করোনা ভাইরাসে কর্মহীন মানুষগুলো।

আসসালামু আলাইকুম,
20210801_211937.jpg
করোনার থাবায় যেনো দিশেহারা পুরো পৃথিবী, একদিকে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ,অন্যদিকে সংসারে টানাপড়োন'এই করোনা ভাইরাসে প্রকোপে নিম্ন এবং মধ্যমআয়ের মানুষ গুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে,এছাড়াও আছে করোনা ভাইরাস আর অন্যদিকে লকডাউন।

কঠোর লকডানে অসংখ্য মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে,যা ফলে অনেকটা বাধ্য হয়ে কর্মের খোঁজে ঘর থেকে বের হচ্ছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষগুলো।

সেরকমই ঘটেছে রাশেদ মিয়ার সাথে, রাশেদ মিয়া একটি প্রাইভেট স্কুলের পরিচ্ছন্ন কর্মী ছিলেন, রাশেদ মিয়ার সংসারে তিন সন্তান তার স্ত্রী সহ পাঁচ জন সদস্য, স্কুলে চাকরি থাকা অবস্থায় মাসে 6-7 হাজার টাকা বেতন পেত, সেই বেতন দিয়ে তাদের সংসার কোনমতে চলতো, তবে রাশেদ মিয়ার মুখে শুনেছি এই বেতনের টাকা দিয়ে তার ভালোই সংসার চলছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাস আসার পর রাশেদ মিয়া যে স্কুল পরিচ্ছন্ন কর্মী ছিলেন সেই স্কুলটি বন্ধ হয়ে যায়।

তখন রাশেদ মিয়ার চাকরি চলে যাওয়ায়,রাশেদ মিয়া প্রায় দিশেহারা হয়ে যায়। রাশেদ মিয়া অল্প আয়ের মানুষ তার কর্মস্থলে যে বেতনের চাকরি করতো, সেই বেতনের চাকরি দিয়ে টানাপোড়নে সংসার চলত,তার ছিল না ব্যাংক অথবা জমানো টাকা। কি করবে রাশেদ মিয়া,কিভাবে সংসার চালাবে দিশেহারা হয়ে পড়ে।

রাশেদ মিয়াকে আমি অনেক আগে থেকে চিনি,কারণ রাশেদ মিয়া যে স্কুলে পরিচ্ছন্ন কর্মী ছিলেন,সেই স্কুলে আমার মেয়ে পড়ালেখা করতো, সেই সুবাদে রাশিয়া মিয়ার সাথে আমার পরিচয়। রাশেদ মিয়া খুব সহজ-সরল একটি মানুষ, তিনি শিক্ষিত কিন্তু আমাদের চট্টগ্রাম জেলায় নতুন এসেছে,তাই এখানে যে চাকরি পেয়েছেন সেটি দিয়ে তার সংসার চালাচ্ছিলেন। আর কিবাই করবে এখন শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলে,সেই শিক্ষা যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাওয়া যাচ্ছে না।

আর রাশেদ মিয়ার বয়স হয়েছে,তাই তার শিক্ষাগত যোগ্যতাই থাকা সত্বেও চাকরি পাবে না, সেটা রাশেদ মিয়া ভালই জানতেন, তাই তিনি স্কুলে পরিচ্ছন্ন কর্মী হিসেবে যোগ দেয়। কিন্তু করোনার থাবায় সে চাকরি চলে গিয়েছে,কয়েকদিন রাশেদ মিয়া দিনমজুরের কাজ করেছিলেন তা দিয়ে তার সংসার চলছিল না। তারপরে রিক্সা চালিয়েছেন তাও তিনি করতে পারছিলেন না। তাই রাশেদ মিয়া কে জিজ্ঞেস করলাম কেন রিক্সা চালাতে পারছেন না আপনি?রাশেদ মিয়া বলে আপু রিক্সা চালাতে অনেক পরিশ্রম লাগে আমার পক্ষে তা সম্ভব নয়,

আমি জিজ্ঞেস করলাম কেন সম্ভব নয় আপনার মতো বয়সে তো অনেকেরই রিক্সা চালায়? তখন রাশেদ নিয়ে কান্না কান্না কন্ঠে উত্তর দিলেন আপু ঠিকভাবে তিন বেলা ভাত খেতে পারিনা, শরীরে এসে শক্তিটুকু নাই বাচ্চাদের নিয়ে অনেক কষ্টে আছি।

আপু পেটের ক্ষুধার জ্বালায় কারো কাছে হাত পাততে পারে না লজ্জায়, পরিশ্রম করতে পারে না শরীরে শক্তির জন্য আমরা কি করব? শুনি অনেকে করোনা মারা যাচ্ছে আমরা যদি করোনায় মারা যেতাম তাহলে আমাদের আর এত কষ্ট করতে হত না। রাশেদ মিয়ার কথা শুনে মনটা ভেঙ্গে যায় খুব কষ্ট লাগে, রাশেদ মিয়ার মতো হাজারো পরিবার এমন চাপা কষ্ট নিয়ে পৃথিবীতে বেঁচে আছে।

কিন্তুু রাশেদ মিয়া এখন আমাদের এলাকার বাজারে কিছু খাবারের জিনিস বিক্রি করে।। কোনরকমে সংসার চালাচ্ছে, ফুচকা, সিদ্ধ বুট এছাড়াও গ্রামের শাকসবজি নিজের টাকা দিয়ে কিনে,মানুষের বাড়ি বাড়ি বিক্রি করে কোনরকমে দিন পার করছে।

20210802_004939.jpg
রাশেদ মিয়ার খাবারের অস্থায়ী দোকানে মোটামুটি ভালই কাস্টমার হয়। রাসেদ মিয়াকে জিজ্ঞেস করলাম কিরকম আপনার বেচা-বিক্রি হয়? তখন রাশেদ মিয়া বলে মোটামুটি বিক্রি হয়। পুলিশে অনেক ঝামেলা করে, পুলিশের জন্য বেচাবিক্রি ভালো হয়না।ভ্যান গাড়ির উপরে খাবারের জিনিস গুলো রেখে আমি বিক্রি করি,পুলিশ ভ্যান গাড়ির চাকা পাম ছেড়ে দিয়েছে তাই অনেকদিন বেঁচে বিক্রি বন্ধ ছিল।

পুলিশের ভয়ে থাকতে হয়, মাঝেমধ্যে ওদেরকে টাকা দিলে ওরা আমাকে বেচা-বিক্র করত দেয় নাহলে দেয়না।
রাশেদ মিয়ার সাথে কথা বলতে বলতে উনার দোকানের খাবার গুলো খেয়ে দেখলাম, উনার দোকানের ফুচকা, সিদ্ধ বুট অসাধারণ স্বাদ ছিল।

ওনার সাথে কথা বলা শেষ হলে,উনাকে বলি একটু মোবাইলের দিকে তাকান আপনার একটা ছবি তুলি, তখন রাশেদ মিয়া বলে আপু ছবি তুলে লাভ কী? আমাদের তো এই দুর্দশা কখনো শেষ হবে না।

ঠিকই বলেছে রাশেদ মিয়া মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিও আয়ের মানুষগুলোর দুর্দশা কখনোই শেষ হবেনা। রাশেদ মিয়ার মত মানুষগুলো জন্য আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে তাদেরকে সহযোগিতা করা আমাদের কর্তব্য। শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থেকে আমাদের লাভ নেই,আমাদের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে তাদের জন্য।

ধন্যবাদ, সবাই ভাল থাকবেন নিরাপদে থাকবেন।

H2
H3
H4
3 columns
2 columns
1 column
Join the conversion now