বেশ কয়েকদিন থেকে সর্দি ও কাশি। প্রায় সপ্তাহখানেক পরে আজকে হাইভে পোস্ট করছি। অনেক ব্যস্ততার মধ্যে সময় যাচ্ছে। ক্যাম্পাস ছেড়ে ঢাকার দিকে চলে যাবো। এই নিয়ে মন মাঝে মাঝেই খারাপ হয়ে যাচ্ছে। সাতটা বছর এদিকে কাটিয়ে দেয়ার পরে হঠাৎ চলে যেতে হবে ভেবেই বুকের ভিতরে কেমন মোচর দিয়ে উঠছে। রাতে ঘুমাতে গেলে মনে পরে, সকালে ঘুম থেকে উঠার পরে মনে পরে আর মনটা কেমন করে উঠে। ইদানিং বাসায় থাকতে একদম মন চায় না। সুধু মনে হয় যাই একটু ডিপার্টমেন্টের দিকে যেয়ে বসে থাকি। ক্যাম্পাসে কোথাও যেয়ে একটু হেটে আসি।
ডিপার্টমেন্টের পাশে এই জায়গাটার নাম চারুছায়া। এখানে বসে আমার জিবনের সবথেকে সুন্দর সকাল, দুপুর, বিকাল ও রাত কেটেছে। এই জায়গাটাতে যখনই বসতাম না কেন ভালো লাগতো। প্রতিদিন সকালে ডিপার্টমেন্টে এসে এই জায়গাতে বসতাম। পাশেই দোকান থেকে এক কাপ চা ও সিগারেট নিতাম। চায়ে চুমুক ও সিগারেটে টান দিয়ে অপলক দৃষ্টিতে লেকের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। লেকের পাশে হওয়াতে প্রায় সবসময় বাতাস থাকতো। চা-সিগারেট শেষ করে ক্লাসের করতে চলে যেতাম। ব্যাবহারিক ক্লাসের ফাঁকে চাইলে যখন খুশি বের হতে পারতাম। ক্লাস থেকে বের হয়ে সোজা এখানে চলে আসতাম। দুপুরের খাবারও এখানে দোকান থেকে খেতাম। লেকের দিকে তাকিয়ে থাকতাম আর খেতাম। মাঝে মাঝে লেকের মাঝে পানকৌড়ি দেখতাম এক জায়গাতে ডুব মেরে আবার কিছুদুরে যেয়ে উঠছে। প্রতি বছর ক্যাম্পাসে যে অতিথি পাখি আশে তাদের মধ্যে যে পাখি গুলোর বাচ্চা হয় সেগুলি লেকের মধ্যে খেলা করে।
এখানে বসে আমি পৃথিবীর সব থেকে সুন্দর বিকাল উপভোগ করেছি। দূরে দেখা যায় ঐ কৃষ্ণচূড়া ফুল বিকালের রোদ যখন ফুলের উপরে পরে তখন ফুলের রঙের উজ্জলতা আরও বেড়ে যায়। প্রতি বছর আমি এই সময়টার জন্য অপেক্ষা করতাম কখন কৃষ্ণচূড়া ফুল ফুটবে। ক্লাস শেষ করে প্রায় প্রতিদিন বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এইখানে বসে থাকতাম। আজকে বিকালেও যখন এখানে বসে ছিলাম বুকের ভিতরে কেমন খালি খালি লাগছে। মাসে হয়তো ঢাকা থেকে একদুইবার আসবো কিন্তু চাইলেই হঠাৎ এখানে এসে এভাবে বসে থাকতে পারবো না।
পাশেই আছে হিজল গাছ। হিজল ফুল যখন পরে তখন পুরো জায়গাটা লাল কার্পেট হয়ে থাকে। ভোরের দিকে বৃষ্টির মত গাছ থেকে হিজল ফুল পড়তো। কয়েক মিনিটের মধ্যে পুরো জায়গা লাল কার্পেট হয়ে যেতো। মাঝে মাঝে রাতে গাছের উপরে চুপ করে করে বসে থাকতাম। নিচে কেউ এসে বসলে ভয় দেখানো যেতো। নিচে থেকে কেউ বুঝতে পারতো না গাছের উপরে কেও আছে।
ঠিক এই সময় এসে মনে হচ্ছে ক্যাম্পাসে কত কি করার বাকি ছিলো কিছুই করতে পারলাম না। ক্যাম্পাসের সবুজ বাসের সাথে একটা ছবি নাই। বন্ধুবান্ধবের সাথে তেমন কোন ছবি নাই। তেমন কোন স্মৃতি নিয়ে যেতে পারছি না। র্যাগের প্রোগ্রাম হবার কথা ছিলো করোনার কারনে সব বন্ধ। ক্যাম্পাস কবে খুলবে কোন ঠিক নেই। এই সময়ে ক্যাম্পাস সব থেকে বেশি মুখরিত হবার কথা ছিল। এই সাতটা বছরের স্মৃতি মনে পরলে আর কিছুই ভালো লাগছে না। এই জীবন টা আর কখনই পাবো না। জানিনা নতুন জায়গাতে কিভাবে থাকবো। ক্যাম্পাস ছাড়া দুনিয়ার সব জায়গা আমার কাছে দম বন্ধ লাগে। এখানে সম্পূর্ণ এক আলাদা দুনিয়াতে বসবাস করতাম। তবুও জিবনের তাগিদে নতুন জায়গাতে যেতে হচ্ছে। সবকিছু নিয়ে মন কিছুতেই ভালো থাকে না। আর মাত্র একটি মাস আছি, এই এক মাস পুরোটা উপভোগ করে যেতে চাই।