অব্যক্ত কথা....

Words
328
Reading
2 min
Listen
Play
5y

কথা বলতে পারাটা মানুষের জন্য যে কতটা সৌভাগ্যের তা বোঝা যায় যে কথা বলতে পারে না, তাকে দেখলে। মনের ভাব প্রকাশ না করতে পারাটা যে কতটা কষ্টের সেটা বুঝেছিলাম আমার এক বন্ধুর মাকে খুব কাছ থেকে দেখে। প্রসঙ্গটা তুললাম একটা অন্য কারণে।

ইদানীং টিভি সিরিজ দেখা হয় অনেক। প্রায় সব টিভি সিরিজে দেখেছি, তাদের কালচারে কথা বলাটাকে কতটা গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। যেমন - কারো মুড অফ থাকলে বা কেউ কোনো সমস্যায় চিন্তিত থাকলে অপরজন বলবে, Do you want to talk about it?

মানুষ এবং কনভারসেশন তারা কখনোই এড়িয়ে যায় না। আর যে কথা শোনে, সে কখনোই জাজ করে এমন কিছু বলে না যেন অপরজন কনভারসেশনটার জন্য লজ্জা পায় বা বিব্রত হয়।

image.png

Source

আবার অনেকসময় কোনো চরিত্র আবেগে কোনো একটা বিষয়ে গিল্ট ফিল করতে করতে বলে, I'm responsible for this. I'm such a terrible person, I'm a bad person. অন্যজন তখন এই অপরাধবোধে ভুগতে থাকা মানুষটাকে জাজ করে না। বরং তাকে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ার হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে।

কত সিম্পল কিন্তু কত সুন্দর একটা ব্যাপার!

বাস্তবে যখন তাকাই তখন টের পাই, আমাদের এখানে কথা বলাটাই সবচেয়ে বড় যুদ্ধ। কথা আসলে সবার সাথে বলা যায় না। তাদের সাথেই বলা যায়, যারা কথা বোঝে, অথবা বুঝবে বলে আমরা আশা করি। যদি কথা বলার আগেই জাজড হওয়ার ভয় কাজ করে, তাহলে কথা বলার প্রশ্নই আসে না।

ওয়েস্টার্ন কালচারের সাথে কম্পেয়ার করলে আমাদের কালচার নিতান্ত অসভ্যতা ছাড়া কিছু না। কালচার বলেই কিছু নাই আমাদের। যা আছে সবটাই আনুষ্ঠানিকতাসর্বস্ব।

এই কালচারে আপনি নিজের ইচ্ছায় ঘুরতে পারবেন না, নিজের পছন্দে পোশাক পরতে পারবেন না, নিজের মতো আনন্দ করতে পারবেন না, নিজের মনের কথা বলতে পারবেন না, নিজের মতো বাঁচতেই পারবেন না। আপনাকে কোনো না কোনো ভাবে পরিবার, প্রিয়জন, সমাজ, ধর্ম, রাষ্ট্র - কেউ না কেউ আটকে দেবেই। এমনকি এখানে আপনি মরেও শান্তি পাবেন না। মরার পরেও আপনাকে জাজ করা চলতে থাকবে৷

এরকম নিকৃষ্ট কালচারে সাফার করার জন্য পৃথিবী ছাড়ার মানে খুঁজে পাই না। তাই কে কি বললো তা না ভেবে নিজের মনের কথা প্রকাশ করা উচিৎ। হোক সেটা আড্ডায় অথবা কোন প্ল্যাটফর্মে।

image.png

Source

অব্যক্ত কথা.... | Ecency