কয়েকদিন থেকে আবহাওয়ার কিছুই বুঝা যাচ্ছে না। এই বৃষ্টি এই রোদ। খুব ভোরের দিকে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। কিন্তু এরকম আবহাওয়ার কারণে ভোরে ঘুম থেকে উঠতে ইচ্ছা করে না। ফ্যান ছেরে কাথা মুড়ি দিয়ে ঘুমাতে অনেক আরাম লাগে এই সময়। কিন্তু প্রতিদিনই নানি অথবা আম্মা এসে রুমের ফ্যান অফ করে দিয়ে চলে যায়। ফ্যান অফ করার সাথে সাথেই ঘুম ভেঙে যায়। কিছু বললেই সকালের হাওয়া বাতাস গায়ে লাগানো ভালো। ফ্যানের বাতাসে এতো থাকতে হয় না। প্রতিদিন সকালে আম্মা আর নানিকে এটা বুঝাইতেই যায় যে ফ্যান ছেরে দিয়ে কাথা মুড়িয়ে ঘুমাতেই আমার বেশি আরাম লাগে। বাহিরের হাওয়া বাতাস আমার লাগবে না। আজকেও ঘুম থেকে এভাবেই গজগজ করতে করতে উঠলাম। আম্মা ঘুম থেকে উঠার সাথে সাথে খাওয়ার জন্য তাড়া দিতে থাকলো। বাজারে যেতে হবে বাসায় কাচাঁ তরকারি শেষ হয়ে গেছে। খাবার দেখেই আমার মন অনেক ভালো হয়ে গেছে। আজকে আম্মা কয়েক রকমের ভর্তা করছে। বাদাম, কুমোর বড়ি, আলু ও ডাল ভর্তা সাথে ডিম ভাজি। ভর্তা ভাত আমার অনেক প্রিয়। আর আম্মার হাতের ভর্তাতো আমার কাছে অমৃত লাগে। আমি বাড়িতে আসলে সবসময় সকালে আম্মাকে ভর্তা ভাত করতে বলি। কিন্তু সবসময় করতে চায় না। এতো ভর্তা ভাত খাওয়া যাবে না গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হবে। এতো কিছু বলে আবার নিজেই পরের দিন সব ভর্তা করে দিবে। প্রায় দুই প্লেট সমান ভাত খেয়ে ফেলছি। এরপরেও মনে হচ্ছিলো আরও ভর্তা থাকলে মনে হয় ভাত আরো খেতে পারতাম। বাড়ি আসলে আমি বাদাম আর কুমোড় বড়ি ভর্তা অনেক খেতে চাই। আম্মা আমার জন্য সবসময় বাসায় বড়ি রেখে দেয়। জানেই আমি এটার ভর্তা খাওয়ার জন্য সবসময় পাগল থাকি। খাওয়ার পরে আর নড়তে পারতেছি না। বাজারে কিভাবে যাবো এটাই চিন্তা করতেছি। হঠাৎ দেখি আকাশে মেঘ করে আসলো। ভাবলাম এখনি বৃষ্টি চলে আসবে এখন আর বাজারে যেতে হবে না। কিন্তু দেখি কিছুক্ষণের মধ্যেই কাঠফাটা রোদ উঠে গেলো। কি হলো কিছুই বুঝলাম না। বাজারের ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে পরলাম। বাসার নিচে এসে ভ্যানের জন্য অপেক্ষা করতে থাকলাম। আমি যেদিকে যাবো সবসময় তার বিপরীত দিক দিয়ে ভ্যান আসতে থাকে। ভ্যানের জন্য বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো। বাজারে গোহাটিতে চলে গেলাম। অনেক বড় কাচাঁ বাজার বসে ওখানে। ছোট বেলায় এই বাজারের নাম জানতাম গুহাটি। লোকজন গোহাটিকে গুহাটি বানায় দিছে। বাজারে সবাই এমন অদ্ভুত ভাবে তাকায় থাকে যেনো চিড়িয়াখানা থেকে আসছি। চুলের একটা ঝুটি করে যাই। সবাই দেখে বেশ কিছুক্ষণ তাকায় থাকে। মাস্ক থাকার কারনে এইজন্য আমার অনেক সুবিধা হইছে। কেউ সেরকম চিনতে পারে না। এদিকের লোকজনের অনেক কৌতুহল হঠাৎ করে প্রশ্ন করে বসে বাবা তোমার বাড়ি কই? আশেপাশে কোথাও? কার ছেলে তুমি? কি করি অনেক প্রশ্ন করতে থাকে। এইসব বিড়ম্বনার শিকার হয়ে বাসায় চলে আসি। এই কারনে আমার বাজারে যেতে ইচ্ছা করে না। বাসায় আসার পরেই বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো। দুপুরে খাওয়াদাওয়ার পরে ঠান্ডা ওয়েদারে ঘুমায় পড়লাম। বিকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আম্মা কলার মগজ নিয়ে আসছে। মগজ ভর্তা আর ভাজি খাওয়া যায়। আমার মগজ ভর্তা অনেক পছন্দের। আম্মাকে সাথে সাথে রাতে মগজ ভর্তা খাবো। প্রথমে রাজি হয়নি একটু পরে এসে বলতেছে করে দিবে। আমি এরপরে বন্ধুদের সাথে বিলের পাড়ে ঘুরতে চলে গেলাম।
বিকালের দিকে বিলের দিকে সময় কাটাতে বেশ ভালো লাগে। সুর্যাস্ত অনেক সুন্দর দেখা যায় এখান থেকে। প্রায় রাত পর্যন্ত বিলের দিকে থেকে বাসায় চলে আসলাম। বাসায় এসে রাতের খাবার খাওয়ার সময় দেখি আম্মা মগজ ভর্তা করছে। অনেকদিন পরে আম্মার হাতের মগজ ভর্তা পেয়ে অনেক তৃপ্তি নিয়ে ভাত খেলাম।