RE: RE: কাব্যিক দূরত্বে সমরেশ
You are viewing a single comment's thread from:

RE: কাব্যিক দূরত্বে সমরেশ

Words
710
Reading
4 min
Listen
Play
3y

কালপুরুষ-কালবেলা-উত্তরাধিকার

we used to say Animesh was written after my youngest uncle...

Our dad's families old place was at 3C Gorcha 2nd lane, right next to old Calcutta Chemical factory walls. In the 70s my uncle and their friends used to climb that wall to escape police raid. Our Garcha home was raied so many times.........

today that house doesn't exist, that address doesn't either, so it is okay to talk about it.

Amader gorchar bari we used to say...

Long story Mou

Ekta choto lekha pelam onar, poroborti kale Desh e ba anandabazar e. Amader barite chiro kaal Desh rarkha hoto......

কিন্তু কংগ্রেসকে হারানো যায়, এটা জানার পর নকশাল আন্দোলন জোরদার হল। কিন্তু গোটা ভারতবর্ষের আশি ভাগ অংশের মানুষ আন্দোলনটা বোঝেনি, যোগও দেয়নি। পশ্চিমবঙ্গ বা অন্ধ্রের মানুষদের অনেকেই ভেবেছিল, চিন এসে তাদের উদ্ধার করবে। আর যাঁরা সত্যি বিপ্লব চেয়েছিলেন তাঁরা চারপাশে বিশ্বাসঘাতকতা দেখলেন। যে পুলিশ ব্রিটিশ আমলে অসহযোগ আন্দোলনকারীদের নির্দয় ভাবে খুন করতে পারেননি, তাঁরা সেই আক্ষেপ মিটিয়ে নিলেন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের নকশাল ছাত্রছাত্রীদের ওপর তুমুল অত্যাচার করে। তখন রোজই যুদ্ধ চলছে পেটোর সঙ্গে রাইফেলের গুলির। তখন মানুষ সকালে অফিস করছে, সন্ধের মধ্যে বাড়ি ফিরছে। যার সামর্থ্য আছে সে বাবার টাকায় বিদেশে পালাচ্ছে। ’৭০/৭১-এ প্রচুর নকশালপন্থী ছেলে বিদেশে চলে গেছে, যাদের অনেকেই দেশে ফিরতে লজ্জা পেয়েছে।

অনভিজ্ঞতা, সামরিক ট্রেনিং না থাকা এবং আধুনিক অস্ত্রের অভাব সাতষট্টি থেকে একাত্তরের আন্দোলনকারীদের পিছু হটতে বাধ্য করেছিল। বাতাসে গুজব ছড়ানো হয়েছিল, চিন নাকি আন্দোলনের পেছনে আছে। আমি এখনও এর কোনও প্রমাণ পাইনি। শুধু আবেগ সম্বল করে যুদ্ধ কেন, একটা ফুটবল ম্যাচ জেতা যায় না এটা যাঁরা ভাবেননি, তাঁদের সততা ছিল, সামর্থ্য ছিল না। নকশাল আন্দোলন শুরু হওয়ার পর দেখা গিয়েছিল মধ্য বা নিম্নবিত্ত বাড়ির মৌন সমর্থন ওরা পাচ্ছে। কিন্তু পুলিশ নয়, রাজনৈতিক দলগুলো নকশালপন্থীদের মধ্যে বেনোজল ঢুকিয়ে আন্দোলনকে সোজা হয়ে দাঁড়াতে দিল না।

‘দেশ’ পত্রিকায় ‘উত্তরাধিকার’ উপন্যাসটি ধারাবাহিক ভাবে লিখেছিলাম ১৯৭৯-’৮০ সালে। তার দশ বছর আগে নকশালপন্থী আন্দোলন শেষ হয়ে গিয়েছে। জরুরি অবস্থার পর নির্বাচন হল, বামফ্রন্ট ক্ষমতায় এল। কমিউনিস্টরা ক্ষমতায় আসবে, এ কথা ১৯৬৭ সালে বিশ্বাস করা যেত না। যদি নকশাল আন্দোলন না হত, স্বাধীনতা আন্দোলনের স্মৃতি মানুষের মন থেকে সরিয়ে দিয়ে মার্ক্সবাদী কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসত কি না তাতে সন্দেহ আছে।

