" সততার সঙ্গে কাজ করো মূল্য পাবে ”
- জন টেইলর
আগের গল্পে বলেছিলাম যে গল্পটা একটু দীর্ঘ করবো অন্য কোন একদিন যেখানে না ঘটা কিছু জিনিশ থাকবে যেটা ঘটতে পারতো সেই সততার কারণে আর চেষ্টা করবো দুইভাবে দুইটা গল্প ফুটিয়ে তুলার যেখানে একটা গল্পে উষ্ণর ভালো হবে আর অন্য গল্পে হবে খারাপ।
আজ ভালো পার্ট টা নিয়ে গল্প লিখতে বসলাম।
তো... উষ্ণ সেই মোবাইল টা মোবাইলের মালিকের আত্বিয় মাহাবুব সাহেব এর হাতে তুলে দিল। এরপর উষ্ণ তার বাড়িতে চলে গেল। রাতে খাওয়া দাওয়ার পর ঘুম দিল উষ্ণ।
পরদিন সকালে... খুব সকালে... ১০ টা বেজে ১৫ মিনিট এর মতো বাজবে হয়তো তখন। হ্যা, বেকার ছেলে উষ্ণর কাছে এই টাইম টা খুব সকাল। তো ফোনে একটা কল আসলো। ঘুমঘুম চোখে কল ধরলো উষ্ণ।
ওপার থেকেঃ আসসালামা আলাইকুম।
উষ্ণঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম, কে বলছেন?
ওপার থেকেঃ আমাকে চিনবেন না ভাই, আপনার বিকাশ নাম্বারে ভুলে আমার নাম্বার থেকে বেশ কিছু টাকা চলে গিয়েছে। টাকা টা কি ফেরত দেওয়া যাবে?
উষ্ণঃ জ্বি, অবশ্যই। টাকা তো আমার না, আপনার টাকা আপনিই প্রাপ্য।
ওপার থেকেঃ ধন্যবাদ ভাই। আমার এই নাম্বার টা বিকাশ পার্সোনাল আর এই নাম্বার থেকেই টাকা টা গিয়েছে। দয়া করে এই নাম্বারেই ফেরত দিয়েন।
উষ্ণঃ ঠিক আছে ভাই, চিন্তা করবেন না। আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। এখনই উঠে এরপর চেক করে পাঠিয়ে দিচ্ছি।
তারপর উষ্ণ উঠে বসলো আর তার ফোনে বিকাশ অ্যাপ টা ওপেন করলো। স্টেটমেন্টস এ গিয়ে দেখলো ঐ নাম্বার থেকে ২ বারে ২৫০০০ টাকা করে ৫০০০০ টাকা আসছে। উষ্ণ তখনই টাকা টা ফেরত দিয়ে দিল। তারপর ঐ নাম্বারে কল দিল। কয়েকটা রিং বাজার পর কল ধরলো ওপার থেকে।
উষ্ণঃ ভাই, টাকা টা পেয়েছেন? আমি কেবলই পাঠিয়ে দিয়েছি।
ওপার থেকেঃ জ্বি, ভাই পেয়েছি। আপনাকে কল করতাম কিছুক্ষনের মধ্যেই।
উষ্ণঃ ঠিক আছে ভাই, ভালো থাকেন।
ওপার থেকেঃ ভাই একটু শুনবেন?
উষ্ণঃ অবশ্যই ভাই, বলেন।
ওপার থেকেঃ আপনি তো টাকা টা না দিলেও পারতেন, এরপরও বলার পরপর এতো অল্প সময়েই দিয়ে দিলেন যে?
উষ্ণঃ টাকা টা তো আমার না ভাই, এটার উপর আমার কোন হক নেই... তো যার টাকা তাকে ফেরত দেওয়া টা আমার দায়িত্ব ছিল। আপনি আমাকে কল না দিলেও আমি ঐ নাম্বারে কল দিয়ে খোজ নিতাম।
ওপার থেকেঃ ভাই, আপনাকে আমি ভুলে টাকা টা দেই নি, ইচ্ছা করেই পাঠিয়েছিলাম।
উষ্ণঃ বুঝলাম না ভাই।
ওপার থেকেঃ আপনি কিছুদিন আগে বাসে একটা ফোন পেয়ে সেটা মালিকের কাছে নিজ দায়িত্বে ফেরত দিয়েছিলেন, মনে আছে আপনার?
