হাওয়ার বিল। আমাদের গ্রাম থেকে তিন কিলোমিটার দূরে। বাড়িতে আসলে প্রায় প্রতিদিন বিকালে এদিকটায় এসে আড্ডা দেই। দু'ধারে ইউক্যালিপটাস গাছের মাঝে দিয়ে রাস্তা চলে গেছে। বিকালে বাসা থেকে বের হয়ে ভ্যানে করে বিলের দিকে চলে যাই। বিলে যেতে মাঝে একটা বিশাল দিঘি পরে। প্রায় একশত বিঘা দিঘির দৈর্ঘ। ছোট থেকে এই দিঘির অনেক গল্প শুনতাম। কিন্তু কখনো এতো দূরে আসার সাহস হতো না। ক্লাস নাইনে থাকতে বন্ধুরা দল বেধে প্রথম এই দিঘিতে আসছিলাম। এতো বড় দিঘি আমি এর আগে কখনো দেখি নাই। দিঘিতে নৌকা ছিলো বেশকয়েকটা মাছকে খাবার দেবার জন্য। আমরা ওখানে লোকের সাথে কথা বলে নৌকাতে উঠছিলাম। এটা আমার জীবনের প্রথম নৌকা ভ্রমন ছিলো। নৌকাতে উঠার পরে আমার মনে অনেক ভয় কাজ করতেছিলো। সাঁতার পারি আমি কিন্তু এর পরেও পানি অনেক ভয় করে আমার। শুধু মনে হয় নিচে থেকে যদি কেউ টেনে নেয়। আবার এই দিঘি সম্পর্কে অনেক কথা শুনছিলাম। আর সবাই নৌকাতে উঠার পরে নৌকা ঝাকানো শুরু করছিলো। এইজন্য আরও বেশি ভয় কাজ করছিলো। মনে মনে শুধু দোয়া পরতেছিলাম কখন নৌকা থেকে নামবো। এরপরে আর মাত্র একবার ওই দিঘিতে গেছিলাম। এতোদিনে আর একবারও যাওয়া হয়নি।
দিঘি ছেরে সামনের দিকে গেলেই তুলসীগঙ্গা নদী। যমুনা নদীর শাখা নদী এটি। বিকালের দিকে নদীর পাড়ে অনেক মানুষ বসে আড্ডা দেয়। আমি এদিকটায় আসতে চাই প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে আর নিশ্চিন্তে সিগারেট টানতে পারি। বাড়ির আসেপাশে কোথাও সিগারেট টানতে পারি না সবাই পরিচিত বলে। নিশ্চিন্তে সিগারেট টানার জন্য এই জায়গাটা আমার অনেক পছন্দের।
প্রতি ঈদের সময় এই নদীর পারে প্রচুর মানুষের ঢ্ল নামে। এতো মানুষ থাকলে আমার আসতে প্রচন্ড বিরক্ত লাগে। খোলা জায়গা প্রাকৃতিক পরিবেশ কম মানুষজন আমার অনেক বেশি পছন্দের। মানুষ বেশি থাকলে আমরা আর একটু সামনের দিকে চলে যাই। আসেপাশে যেদিকেই দেখা যায় সবদিকেই বিল। বিল শেষে একটা বাজার আছে নাম ইটাখোলা বাজার। এখানে একবার যেয়ে অবাক হয়ে গেছিলাম। জিনিসপত্রের দাম এতো কম। কলা এখানে কেজি হিসেবে বিক্রি হয় হালির কোন হিসাব নেই। লিচুও কেজি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি লিচু মাত্র একশত টাকা। পানির দরে সব জিনিসপত্রের দাম। এরপরে থেকে আমরা বিলের দিকে গেলে আগে ইটাখোলা বাজারে যেয়ে কিছু খাবার কিনে এনে নদীর পাড়ে বসতাম।
গত নভেম্বরে নদীর পাড়ে গিয়ে দেখি কিছুই চিনতে পারিনা। পুরাদমে নদী খননের কাজ চলতেছে। অনেক গভীর করে খনন করতেছে। তখন নদীতে কোন পানি ছিলো না। এবার যেয়ে দেখি অনেক পানি আবার নৌকাও চলতেছে।
এবার বাড়িতে এসে নদীর পাড়ে মাত্র দু'বার গেছি। ইদানিং এতো মানুষ যায় যে ওদিকে আর যেতে মন টানে না। আশেপাশে আরও এলাকায় বিভিন্ন জায়গাতে বাইক নিয়ে ঘুরতে যাই বন্ধুদের সাথে। লকডাউনে মানুষ অন্য কোথাও না যেয়ে এদিকেই সবাই ঘুরতে আসে। এদিকটায় পুলিশও আসে না। তাই সবাই নিশ্চিন্তে একটু আড্ডা দিতে পারে।