বাচাল প্রকৃতির আমার খুব এক কাছের ছোটভাই সেদিন কথায় কথায় বলছিল হাইভের কথা। বলছিল এমন একটি সামাজিক যোগযোগের মাধ্যমের কথা যেখানে ব্যাক্তির সত্ত্বার মাপকাঠি নাকি তার আত্মা দিয়ে বিচার করা হয়ে, যা ফেসবুক টুইটারের জগতে বিশ্বাস করা বেশ কঠিন। ছোটভাই, যাকে হয়ত পাঠকদের কেউ কেউ চিনবেন, সে তার পরিচয় গোপন করার শর্ত দিয়ে এই একাউন্ট খুলে দেবার সময় বলেছিল যে, যে জগতে পা রাখতে যাচ্ছেন, সেখানে প্রবেশ করা সহজ, কিন্তু মোহে পড়ে গেলে আর বের হতে পারবেন না। তাই বুকে দুরু দুরু করতে থাকা সত্ত্বেও এই দুর্গম অঞ্চলে এক পা দু পা করে হাইভ তথা মৌচাকে কিছু একটা লিখেই ফেললাম। লেখকের লিখনশৈলী বেশ দুর্বল, তাই ভুলভাল হলে অগ্রিম ক্ষমাপ্রার্থী।
নিজের পরিচয় যদি দিতে হয়, তবে বলব যে, আমি এমন একজন মানুষ যে জীবনের প্রতিটা বিষয় সম্পর্কে ইতিবাচক। বলা যায় যে ফেটালি অপ্টিমিস্টিক। সেকারনেই হয়ত আমি আমার স্বপ্ন ও শখের প্রতি সব সময় বেশ আগ্রহী এবং তা পূরণের লক্ষ্যে কঠোর পরিশ্রম করি। যদি এখানেই পরিচয়পর্ব শেষ করে দেই তবে তা তেমন একটা ভুল কিছু হবে না। এ দুটি বাক্যেই কেন যেন আমার সব বলা শেষ হয়ে যায়।
পড়াশোনায় আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কারুকলা বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। এখানে আবাসিক হলে আমার বিচরণ। এবং স্নাতক সম্পন্ন করে এখন স্নাতকোত্তর করছি।
প্রতিটি ব্যক্তির আলাদা আলাদা অনেক শখ থাকে। আমারও আছে, যার মধ্যে ভ্রমণ অন্যতম। প্রতি বছর আমি অনেক জায়গাতেই ঘুরতে যাই, হয়ত প্রকৃতির নয়তা আত্মার সন্ধানে। আমার দ্বিতীয় বেশ পছন্দের বিষয় হল কারুশিপ্লের বিভিন্ন কাজ। যেমন- পিতলের কাজ বা কাঠ খোদাই। এছাড়াও বাকি সবার মতই বই পরতে, লিখতে, ভাবতে, স্বপ্ন দেখতে, সকালের সূর্যোদয়, রাতের চাঁদ দেখতে, বসন্তের ফুল স্নিগ্ধতা, গ্রীষ্মের বৃষ্টি, শরৎকালের কাশফুল, শীতকাল, প্রকৃতি, সুস্বাদু খাবার এসবি বেশ পছন্দ আমার।
অনেকের চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী হবার স্বপ্ন থাকে, কিন্তু আমি কেন জানি সবসময় রাঁধুনি হতে চেয়েছি। রান্নার প্রেমে পরে যাই আমি স্কুলে থাকতে, এবং বছরের পরে বছর আমার রান্নার প্রতি আগ্রহ বেড়েই গেছে, এখনো থামেনি। রান্না, কি আশ্চর্য চমৎকার একটি বিষয়! আমার বাবা-মা ও সবসময় আমার স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করে গেছেন। তাদের মতে লক্ষ্য অর্জনের একমাত্র উপায় হল কঠোর পরিশ্রম এবং কখনই হাল না ছাড়া।
রান্নার প্রতি আমার আরো ভালোলাগা শুরু মায়ের হাত ধরে কিন্তু রান্নাঘরে আমি যে জিনিস গুলো তৈরি করতে পারি তা খুব সীমিত, তাই আমি আরও অনেক কিছু শিখতে চাই। প্রিয় রান্নাগুলোর মধ্যে হল- কাচ্চি বিরিয়ানি, খাসির রেজালা, গরুর কালাভুলা, ইলিশ পোলাও, পটলের দোলমা, সরিষা ইলিশ, খিচুরি ইত্যাদি মোটকথা বাঙ্গালিয়ানার সব খাবার। এছাড়াও মিষ্টির মধ্যে রসমালাই, কালোজাম, গোলাপজামুন, চমচম, রাজভোগ ইত্যাদি। এই জিনিস গুলো তৈরি করার সময় আমি ঠিক ঠিক বুঝতে পারি যে রান্না থেকে প্রাপ্ত সুখ ও সন্তুষ্টি কতটুকু থেরাপিউটিক হতে পারে। আপাতত আমার লক্ষ্য হলে যে আমি আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী রান্না গুলো সঠিকভাবে শিখতে চাই।
খেলাধুলার মধ্যে আমার প্রিয় খেলা হল ব্যাডমিন্টন। স্কুল জীবনের প্রায় সবগুলো বন্ধুরই খেলাধুলার প্রতি কি যেন এক অমোঘ আকর্ষণ ছিল। কেউ ক্রিকেট,কেউ ব্যাডমিন্টন, কেউ ভলিবল, কেউ ফুটবল, কেউ বাস্কেটবল অথবা কিছু না কিছু একটা খেলাধুলায় থাকতোই।
এখানে এসে, এই মৌচাকের আনচার্টেড টেরিটরি তে আমার জীবনের এই কিঞ্চিৎ গোপন বিষয়গুলো কেন তুলে ধরছি তা আমার জানা নেই। হয়ত কেউ আমার লেখা পড়বে, হয়ত কেউ পড়বে না। আবার এখানে নাকি রোজগারের ও কিরকম একটা ফন্দি আছে। কিন্তু নিজেকে শিল্পী বলে পরিচয় দিয়ে সাথে আবার রোজগারকে মুল্য বেশি দিলে শৈল্পিকতার অবমাননা করা হয়। কেউ পড়ুক বা না পড়ুক, কেন জানি মনে হচ্ছে এখানে হয়ত নিজেকে খুজে পাবার হয়ত একটা সুযোগ পেলেও পেতে পারি। সেজন্যেই হয়ত এখানে আমার আসা। যদি পরশপাথর খুজে পেয়ে যাই, আত্মা শুদ্ধি হয়ে গেলে হয়ত বর্তে যাব। তার আগ পর্যন্ত বিদায় নেই। বেঁচে থাকলে আমাকে কিছুদিন পর পর এখানেই খুজে পাবেন।