উষ্ণঃ জ্বি ভাই, মনে আছে।
ওপার থেকেঃ ফোনের মালিক আমার ভাই আর আমি একটা বাইয়িং হাউজের ডাইরেক্টর। ভাইয়ের কাছে এই সময়ে এভাবে ফোন ফেরত পাওয়ার ব্যাপার টা শুনে মনে হলো আপনাকে আমার পয়োজন।
উষ্ণঃ কি ধরনের প্রয়োজন?
ওপার থেকেঃ আমার অফিসের একজন কর্মচারী ছিল যিনি শুধুমাত্র টাকা পয়সা বুঝে নেওয়ার কাজ টা করতো আর তাকে মোটা অংকের অ্যামাউন্টের স্যালারি দিয়ে রেখেছিলাম কারণ এইরকম পোস্টে বিশ্বস্ত লোক পাওয়া খুবই কষ্টকর আর ওনাকে আমার বিশ্বস্ত ই মনে হতো। কিন্তু কিছুদিন আগেই উনি বড় একটা অ্যামাউন্ট চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা খায়। এরপর তাকে চাকুরিচ্যুত করতে বাধ্য হই। এরপর থেকে ঐ পোস্টের জন্য বিশ্বস্ত একজন লোক খুজে বেড়াচ্ছি কিন্তু পাচ্ছি না। এরপর আপনার কথা জানলাম আর বিশ্বস্ততার ব্যাপারে শিওর হওয়ার জন্য আপনার বিকাশে টাকা টা পাঠাই এবং আপনি পরীক্ষায় ১০০ তে ১০০ পেয়েছেন
উষ্ণঃ সবই বুঝলাম। কিন্তু আমি যদি টাকা টা না দিতাম?
ওপার থেকেঃ আপনি দিতে না চাইলেও টাকা টা উঠানোর অ্যাবিলিটি আছে আমার এর জন্যই ট্রাই করেছি এখন মনে হচ্ছে আপনি সেই পোস্ট এর যোগ্য। আপনি কি কোথাও চাকুরি করছেন বর্তমানে? আমার এখানে কাইন্ডলি জয়েন করতে পারবেন?
উষ্ণঃ আমার আপাতত চাকুরি নেই। অনেকদিন ধরেই একটা ভালো চাকুরি খুজছি তো সেই হিসেবে আপনার অফারটি আমার কাছে ভালো একটি অপরচুনিটি। কিন্তু আমার তো এই বিভাগে কাজ করার কোন অভিজ্ঞতা নেই।
ওপার থেকেঃ আমি অভিজ্ঞতা খুজছি না, আমি একজন বিশ্বস্ত মানুষ খুজছি আর আমি জানি আপনি সেই মানুষ। যদি সমস্যা না থাকে তো কালকে আমার অফিসে দেখা করেন, আমি ঠিকানা দিয়ে দিচ্ছি ম্যাসেজ এ।
উষ্ণঃ আচ্ছা ঠিক আছে, ধন্যবাদ।
পরদিন ই উষ্ণ সেখানে গিয়ে হাজির হয় এবং নতুন চাকুরীর সুখবর নিয়ে বাসায় আসে। চাকুরি তে বেতন খুব ই ভালো আর যাতায়াতের জন্য একটা গাড়ির ব্যাবস্থা ও করে দিয়েছে অফিস থেকে। লাঞ্চ এর ব্যবস্থা আছে অফিসের নিজস্ব রেস্টুরেন্ট এ। সপ্তাহে ২ দিন অফিস বন্ধ থাকবে। এ যেন সোনায় সোহাগা। সততার পুরষ্কার ভালো হওয়ার ই কথা।
"সমাপ্ত | The End"
"Be Good, Think Good and Do Good"