আইসিএমআরের সাম্প্রতিক গাইডলাইন বলেছে, করোনা আঘাত হানতে পারে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রেও। যার ফলে, স্বাদ-গন্ধ ভুলতে পারেন মানুষ। কিন্তু স্নায়ুতন্ত্রে করোনার প্রভাব শুধু এটুকুই নয়, বলছে আমেরিকার নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণা। তাঁদের সাবধানবাণী--- খিঁচুনি, স্ট্রোকের মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে করোনার সংক্রমণের জেরে। মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দাবির প্রমাণ পাচ্ছেন শহরের কোভিড চিকিৎসকেরাও। স্ট্রোকে আক্রান্তের চিকিৎসা করতে গিয়ে মিলেছে করোনা সংক্রমণের হদিস।
স্ট্রোকের উপসর্গ নিয়ে বাইপাসের ধারের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৪৭ বছরের ভদ্রলোক। উচ্চ রক্তচাপ নেই। জ্বর নেই। নেই অন্য কোনও উপসর্গ। ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের চিকিৎসকদের সন্দেহ হওয়ায় করোনার পরীক্ষা করানো হয়। ধরা পড়ে, তিনি করোনায় আক্রান্ত। চিকিৎসকদের সন্দেহ, করোনাভাইরাসের প্রভাবেই স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি।
হালকা জ্বর আর তার সঙ্গেই স্ট্রোকের উপসর্গ নিয়ে মুকুন্দপুরের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন আর এক প্রৌঢ়। স্ট্রোকের সঙ্গে করোনাও ধরা পড়ে তাঁর। শেষ পর্যন্ত আর বাঁচানো যায়নি তাঁকে।
শহরের বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, স্রেফ দু’টো রোগ একসঙ্গে দেখা দেওয়া নয়, করোনাভাইরাসের জেরেই স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। তখন স্ট্রোকটাই হয়ে উঠছে করোনার উপসর্গ। ডিসান কোভিড হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগে ৮ জনেরও বেশি এ ধরনের রোগীদের চিকিৎসা করেছেন বিশেষজ্ঞ পারমিতা ত্রিবেদী। পারমিতা বলছেন, ‘রক্তনালিতে থ্রম্বাস (জমাট বাঁধা রক্ত) তৈরি করছে করোনাভাইরাস। মস্তিষ্কে যখন রক্ত জমাট বাঁধছে তখনই স্ট্রোক হচ্ছে। পরে পরীক্ষা করলে করোনা ভাইরাস ধরা পড়ছে। আন্তর্জাতিক একাধিক পাবলিকেশন ইতিমধ্যেই প্রমাণিত করোনার জেরে স্নায়ুরোগ দেখা দেওয়ার বিষয়টি। এ ক্ষেত্রে আমাদের অভিজ্ঞতাও তাই বলছে।’ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ যোগীরাজ রায় বলছেন, ‘দিল্লি এইমসও এরকম কিছু কেস পেয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে করোনার চিরপরিচিত উপসর্গর বদলে স্ট্রোকের মতো উপসর্গ নিয়ে আসছেন রোগীরা। আমরাও এরকম একটি রোগী পেয়েছিলাম। যদিও, সেই রোগীকে প্রাণে বাঁচানো যায়নি।