দাদার পরিচয়ে বড় হওয়া।

শুরুতেই বলে রাখি এটা কাউকে ব্যাক্তিগভাবে আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে বা কাউকে ছোট করার উদ্দশ্যে লেখা নয়।

এটা নিছকই একটা মজার ঘটনা যেটা জানতে আমার প্রায় দুই দশকেরও বেশি লেগে গেছে।

যাই হোক, বাপ-দাদার পরিচয়ে আমরা মোটামুটি সবাই বড় হই, ছোট বেলায় আমাদেরকে তো কেউ চিনতো না, সবাই আমাদের পরিচয় আইডেন্টিফাই করতো হয় বাবার নামে অথবা দাদার নামে।

images (3).jpeg
Image

অনেকেই আবার সারা জীবনই বাপ - দাদার পরিচয়েই পরিচিত থাকে। আমি এতে দোষের কিছু দেখিনা। উল্টা আফসোস হয় যে কেন বাপের বা দাদার অঢেল সম্পদ থাকলো না। তাহলে কি আর কিছু করে খাওয়া লাগতো? বসে বসে খেতাম সারাজীবন, লোকের কথাতে কি যায় আসে। জীবনে আরাম টায় মুখ্য।

আবার এর ব্যাতিক্রমও আছে।

যেমন, আমাদের অফিসে একজন ছিলেন শুনেছি যার বাবার রয়েছে ধানমন্ডিতে ২ টা বাড়ি, নিজেও আসতেন গাড়িতে করে। তিনি নাকি স্রেফ চাকরি করতেন ব্র্যান্ডিং এর জন্য।
ব্র্যান্ডিং এর গুলি মারি, এরকম হলে আমি যে কি করতাম নিজেও জানি না।

যাকগে, যেটা নিয়ে বলছিলাম। দাদার পরিচয়ে বেড়ে ওঠা।

আমাদের বাড়ির এক ঘর পরেই সলেমান সাহেবের বাড়ি। বয়সে আমার থেকে হয়তোবা ৪/৫ বছরের বড় হবে, বেশিও হতে পারে।

তো এই দুই একদিন আগের কথা, কি নিয়ে যেন তার সাথে তার মামার কথা কাটাকাটি হচ্ছে। এদিকে আমি আর আমার আম্মু মিলে বাড়ির বাইরে ধানের কাজ করছি। কথায় কথায় হটাৎ আম্মু বলে উঠলো সলেমান নামে আসলে কেউ নেই।

আমিতো অবাক। তাহলে ঘটনা কি?
পরে আম্মু বললো সলেমান নামে যাকে আমরা চিনি সেটা আসলে তার দাদার নাম। ওর আসল নাম জসিম, আর ওর ভাইয়ের নাম অসীম।

জসিম আর অসীম সৎ ভাই, এজন্য একসাথে থাকে না।জসিম (সলেমান) থাকে ওর মামার বাড়িতে, যেহেতু তার বাপের ব্যাপারে সবারই বিরূপ মনোভাব, তাই ছোটবেলা থেকে সবাই তাকে তার দাদার নামে (সোলায়মান) ডাকতো।

এখন তার নিজের পরিবার আছে কিন্তু তার নাম আজও সলেমান ই থেকে গেছে। তার বাচ্চারা বাবার নাম জিজ্ঞেস করলে বলে ' সলেমান।'

আর সেটা আস্তে আস্তে তার নামেই প্রতিষ্টিত হয়েছে, জসিম নামে কেউ তাকে চিনে না, সবাই চেনে সলেমান নামে। লোকাল কমিউনিটিতে কেউ আসলে সোলায়মান নাম উচ্চারণ করে না, এটা এখন সলেমান। এমন অনেক নাম আছে যার সঠিক টা আমি আজও জানি না। জানতে পারবো বলে মনে হয় না। কারণ অনেক এই পরিবর্তিত উচ্চারণের নাম নিয়ে কবেই মরে গেছে।

Join the conversion now