ঈদে বাড়ি ফেরা

Words
596
Reading
3 min
Listen
Play
5y

IMG_20210716_180228225~2.jpg

ফাইনাল পরিক্ষা শেষ ঈদে বাড়ি জেতে হবে। ঈদের কারনে কঠোর লকডাউন তুলে দিছে। এবার ঈদে বাস- ট্রেন সব খোলা। গত ঈদের মত ভোগান্তি নিয়ে আর কারো বাড়ি জেতে হবে না। ঢাকায় এই কয়দিনে বাসায় থাকতে বিরক্ত হয়ে গেছি। প্রতিদিন সকালে উঠে অনলাইন পরিক্ষার প্রস্তুতি নিতে হয়। পরিক্ষা শেষ করে ক্যাম্পাসের দিকে যাবো চিন্তা করতেছি। বাসের টিকেট এখনও ম্যানেজ করতে পারিনাই। এবার সব টিকেট অনলাইনে দিবে। দুপুরের দিকে সহজে ঢুকে দেখলাম এখনও টিকেট দেয়নাই। এদিকে ভ্যাক্সিন নিতে হবে দুপুর ১ঃ৩০ টার ভিতরে সময় শেষ হয়ে যায়। শেষ দিন ভাইভা নিতে নিতে দুপুর একটা বেজে গেলো। মেজাজ অনেক খারাপ হইতেছে। আগের দিন সবার ভাইভা নিয়ে নেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু স্যাররা দেরি করতে করতে আমাদের একদিন পরে ভাইভা নিবে বলে জানায়।
কিন্তু সেখানেও তারা দেরি করে ফেলে। আমার ক্যাম্পাস যাওয়ার প্লান ভেস্তে যাইতেছে। ভাইভা শেষ করে ভ্যাক্সিনের জন্য হাসপাতালের উদ্দেশ্য বের হয়ে গেলাম। হাসপাতালে যেয়ে দেখি ভ্যাক্সিন দেয়ার সময় শেষ। বাসায় চলে আসলাম চিন্তা করতেছি সব গুছায় ক্যাম্পাসে চলে যাই। একদিন থেকে বাড়ি চলে যাবো। সহজে ঢুকে দেখি কোন বাসের টিকেট নাই। ঘন্টাখানেক আগেই দেখলাম টিকিট ছাড়েনাই আর এখন দেখি টিকেট নাই। মেজাজ আরও গরম হইতেছে। এরমধ্যে মেজ ভাই ফোন করে বলে সকালে ও গাড়ি নিয়ে যাবে আমি যাবো কি না। বাসের টিকেট না পেয়ে সব কিছু চিন্তা করে বললাম যাবো। সন্ধার পরে ঢাকায় ক্যাম্পাসের কিছু সিনিওরদের সাথে আড্ডা দিলাম। ক্যাম্পাস না যাওয়ার কষ্ট কিছুটা হলেও দূর হলো। রাতে বাসায় এসে রান্না করে পিসিতে বসলাম মেজ ভাইয়ের কিছু ফাইল নিতে হবে। এইসব করতে করতে প্রায় রাত চারটা বেজে গেলো। মেজ ভাই ভোর ছটায় আসবে। চিন্তা করতেছি অনেক বেজে গেছে এখন ঘুমালে আর উঠতে পারবো না। জেগেই থাকবো তাই ফোন হাতে নিয়ে টিপতে থাকলাম। হঠাত চোখ খুলে দেখি সকাল হয়ে গেছে। ফোন হাতে নিয়ে দেখি ফোন বন্ধ। আমারতো হাত কাপতে শুরু করে দিছে সময় দেখতে পারতেছিনা। ফোন চার্জ দিয়ে দেখি ৬ঃ৩৮ বাজে কিছুতা শান্তি লাগছিলো কারন আমি ভাবছিলাম আটটা ন'টা হয়তো বেজে গেছে