‘দেশ’ পত্রিকার শ্রদ্ধেয় সম্পাদক সাগরময় ঘোষের চিঠি পেয়েছিলাম এই রকম, ‘সমরেশ, একটি ধারাবাহিক উপন্যাস শুরু করুন। অবিলম্বে।’ একটি ৩৫ বছরের যুবকের কাছে ওই চিঠি স্বপ্নের মতো। প্রথম পর্বের নাম ‘উত্তরাধিকার’। ১৯৪৭ থেকে খাদ্য আন্দোলনের পশ্চিম বাংলা ছিল পটভূমি। কী করে সাধারণ মানুষ কংগ্রেস সম্পর্কে মোহমুক্ত হচ্ছে, অথচ বিরোধীরা দলবদ্ধ হতে পারছে না, তা একটি কিশোরের চোখ দিয়ে দেখাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু জীবনে সেই প্রথম অত বড় পটভূমিতে লিখতে গিয়ে মনে হয়েছিল, আমি পারছি না। তাই অনিমেষ আন্দোলনে উত্তাল কলকাতায় পা দিয়ে পুলিশের গুলিতে আহত হওয়ার পর উপন্যাস শেষ করেছিলাম।

কিন্তু পাঠকরা দাবি করলেন, উপন্যাস ওখানে শেষ হতে পারে না। সম্পাদক দ্বিতীয় পর্ব লিখতে বললেন। স্বীকার করছি, উনিশশো ষাট থেকে গোটা পাঁচেক বাদ দিয়ে ‘কালবেলা’ শুরু করেছিলাম। অনিমেষ মার্ক্সবাদী কমিউনিস্ট পার্টি থেকে সরে এসে নকশাল আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল। সেই সময় অনেক মেধাবী ছেলে নিজের কেরিয়ারের কথা না ভেবে ভারতবর্ষে মুক্তি আনার লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। এক দল ছিল পিছনে, যারা আন্দোলন সংগঠিত করত, অন্য দল অ্যাকশনে নামত। আমার সহপাঠী শৈবাল মিত্র প্রথম দলে ছিল। আজ স্বীকার করছি, ‘কালবেলা’-র অনিমেষের চরিত্রে শৈবালের কিছুটা ছায়া পড়েছিল।

একটা কথা মনে পড়ছে, ‘উত্তরাধিকার’ প্রকাশিত হওয়ার পর যখন খুব সামান্য বিক্রি হয়েছে, প্রস্তাব এসেছিল, বিজ্ঞাপনে যদি লেখা হয় বইটি কমিউনিস্ট পার্টির সংগ্রামের পটভূমিতে লেখা হয়েছে, তা হলে দশ হাজার কপি কিনে নেবে সরকার। এক জন নতুন লেখকের কাছে এত বিক্রি হওয়া স্বপ্নের চেয়ে বেশি। কিন্তু প্রকাশক বিজ্ঞাপন দিতে রাজি হননি। বলেছিলেন, ‘এই বিজ্ঞাপন দিলে বইটির বিক্রি শেষ হয়ে যাবে।’ পরের ইতিহাস প্রকাশককেই সমর্থন করেছে। ‘কালবেলা’ বের হওয়ার পরে বামফ্রন্টের সেই মন্ত্রী যিনি ‘কালবেলা’ কিনতে চেয়েছিলেন, তিনি মুখ ঘুরিয়ে বলেছিলেন, ‘শেষ পর্যন্ত পেছন থেকে ছুরি মারলেন?’

‘কালবেলা’-র বয়স তো বত্রিশ-পঁয়ত্রিশ বছর হয়ে গেল। পঞ্চাশ বছর হল নকশাল আন্দোলনের বয়স। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে উপন্যাস লেখার কথা ভাবেন না অনেক লেখক। কারণ ভরদুপুরে নিজের ছায়া দেখা যায় না। প্রজন্মের পর প্রজন্মের পাঠক অনিমেষ-মাধবীলতা সম্পর্কে একই ভাবে আগ্রহী।

‘কালবেলা’ লেখার শেষ সময়ে এক জন মহিলার চিঠি পেয়েছিলাম। তিনি লিখেছিলেন, ‘এই বইতে বাইরের যে বিপ্লবের কথা বলা রয়েছে তার টান হয়তো এক সময় ফুরিয়ে যাবে কিন্তু ভিতরের যে বিপ্লবের কথা পড়ে শিহরিত হয়েছি তাতে বলতে পারি, বিপ্লবের আর এক নাম মাধবীলতা, যা বাঙালি মেয়েদের সম্মানিত করবে চিরকাল।’

‘কালবেলা’ অকাদেমি পেয়েছিল চুরাশিতে। আমি তার চেয়ে অনেক বড় পুরস্কার পেয়ে গিয়েছিলাম উপন্যাস শেষ হওয়ার আগেই।

@azircon: | Ecency