সকাল ছয়টা, কালকা স্টেশন। দিল্লি থেকে মাত্র ট্রেন থেকে নামলাম। গন্তব্য শিমলা। কালকা থেকে ৯০ কিলোমিটার এর পাহাড়ি রাস্তা। টয় ট্রেনে যেতে হবে। অনেক আগে থেকে টয় ট্রেনে উঠার স্বপ্ন ছিল। হিন্দি মুভিগুলোতে প্রায় সময়ই দেখতাম। সেই সময় থেকে টয় ট্রেনে উঠার অনেক ইচ্ছা। কিন্তু কালকা স্টেশানে নেমে মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো। এখানে এসে শুনি টয় ট্রেনে আমাদের টিকেট আগে থেকে বুকিং দেয়া ছিল না। এখন শিমলা যেতে হলে আমাদের বাসে যেতে হবে। মনটাই তখন খারাপ হয়ে গিয়েছিলো। কারন আমরা ফেরার পথে মানালি হয়ে ফিরবো টয় ট্রেনে আমার আর উঠা হবে না। হঠাৎ শুনি সকাল ৮ঃ৩০ মিনিটে আরও একটি টয় ট্রেন ছাড়বে আর ঐ ট্রেনে যেকোনো সময় টিকেট কাটা যায়। তখন আমি স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়লাম।
হাতে এখনও দেড় ঘণ্টার মত সময় আছে। স্টেশানের বাহীরে থেকে নাস্তা করে এসে চারিপাশের দৃশ্য অবলোকন করতে কখন যে তট্রেনের সময় হয়ে আসলো বুঝিই নাই। এতো সুন্দর। স্টেশানেই একজন বাঙ্গালীকে পেয়েছিলাম, নেত্রকোনায় বাড়ি। প্রায় পনেরো বছর ধরে কালকাতে থাকেন তিনি। কিছুক্ষণ তার সাথে গল্প করে ট্রেনে উঠে পরলাম।
কালকা স্টেশান থেকে পাহাড়ি পথ বেয়ে একটু একটু করে ট্রেন এগিয়ে যেতে শুরু করলো। চারিপাশে অপরূপ দৃশ্য। দূরে পাহাড়ের গায়ে ছোট ছোট বাড়ি দেখা যায়। সব থেকে মজার ছিলো যখন একটু পরপর টানেল আশা শুরু করলো। চারিপাশ অন্ধকার হয়ে যায় কিছুই দেখা যায় না।
ট্রেনের একপাশে সাথেই লাগানো পাহাড় আর অপরপাশেও যতদূর চোখ যায় সুধু পাহাড় দেখা যায়। এতো সুন্দর চারিপাশ দেখতে দেখতে কখন যে সময় পেড়িয়ে গেলো কিছুই বুঝতে পারলাম না। বিকাল তিনটায় পৌঁছালাম হিমাচল প্রদেশের রাজধানী শিমলাতে।
শিমলা স্টেশানে নামার পরে এতো ঠাণ্ডা বাতাস যে জমে যাচ্ছিলাম। স্টেশান থেকে বের হয়ে গাড়িতে উঠলাম হোটেলের উদ্দেশে। রাস্তাঘাট এতো পরিষ্কার কোথাও কোনো ধুলাবালি নেই। কিছুক্ষণ পরেই হোটেলে নামলাম। ফ্রেশ হয়ে খাওয়াদাওয়া করেই বেড়িয়ে পড়লাম শিমলার অপরূপ দৃশ্য অবলোকন করতে। দূরে পাহাড়ের মাথায় বরফ দেখা যায়।
রাতের দিকে চলে গেলাম ম্যাল রোডের দিকে। এখানেই থ্রি ইডিয়টস মুভির শুটিং হয়েছিলো। যেনো চোখের সামনে ভাসছিল ফারহান, রাজু আর চতুর এর ছবি। জায়গাটা দেখে কত পরিচিত লাগছিলো। এখান থেকে সোজা হোটেলে চলেআসলাম। রাতে খাওয়াদাওয়া করে ঘুম। সকালে গন্তব্য গ্রিন ভ্যালি, কুফরি, এ্যাপল ভ্যালি ও ফাগু ভ্যালি।
সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে খাওয়াদাওয়া করে রওনা হলাম গ্রিন ভ্যালি এর উদ্দেশে। পাহাড়ের গায়ে যতদূর চোখ যায় শুধু গাছ আর গাছ। গ্রিন ভ্যালি কিছুক্ষণ থাকার পরেই কুফরিতে গেলাম। কুফরিতে যাওয়ার পরে দেখি ওখানে ঘোড়া ভাড়া করতে হবে। ঘোড়াতে করে পাহাড়ের উপরে নিয়ে যাবে। রাস্তার উপরে কাঁদা আর সাথে ঘোড়ার পায়খানা পরে এতো বাজে অবস্থা ছিল উপরে আর আমার যাওয়া হয়নি।
কুফরির উপরে যখন যেতে পারলাম না মন একটু খারাপই হলো। কিন্তু আশেপাশে যখন দেখতে শুরু করলাম এতো ভালো লাগলো যে কুফরিতে যাওয়ার দুঃখ ভুলে গেলাম। দুপুরের পরে হোটেলে ফিরে বিশ্রাম নিয়ে সন্ধ্যার দিকে কেনাকাটার জন্য বাজারে গেলাম। প্রায় রাত পর্যন্ত থেকে অনেক কেনাকাটা করে হোটেলে ফিরলাম। পরেরদিন সকাল সাতটায় গাড়ি, পরবর্তী গন্তব্য মানালি। প্রায় দুইদিন শিমলা উপভোগ করলাম। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আরও একবার শিমলা যাবো। আর এবার কয়েকদিন থাকার চেষ্টা করবো। পুরো শিমলা দেখতে চাই। চোখ জুড়িয়ে নিয়ে যেতে চাই।