। বড় ভাইয়া, আপু, মেজভাই সবাই প্রায় চল্লিশবারের উপরে কল করছে। ভাইয়া কে কল করতেই অনেক ঝাড়ি খেলাম। তারাতারি রেডি হয়ে বাসার নিছে নামতে বললো। দশ মিনিটের ভিতরে আমি নিচে নেমে আসলাম ভাবতেছিলাম একটা মাইরও মাটিতে পরবে না কিন্তু দেখলাম ভাইয়া কিছুই বললো না। গাড়িতে উঠে পরলাম রাস্তায় মোটামুটি জ্যাম। হেমায়েতপুর পার হতেই প্রচন্ড জ্যাম শুরু। ফুলবাড়িয়া হয়ে মানিকগঞ্জের দিকে ঢুকলাম। ওদিক দিয়ে টাংগাইল দিয়ে বের হবো। এদিকে খোজ পেলাম একজন ভোর চারটায় বের হয়ে এখনও সাভারে আর আমরা এদিকে টাংগাইলে চলে আসছি। মানিকগঞ্জের ভিতরে এতো সুন্দর। চারিদিকে সবুজ,গাছপালা, নদী, ফ্রেশ বাতাস।
IMG_20210716_090915026~2.jpg
মানিকগঞ্জ আমি এর আগে দুইবার আসছি। একবার ফ্রেন্ডের বাসায় আর একবার বিজয় মেলাতে। শহরের বাহিরে আসা হয়নি। এবার প্রথম গ্রামের ভিতর দিয়ে আসলাম। প্রায় ঘন্টা তিনেক পরে টাংগাইলে এসে পৌছালাম। যমুনার কাছাকাছি এসে একটু জ্যাম পেলাম। কিন্তু যমুনা পার হতেই সব গাড়ি একেবারেই থেমে গেলো। প্রচন্ড জ্যাম শুরু। সিরাজগঞ্জের ভিতর দিয়ে ঢুকে পরলাম এদিকটায় জ্যাম একটু কম। প্রায় দুপুর হয়ে গেছে হালকা হালকা ক্ষুধা লাগা শুরু করছে। আমরা ট্রাকের হোটেল খুজতেছিলাম ওরা গরুর মাংস অনেক ভালো রান্না করে। কিন্তু আমরা হাইওয়ে রোড ছেড়ে ভিতর দিয়ে আসার কারনে কোন ট্রাকের হোটেল পাচ্ছিলাম না। প্রায় আধা ঘন্টা চলার পরে আবার বগুড়া হাইওয়েতে উঠলাম। বেশ কয়েকটা ট্রাকের হোটেল পেলাম কিন্তু কোথাও ভালো গরুর মাংস পেলাম না। খুজতে খুজতে বগুড়া চারমাথার কাছাকাছি আসতে আসতে অবশেষে একটা ট্রাকের হোটেল পেলাম। দুপুরের খাওয়াদাওয়া ওখানে সেরে নিলাম। খাওয়াদাওয়া শেষ করে একটা সিগারেট জ্বালালাম। অনেকক্ষন পরে একটা সিগারেট জালাতে পেরে অনেক শান্তি লাগতেছে। তার উপরে আবার গরুর মাংস আর গরম ভাত দিয়ে খাইছি। সিগারেট শেষ করে গড়িতে উঠে পরলাম।এবার একটানা চলে যাবো আর কোথাও থামার জায়গা নাই। তিনটা ঈদ পরে এবার বাড়ি যাচ্ছি।

IMG_20210716_165636756~2.jpg

চারিদিকের গ্রামের পরিবেশ দেখতে দেখতে বাড়ি চলে আসলাম।প্রায় দশ ঘন্টার মত বাড়ি আসতে। অনেকদিন পরে বাড়িতে ঈদ করবো সবার সাথে।

ঈদে বাড়ি ফেরা | Ecency