ইদানিং কেমন যেন একটা অদ্ভুত, অপিরিচিত এবং অসংগত অনুভূতি হানা দিচ্ছে নিজের মধ্যে। বাড়ি থেকে দূরে আছি বেশ কিছুদিন হলো। তবে আমার কাছের বন্ধুরা আমাকে কখনো একাকিত্ব অনুভব করতে দেয় নি। প্রতিটি আড্ডায় আমি এবং আমরা নিয়মিত, পরিচিত মুখ। তবুও কেন যেন মনে হয় ওদের আলোচনার বিষয়বস্তুর সাথে আমি তাল মেলাতে পারছি না। তাই মনে হয়, কথা বলার জায়গা এতো কমে গেছে দিন দিন যে, এখন আর কথাও খুঁজে পাই না।
কোনো আড্ডায় আর ভালো লাগে না বেশিক্ষণ। আবার কোথাও স্থির হয়ে কিছুক্ষণ থাকলে সেখান থেকে আর কোথাও যেতে ইচ্ছে হয় না। মাঝে মধ্যে বাড়ি ফিরতে মন চায় না৷ আবার এমন হয়, কোনো কোনোদিন ঘর থেকেই পা ফেলতে মনে চায় না কোনোদিকে।
খুব অদ্ভুত একটা সময়ের মধ্যে আছি। ঠিক স্পষ্ট করে কিছুই বলতে পারছি না, আমি কি চাই। আমি কে? কোথায় যাব আমি? আমার কি হয়েছে? আমার ভেতরে কি চলছে। কিছুই আমার কাছে স্পষ্ট না। এই যে এখন এসব লিখছি কেনো লিখছি তাও জানি না৷ আজকাল কোনো কিছু প্রকাশ করতেও ইচ্ছা করে না। আবার মাঝে মধ্যে কিছুই আটকে রাখতে ইচ্ছা করে না। কাঁদতে ইচ্ছা করে, পাগলের মতো হাসতে ইচ্ছা করে।
আমি কোথাও নিজেকে খুঁজে পাই না। মাঝে মধ্যে মনে হয় দুনিয়া এগিয়ে গেছে বহুদূর। মানুষের ভাষা বদলে গেছে। চাওয়া বদলে গেছে। মানুষ বদলে গেছে। এবং আমি তাল মিলিয়ে চলতে পারছি না বলে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছি। তাই চলমান পৃথিবীর সাথে আমি একাত্মবোধ করি না। চেনা মানুষদেরও অচেনা লাগে। মনে হয়, তাদের ভাবনা আমার না। তাদের চিন্তা আমাকে আলোড়িত করে না।
মুগ্ধ হতে ভুলে গেছি। হাসতে ভুলে গেছি। অবশ অনুভূতির দেয়ালের এপাশে আমি, আর ওপাশে প্রিয় চেনা জগত। আমি ক্রমশ দেয়াল থেকে দূরে সরে যাই। আরো দূরে। মানুষের সমাজেই আমি মানুষহীন চারপাশকে কল্পনা করি। জনসমুদ্রে আমি এক জন অরণ্য তৈরি করে নিতে চাই।
কেন এমন হচ্ছে? নিশ্চয়ই মনোজাগতিক ব্যাখ্যা আছে। ব্যাখ্যা জেনে আমার লাভ নেই। তবুও মাঝে মধ্যে অকারনেও কত ব্যাখ্যা জানতে ইচ্ছে করে। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ভাবতে ইচ্ছা করে। মানুষ কতটা জটিল প্রাণী এটা প্রতিমুহূর্তে টের পাই নিজেকে দেখে। এতো জটিলতা নিয়ে মানুষ থাকে কি করে!!!