তোমাকে ভাববার জন্য এখন আর কোনো দিনক্ষণ ঠিক করে রাখা লাগে না।
প্রথম দেখার দিনের মতো...এটা ক্যালেন্ডারে দাগ কেটে বছর শেষে স্মরণ করা লাগে না।
দেখা করতে যাবো...সেই ভেবে ঘড়িতে সময় বেঁধে রাখা লাগে না।
কিছু না চাওয়াতেই যেন প্রতিটা মুর্হূত কি দারুণভাবে তুমি আমায় জড়িয়ে রয়েছো!
ব্যস্ততার ছুটাছুটি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা, হৈ-হুল্লোর সবই চলে।
প্রতিটা মুর্হূত আমি কি অপরিসীম ব্যস্ততায় কাটাই!
তুমি নিশ্চয়ই তা জেনে গেছো।
তারই সাথে এটাও জেনেছো আমি তোমাকে ভুলে কতটা ফুর্তিতে দিন পার করছি!
প্রতিবারই অবাক হও তুমি!
হৃদপিন্ডের সমস্ত ভালোবাসা তোমাকে নিংড়ে দেবার পরেও আমি কেমন করে তোমায় ভুলে গেলাম, তাই না?
আমিও অবাক হয়েছিলাম।
যেদিন জানলাম তুমি আমার সমস্ত ভালোবাসার দখল নিয়ে আমারই হবার নও, সানাইয়ের সুরে সুরে তুমি বেঁধেছো অন্য কারো ঘর।
সেদিন আমার ভালোবাসার শহরের প্রতিটি দেয়ালের ভেঙ্গে পড়ার শব্দ আমাকে অবাক করেছিলো!
বৃষ্টি ছাড়া বন্যায় ভেসে যাওয়া শহরটা আমাকে অবাক করেছিলো!
সময়ে-অসময়ে চৈত্রের হাহাকার করা বুকের জমিনটা আমাকে অবাক করেছিলো!
একটা সময় যখন হৃদয়টা মরুভুমি হলো, তখন শুধু ধু ধু মরীচিকায় বারবার তোমার আগমন...আমি কি করে তোমায় উপেক্ষা করি!
সময়ের এই নিষ্ঠুর দেখা দৃশ্যগুলো যদি সত্যিই তোমাকে ভুলে আছি উপলদ্ধি করায়, তবে কেন আমরা অদৃশ্যে বিশ্বাস করি?
কেন চোখ বন্ধ করে সৃষ্টিকর্তাকে পাওয়ার আকুতি জানাই ?
ভালোবাসার আলিঙ্গনগুলো কেন লোকচক্ষুর অন্তরালে হয়?
কেন মায়ার বাঁধন দেহের ভেতরে হৃদপিন্ডের অনুভবের আড়ালে লুকিয়ে রয়?
আছে তোমার জানা কোনো উত্তর?
আমার প্রতিটি রাত নির্ঘুম কেটে যায় তোমার অপেক্ষায়...পৃথিবীর কোনো সঙ্গ, ব্যস্ততা, তোমার ভাবনার কাছ থেকে আমাকে সরিয়ে নিতে পারে না।
ক্লান্তি শেষে তুমিই আমার প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির অসুখ।