ক্যাম্পাস ছেড়ে ঢাকার দিকে চলে যাবো। ঢাকা যেতে হবে নতুন বাসা খোঁজার উদ্দেশে। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠলাম। উঠে দেখি ঝুম বৃষ্টি আর সাথে ঝড়। আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। নয়টার দিকে দরজায় নক শুনে খুলে দেখি খালা এসেছে রান্না জন্য। খালাকে চট করে কিছু রান্না করতে বললাম খেয়ে বেড়িয়ে পরবো। রান্না করতে গিয়ে দেখে পানি নাই আবার এদিকে ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ অনেক আগেই চলে গেছে। পানি নাই দেখে সাথে সাথে আমার পেটে মোচর মারা শুরু করলো। ফ্রেন্ডকে ফোন করে ওর বাসায় গিয়ে প্রাকৃতিক ডাকের কাজ ও গোসল সেরে নিলাম। বাহিরে খাওয়াদাওয়া করে বেড়িয়ে পড়লাম ঢাকার উদ্দেশে।
ঢাকা যেতে যেতে ১২ টা বেজে গেলো। শ্যামলী নেমে রিক্সা নিয়ে সূচনা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে নামলাম। আরও দুইজন বন্ধু আসতেছে ওদের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওরা চলে আসলো। গতকাল ওরা শেখেরটেকে একটা বাসা দেখছে ঐ বাসা দেখতে যাবো। রিক্সা নিয়ে চলে গেলাম বাসার উদ্দেশে।
৬ তালায় বাসা। বাসায় যেয়েই মন ভালো হয়ে গেলো। চারিদিকে খোলা আর অনেক আল বাতাস। ঠিক যেমন টা চেয়েছিলাম আমি। সব থেকে ভালো লাগছে রান্না ঘর দেখে। সাথে ছোট্ট একটি বারান্দা। মোটামুটি সব ঠিক করে ফেললাম এই বাসাতেই উঠবো। বাসার মালিক কক্সবাজারে থাকে। বাহিরে বেড়িয়ে দুপুরের খাওয়াদাওয়া করে মালিক কে ফোন করা হল বাসা কনফার্ম করার জন্য। ফোন করে পুরা হতাস হয়ে গেলাম। বিল্ডার্স কোম্পানির ম্যানেজার নাকি ঐ ফ্লাটে উঠবে ফ্যামিলি নিয়ে। এক রুম উনাদের দিতে হবে আর এক রুম সে ভাড়া দিতে পারবে। এই বাসাটা আমাদের বাজেটের মধ্যেও সুন্দর হয়ে গেছিলো। এতক্ষণ যা যা প্লান করছিলাম মুহূর্তের মধ্যেই সব উবে গেলো। আবার নতুন করে বাসা খুজতে হবে।
কিছুক্ষণ হা হুতাশ করে আবার তিনজন নতুন করে বাসা দেখতে শুরু করলাম। এবার শুরু হল আসল মজা। টু লেট থেকে নাম্বার নিয়ে যেখানেই ফোন করি ব্যাচেলর শুনে কেউ ভাড়া দিতে চায় না। বেশ কয়েকটি নাম্বারে ফোন করার পরে অবশেষে একজন বাড়ির মালিক বললো ব্যাচেলর ভাড়া হবে কিন্তু আট তলায়। বাসা লিফট নেই, হেটে উঠতে হবে। কি আর করার বাসা যখন পাচ্ছি না এটাই দেখতে হবে। বাসার মালিকের ব্যাবহার অনেক ভালো। কিন্তু বাসা দেখে একদমই পছন্দ হলো না। আবার বেড়িয়ে পড়লাম পরবর্তী বাসার খোঁজে। প্রায় সন্ধ্যা পর্যন্ত দেখার পরে অবশেষে বাসা পেলাম একটা। কিন্তু এই বাসাতে দিনে পর্যাপ্ত আলো বাতাস তেমন আশে না। এখানে দারওয়ানের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম ব্যাচেলর ভাড়া নিতে হবে মালিকের সাথে কথা বলতে হবে। উনি ধানমন্ডিতে থাকেন। ফোন করার পরে জানতে পারলাম উনার বাসা ভাড়া দিতে কোন সমস্যা নেই কিন্তু যেমন টা হয়। একগাদা শর্ত জুড়ে দিলেন। এটা করতে পারবেন না ওটা করতে পারবেন না। আমি শুধু আচ্ছা আচ্ছা করে গেলাম। প্রথম বাসা টা হাত ছাড়া হওয়ার পরে আসলে কোন বাসাই আর ভালো লাগছিলো না।
মালিকের সাথে কথা বলে বাসা বের হয়ে ভাবতে লাগলাম কি করবো। এই বাসা নিবো নাকি পরের সপ্তাহে আবার আসবো বাসা দেখতে। এর মধ্যে প্রথম বাসার মালিক কে আবার ফোন দিলাম কোনভাবে ম্যানেজ করা যায় নাকি। উনি আগামিকাল বিল্ডার্স কোম্পানির সাথে কথা বলে আমাদের জানাবেন। ঐ বাসা পাব কি না জানিনা। তবে আমি এখন ও আশা নিয়ে বসে আছি পাবো। এইসব ভাবতে ভাবতে বাসে উঠে পড়লাম। আর বাসা দেখব না। ক্যাম্পাসে ফিরতে হবে। কবি বলে গেছেন ' এই শহরে ভালবাসা পাওয়া গেলেও ভালো বাসা পাওয়া সম্ভব না'। হাহাহা।