোগ পেল, তো আমরা তার এই ঘুমটায় আপাতত ডিস্টার্ব না করি, নাকি বলেন?
বাকি গল্পটা নাহয় আরেকদিন শেষ করি যেখানে তার মায়ের স্পেশালিটির আর ভালো দিক জানা যাবে।
"চলবে | To Be Continued"
"Be Good, Think Good and Do Good"